বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯

মনোবল আর একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করলে সফল হওয়া সম্ভব; অসীম কুমার দাশ

প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৪ ১৪:৫৮:২০ || আপডেট: ২০১৯-০১-২৪ ১৪:৫৮:২১


শাহ আলম বাবু

দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণ সমাজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। আত্ববিশ্বাস নিয়ে কাজ করলে যেকোনো কাজে সফল হওয়া যায়। তবে স্বপ্ন দেখতে হবে। আমাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারব। মনোবল নিয়ে একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করলে সফল হওয়া সম্ভব। তরুণদের দক্ষ হাতেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। যুবসমাজের ভবিষ্যতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জড়িত।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রেষ্ট দিয়ে বরণ করছেন সিটি মেয়র। ছবি: বাংলাধারা

তরুণরা এগিয়ে না গেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে না। এ ক্ষেত্রে জেসিআই তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। জেসিআই অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করে যাবে।

এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে যাচ্ছিলেন জেসিআই (জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল) চিটাগাং কসমোপলিটনের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট অসীম কুমার দাশ। গত ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের র‌্যাডিসন হোটেলে জেসিআই চিটাগাং কসমোপলিটনের ২০১৯ সালের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব নেন তিনি। নির্বাচিত হবার পর গত বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) তিনি ‘বাংলাধারা’কে প্রথম সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ‘বাংলাধারা’র নিজস্ব প্রতিবেদক শাহআলম বাবু

বাংলাধারা : কেমন লাগছে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তরুণদের এতো বড় একটি সংগঠনের দায়িত্ব নিয়ে ?

অসীম কুমার দাশ : খুবই ভাল লাগছে। আরো ভালো লাগবে তখন, যখন আমি আমার দায়িত্বটা সঠিক পথে কাজে লাগাতে পারবো। তবে আমি আমার চেষ্টার বাইরেও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চাইব। আমি মনে করি সংগঠন কে শক্তিশালী করতে বয়স নয়, যোগ্যতাই যথেষ্ট।

বাংলাধারা : সমাজ কর্মে আপনি কখন থেকে জড়িত?

অসীম কুমার দাশ : প্রশংসা কুড়ানোর জন্য নয়, মন থেকে অনুভব করার জন্যই সামাজিক কাজে জড়িত হই। বলতে গেলে বাবার অনুপ্রাণিত করে বেশি। বাবার সংস্পর্শে এসে ছোটবেলা থেকে নিজেকে জড়িত রেখেছি সামাজিক কর্মকান্ডে যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাধারা : উন্নয়নমূলক কিছু কাজের কথা বিস্তারিত বলুন….

অসীম কুমার দাশ : আমি আমার ছয়টি প্রতিষ্ঠানে (দেশে ও দেশের বাইরে) বর্তমানে শতাধিক মানুষ কর্মরত আছে। এছাড়া আমি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে জড়িত করি। জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল চিটাগাং কসমপলিটনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়বদ্ধতা আরো বেড়ে গেল। আমি তরুণ উদোক্তাদের বিভিন্ন কাজে উৎসাহ ও সহযোগিতা করতে পারবো বলে আশা করছি।

আমি জেসিআইয়ের পূর্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার পাশাপাশি আর্থিকভাবে যারা অসচ্ছল তাদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে আলোকিত জীবন গঠন করতে সরকারের সাথে মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবো। এছাড়াও রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, বন্যার্তদের সাহায্য প্রদান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সমাজসচেতনতামূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখব।

বাংলাধারা : দেশের সেবায় ও সমাজ পরিবর্তনে তরুণরা কী ভূমিকা রাখতে পারে?

সিম কুমার দাশ

অসীম কুমার দাশ : সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যান ও সুষ্ট সমাজ গঠনে সফলতার চূড়ায় পৌঁছাতে তরুণদের ভূমিকা থাকে সবচেয়ে বেশী। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তরুণরাই থাকে চালকের আসনে। তরুণ সমাজের বিরুদ্ধে একটা অপবাদ রটেছে। আজকের তরুণ-তরুণীরা নাকি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে ! না আমাদের তরুণরা আত্মকেন্দ্রিক নয়। তারা হয়তো নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে প্রযুক্তি ও ক্যারিয়ারের মধ্যে। সেটাও পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের স্বার্থে।

কিন্তু দেশের যে কোন দুর্যোগে কিংবা কোন সমস্যায় এখনো এগিয়ে আসার মানসিকতা রয়েছে আমাদের তরুন সমাজের। মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান, সর্বাধিক কর্মক্ষম সময়টিই তারুণ্য। হাজার বছর ধরে বাঁচতে পারে শুধু তারুণ্যের কর্মময় স্বপ্ন, পৃথিবীকে সুন্দর করে সাজানোর স্বপ্ন।

আমাদের মনে রাখতে হবে বিশ্বাসের সাথে কর্মের সম্পর্ক ঘনিষ্ট। নৈতিকতাবোধে উজ্জীবিত পবিত্র বিশ্বাস জাগাতে হবে। সুষ্ঠু সামাজিকনীতি প্রণয়ন করে পরিকল্পিতভাবে আমাদের আর্থ-সামাজিক কাঠামোকে উন্নত করতে হবে। জ্ঞানকে পরিপূর্ণ করার চেষ্টা চালাতে হবে। বাংলাদেশে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ে সৃষ্ট সংকটের নিরসন হলে, তরুণরা গঠনমূলক ও সৃজনশীল কাজে এগিয়ে আসলে জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বে মাঁথা উচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবো।

বাংলাধারা : তরুণদের উদ্দেশে আপনার বক্তব্য….

অসীম কুমার দাশ : একটি দেশের সামগ্রিক উন্নতির জন্য যে কয়েকটি বিষয় অন্যতম নিয়ামকের কাজ করে তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো দেশটির তরুণ সমাজ। আমি মনে করি জেসিআই’র মত একটি সংগঠন সমগ্র বাংলাদেশেই ছড়িয়ে পড়া উচিত, কেননা এই বিশাল জনসংখ্যার চাপ কখনো সরকারের একার পক্ষে সামলানো সম্ভব না, এ ধরণের সংগঠনগুলোর মাধ্যমে যদি আমাদের দেশের তরুণরা দেশ গঠনে এগিয়ে আসে, তবেই সম্ভব একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জেসিআই’র স্বপ্ন ছড়িয়ে যাক গোটা বাংলাদেশে। মাদক রোধে তরুণ প্রজন্ম কী ভূমিকা রাখতে পারে?

দায়িত্ব গ্রহণের পর মেয়রের সাথে একান্ত সময়ে নব প্রেসিডেন্ট।

অসীম কুমার দাশ : মানবসভ্যতার আদিকাল থেকেই মাদক-ব্যবহারের প্রচলন ছিল। কিন্তু সেটি ছিল সীমিত আকারে। এখন এর ব্যাপ্তি সমাজের সর্বস্তরে। মাদকসেবীদের একটি বড় অংশ বয়সে তরুণ যাদের উপর দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। তাই তরুণ প্রজন্মকে এখনই মাদকব্যবহারের ধ্বংসাত্বক প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে সমগ্র দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার কোনও বিকল্প নেই।

তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে হলে তাদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকান্ড ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ রাখা প্রয়োজন। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মিডিয়াকে এ ব্যাপারে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। জেসিআই সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করবে।

বাংলাধারা : পরিশেষে আপনি আমাদেরকে মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

অসীম কুমার দাশ : বাংলাধারা পরিবারকেও ধন্যবাদ।

বাংলাধারা/ এনসি/এসএবি/বিইউ