বাংলাদেশ, বুধবার, ২৭ মে ২০২০

আপাতত প্রাচীন বাংলার গান নিয়ে ভাবছি : রিংকু

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৭ ১৯:১১:১৩ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৭ ১৯:১১:২০

মিজানুর রহমান ইউসুফ »

মশিউর রহমান রিংকু, জনপ্রিয় তরুণ লোকগীতি শিল্পী। কথা বলতে শেখার সাথে সাথেই আগ্রহ তৈরি হয় লোক গানে। লোকগীতিতে আধুনিক যন্ত্র সংযোজন করে অনেক সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তিনি মনে করেন গানের মৌলিকতা ঠিক রেখে আধুনিকায়ন করাটা সময়োপযোগী কাজ।

২০০৫ সালে একটি ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে পরিচিতি পান শিল্পী রিংকু। লোক গানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকগান সংগ্রহ করেছেন, এবং সেগুলাকে ঢেলে সাজাতে ‘আদি‘ নামে একটি ব্যান্ডও গঠন করেছেন।

তিনি এখন পর্যনত ৪০ টি এ্যালবাম ও পাঁচ ‘শ‘টির বেশী গান গেয়েছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফরে এসে বাংলাধারা ডটকমের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী রিংকু বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

সাক্ষৎকার নিয়েছেন বাংলাধারার প্রধান প্রতিবেদক মিজানুর রহমান ইউসুফ।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: আপনার শিল্পী হয়ে ওঠার গল্পটা বাংলাদেশে সকলেরই কম বেশি জানা, আপনি ক্লোজআপ ওয়ান থেকে অনেক বেশি পরিচিত পান। আমাদেরকে বিস্তারিতটা বলবেন?
রিংকু: ছয়- সাত বছর বয়সে থেকে আমি জাতীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করি। আমার জাতীয় স্বর্ণ পদক সহ ততোধিক পুরষ্কার আছে। সর্বশেষ ক্লোজ আপ ওয়ানের মাধ্যমে সবার সামনে আসি।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: আপনি ছোটবেলা থেকে কি লোকগীতি করতেন না অন্য কোন গান করতেন?
রিংকু: আমি চার বছর বয়স থেকে গান শুরু করি। আর তখন থেকেই লোকগীতি গান করতাম। আমার পরিবার ছিল আমার গানের পরিমন্ডল। আমার মা, আপু মামারা সবাই গান করতেন। আমার ওস্তাদ হিসেব প্রথম গান শেখা ছোট মামার কাছ থেকে। পরিবারের সবাই লোক গানের প্রতি দূর্বল।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: লোকগীতি গেয়ে সারা দেশের মানুষের মন জয় করেছেন এটা ভাবতে কেমন লাগে?
রিংকু: এটা স্বাভাবিক একটা বিষয়, বাংলাদেশের মানুষ বাংলা গান বলতে লোকগীতিকেই বুঝবে। আর এটাই হওয়া উচিত।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: আপনার গাওয়া গান যখন বাইরে আপনি নিজে শোনেন তখন কেমন লাগে আপনার?
রিংকু: আসলে নিজের গান বাইরে শুনলে আমার মন ভরে না। তখন মনে হয় গানে আরও কিছু দেওয়ার ছিল।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: আপনি যদি শিল্পী না হতেন, তাহলে কি অন্য কিছু হওয়ার পরিকল্পনা ছিল?
রিংকু: আমি ছোটবেলা থেকে পড়ালখায় ভাল ছিলাম। আমার মা স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করেন তিনি চাইতেন আমি ডাক্তার হবো কিন্তু তা হতে পারি নি। ফুটবলার হতে পারতাম তাও হয়নি, রাজনীতি করলে ভাল জায়গায় যেতে পারতাম তাও করিনি। আমি শুধু আমার গান নিয়ে ছিলাম তাই গায়ক হয়েছি।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: লোকগীতির বাইরে আপাতত কিছু করার চিন্তা আছে আপনার? রিংকু: লোকগীতিতে যত ধারা আছে, কোন মানুষ একশত বছর বাঁচলেও তার একটা ক্ষুদ্রাংশ গেয়ে শেষ করতে পারবে না, বলে আমি মনে করি। এটা অনেক সমৃদ্ধ একটা জায়গা যেখানে ইচ্ছা ও স্বাধীনভাবে কাজ করা যায়।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: বাংলাদেশে এখন অডিও ইন্ডাস্ট্রিটা ডিজিটাল মিডিয়া বেইজ হয়ে গেছে। আগের যে অডিও ইন্ডাস্ট্রি তা এখন আর নেই এ সম্পর্কে আপনি কি বলবেন? রিংকু: বাংলাদেশের মানুষ অনেক শিক্ষিত ও ইন্টারনেট সম্পকে বেশি জ্ঞানী হয়ে গেছে। আমি আমেরিকা, ভারত সহ প্রায় ৩৫ টা দেশে গেছি কোথাও এ্যালবাম বের হওয়া বন্ধ হতে দেখিনি। আমরা তথ্য প্রযুক্তিতে এতোটাই এগিয়ে গেছি যার কারণে আমাদের দেশে এ্যালবাম বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: এখানে আপনার আক্ষেপের কোন বিষয় আছে কি?
