বাংলাদেশ, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯

লন্ডনে উন্মুক্ত হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা; সুবিধা পাবে দক্ষ বাংলাদেশিরা

প্রকাশ: ২০১৯-০১-০৬ ১৮:৫৬:২৩ || আপডেট: ২০১৯-০১-০৬ ১৮:৫৬:২৩

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

যুক্তরাজ্য সরকারের ব্রেক্সিট পরবর্তী অভিবাসন কৌশলে বাংলাদেশি পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা সুবিধা পাবে। বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে উন্মোচিত শ্বেতপত্রে এই তথ্য উঠে আসে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ ‘দক্ষতার ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যত অভিবাসন ব্যবস্থা’ শীর্ষ শ্বেতপত্রটি তুলে ধরেন। হাউস অব কমন্সে উন্মোচিত শ্বেতপত্রে বলা হয়, ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার কোনও দেশের নাম না দেখে তাদের দক্ষতা দেখা হবে।

যুক্তরাজ্যের ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আর মাত্র ১৪ সপ্তাহের কিছু বেশি সময় বাকি। ফলে তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে পার্লামেন্টের অনেক সদস্যই চিন্তিত। মে’র দাবি, ব্রেক্সিট চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। গত সপ্তাহে ইইউ সম্মেলনে গিয়ে তিনি নতুন করে আশ্বাস এবং নিশ্চয়তা পেয়েছেন। সেখানে বলা হয়, দক্ষ অভিবাসীরা যেকোনও দেশ থেকেই পড়াশোনা কিংবা চাকরির সুযোগ পাবেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে এই প্রস্তাবনা কার্যকর হবে। সেসময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে পুরোপুরি বের হয়ে যাবে ব্রিটেন। ইউরোপের অন্যান্য দেশের নাগরিকেদের ব্রিটেনে যাওয়া তখন কঠিন হয়ে যাবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, আমরা ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে সেখানকার নাগরিকরা ‍ফ্রি ভিসা সুবিধা পাবেন না। এতে করে আমরা দক্ষতার দিকে নজর দিতে পারবো। তখন আর তারা কোন দেশ থেকে এসেছে সেটা ভাবতে হবে না। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রতিবছর ২০ হাজার ৭০০ দক্ষ অভিবাসী নেওয়া হবে।এতে করে বাংলদেশের ডাক্তার,প্রকৌশলীসহ অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবীরা ব্রিটেনে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।এছাড়া যেই মালিকরা খন্ডকালীন পেশাজীবী নেওয়া আবেদন করবেন তাদের জন্য ১২ মাসের ভিসা সুবিধাও থাকবে।লেবার মার্কেট পরীক্ষা ও স্পন্সরের বিষয়টাতেও পরিবর্তন আসছে।

এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ইন্ডাস্ট্রিই এক্ষেত্রে সবচেয়ে লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে দক্ষ রাধুনি নেওয়ার ব্যাপারে দাবি জানিয়ে আসছিলো। যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে বর্তমান প্রস্তাবকে আরও আকর্ষণীয় করা হবে। যারা পড়াশোনা কিংবা চাকরি শেষ করেও ব্রিটেনে থাকতে চান তাদের সবার জন্যই এটা প্রযোজ্য হবে। তাদের সময় দেওয়া হবে যেন সেই তারা স্থায়ী চাকরি খুঁজে নেয় এবং সেই সময়টাতে অস্থায়ী চাকরিও করতে পারে।

শ্বেতপত্রে বলা হয়, আমরা স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী যারা ব্রিটেনে পড়াশোনা করছেন তারাও দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে আবেদন করতে হবে। যুক্তরাজ্যের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা স্নাতকের পর ‍দুই বছরের জন্য আবেদন করতে পারবে। বৃহস্পতিবার ইমিগ্রশেন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি কোঅরডিনেশন বিলটি প্রকাশ হওয়ার কথা।  এতে করে ইইউ নাগরিকদের মুক্ত চলাচল সুবিধা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাধারা/নিহা/মিমি/বোউ

ট্যাগ :