রিংকু: অবশ্যই আক্ষেপের বিষয় আছে। শিল্পীকে পরিচিত করে একটা এ্যালবাম এটি হলো শিল্প ও সংস্কৃতির একটা ধারা । একটা প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তার একটা এ্যালবাম, সেই এ্যালবাম করার যেহেতু সুযোগ নাই তাহলে শিল্পী জন্ম নিবে কিভাবে ।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: আপনার নতুন কোন অডিও এ্যালবাম বের হবে কি না?
রিংকু: চার-পাঁচটা নতুন অডিও এ্যালবাম তৈরি হয়ে আছে। সেগুলো কোথায়, কিভাবে রিলিজ করবো সেটাই ভাবছি। আমার ষ্টুডিও করার অন্যতম উদ্যেশ্য ছিল বেশি বেশি গান করা। আমার যখন মন চাইবে তখন গিয়ে গান করবো বিষয়টা এমন ছিল। এখন শুধু আমার না সবারই উপকার হচ্ছে।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: এখনতো ভিডিও গানগুলি খুবই জনপ্রিয় এ বিষয়ে কিছু বলেন …
রিংকু: আসলে ভিডিওর দিকে বেশি মনোযোগ ছিলাম না। এখন গান শোনার চেয়ে দেখার বিষয়টা বেশি। আমি আমার কোম্পানি থেকে আমার এবং অন্যন্য শিল্পীদের গানের ভিডিও করছি, যেটা আমার ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে। আমার ইউটিউব চ্যানেলে নাম রিংকু এন্ড সম্পর্ক।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: এ পর্যন্ত আপনার গানের সংখ্যা কত?
রিংকু: এ পর্যন্ত আপনার গানের সংখ্যা প্রায় পাঁচ ‘শ‘ এবং অডিও এ্যালবাম আছে চল্লিশ টির মতো।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: এর ভিতরে আপনাকে পাঁচটি গান বের করতে বললে আপনি কোন গুলি নিবেন?
রিংকু: আসলে সব গানই ভাল লাগে তার ভিতরে লালন শাহের এসব দেখি কানার হাটবাজার দিয়ে আমার জনপ্রিয়তা শুরু। আমার প্রথম এ্যালবামের গান ছিল নারী হয় লজ্জাতে লাল, পরাণ পাখি, ভুল বুঝে চলে যাও, পরমানুষে দূঃখ দিলে সহ আরও অনেক গান আছে।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: আপনার গানে অনেক বার্তা থাকে , আপনি গান দিয়ে কি অবদান রাখতে চান?
রিংকু: এখনও দেশের জন্য অবদান রাখার মতো আমার কোন পরিস্থিতি তৈরি হয় নাই। আর দেশের এমন পরিবেশ নাই যে গান গেয়ে দৈন্যতা পরিবর্তন করবো। যদি দেশের সবকিছু ভাল থাকতো তাহলে আমার গান দিয়ে কিছু করতাম।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: এখন নতুন কোন গান করছেন কি না?
রিংকু: প্রতিবছরই দুই চারটা নতুন মৌলিক গান আসে। আমি যেহেতু লোকসঙ্গীত শিল্পী তাই এই গান নতুন করে আসার বিষয় নেই এই গান তো এসেই গেছে। যুগের পর যুগ যে গানগুলো মানুষের মাঝে বেঁচে আছে, সে গানের ধারা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, তাই এই গান গুলো পরিচর্যা করা উচিত। তাই আপাতত প্রাচীন বাংলার গান নিয়ে ভাবছি।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: ভবিষ্যৎ কোন পরিকল্পনা আছে কি আপনার?
রিংকু: আমার একটি অডিও ভিডিও কোম্পানি আছে সেখনে প্রজেক্ট চলছে। আর আমার একটা ষ্টুডিও আছে, যেখানে লোকগীতি যেভাবে লাইভ মিউজিকের সাথে করা উচিত সেভাবে করা যায়। আমি নিজেই শুধু গাই না, আমার সমসাময়িক যারা আছে সবাইকে দিয়ে গাওয়াচ্ছি। ইউটিউব চ্যানেল সহ আধুনিক সব যন্ত্রপাতির সকল সুযোগ সুবিধা আছে।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: ভবিষ্যৎতে রাজনীতিতে যাওয়ার কোন পরিকল্পনা আছে কি আপনার?
রিংকু: যদি কখনও দেশের পেক্ষাপট পরিবর্তন হয় তাহলে চিন্তা করে দেখতে পারি। তবে বর্তমানে দেশের যে রাজনৈতিক পরিবেশ এই অবস্থায় আমি রাজনীতিতে আসতে চাই না।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: বাংলাদেশে আপনার সবচেয়ে প্রিয় শিল্পী কে বলেন?
রিংকু: বাংলাদেশে অবশ্য বেশ কয়েকজন আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বারী সিদ্দিকী, কিরণ চন্দ্র রায়, ফরিদা পারভিন, দিলরুবা খান। পারটিকুলার ভাবে একজন ছিল যিনি আমাদের মাঝে নেই, তিনি হলেন খালেদ হাসান মিলু। যদিও তিনি বাংলা আধুনিক গান করতেন তারপরও কেন জানি না তার সব গান আমার খুব ভাল লাগতো।

বাংলাধারা প্রতিবেদক: বাংলাধারা ষ্টুডিওতে আসার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমরা আপনার আরও সাফল্য কামনা করে শেষ করছি আজকের অুনষ্ঠান।
রিংকু: বাংলাধারা পরিবারকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।


ট্যাগ :