বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯

থিয়েটারের মানুষের মূল্যায়নে জরুরী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা; নাট্যশিল্পী আশরাফা হোসাইন

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১০ ১৪:২৫:০৭ || আপডেট: ২০১৯-০৩-১০ ১৪:২৭:২২

আশরাফা হোসাইন, চট্টগ্রামের থিয়েটার জগতের বেশ পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটা নাম। তিনি বেশ অনেকদিন ধরেই সুনামের সাথে অভিনয় করছেন। অভিনয়ের পাশপাশি তিনি উপস্থাপনা, নাচ এবং ফ্যাশন শোও করেছেন । সম্প্রতি বাংলাধারার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি তার জীবন এবং অভিনয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন । সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কাজী তানজিনা হোসেন ।

বাংলাধারা : কেমন আছেন ? দিনকাল কেমন কাটছে ?
আশরাফা হোসাইন : আলহামদুলিল্লাহ । মানুষ এই সময়ে এতটা ব্যস্ত যে নিজের জন্য সময় বের করা কস্ট । তারপরও চেষ্টা করি নিজের জন্য সময় বের করে নিজেকে ভালো রাখতে। কারণ আমি বিশ্বাস করি আমি নিজেকে ভালো রাখলে দশজনকে ভালো রাখতে পারবো । আমি একটু সৃষ্টিশীল, একটু ক্রিয়েটিভ টাইপের মানুষ ঐদিকে আমার ঝোঁকটা বেশী ।

বাংলাধারা : অভিনয় জীবনের শুরুটা কখন খেকে শুরু?
আশরাফা হোসাইন : আমার অভিনয়ের ইচ্ছেটা ছিলো সুপ্ত । এখানে একটু আমার ছোটবেলায় ফিরে যেতে হচ্ছে। ছোটবেলা থেকে আমার নাচের প্রতি আগ্রহ ছিলো । কিন্তু নাচের প্রশিক্ষণ নিয়ে নাচ করিনি । ছোটবেলায় নতুন কুড়ি দেখে দেখে নাচের মুদ্রা শিখতাম। যখন স্কুলে গেলাম তখন বিভিন্ন প্রোগ্রাম হতো সেখানে আমি নাচে অংশগ্রহণ করেছি । কখনো দলীয় ভাবে কখনো একক ভাবে অংশগ্রহণ করেছি । এভাবেই প্রতিযোগীতায় নামলাম এবং কিছু সনদও পেলাম । বাসা থেকে কড়াকড়ি ছিলো তাই নাচটা শেখা হয়নি ।

কিন্তু ঐ বয়সে আমার ইচ্ছেটা বিভিন্ন দিকে প্রসারিত হয় সেভাবেই আমার একসময় সংবাদ পাঠিকা হওয়ার ইচ্ছে হয় সে ইচ্ছে থেকে উচ্চারণ ঠিক করার জন্য আমি শব্দনোঙরে যাই। সেখানে শ্রদ্ধেয় হাসান জাহাঙ্গীর ভাই ও দিলরুবা খানম ছিলেন । এটা ২০০৯ এর ঘটনা সেখানে দুই থেকে তিনবছর প্রশিক্ষন নেই এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি । নিজের ব্যক্তিগত কারণে কয়েকবছর কাজ থেকে দূরে থাকি । এরপর আমি আমার ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে জানাই আমার সংস্কৃতি অঙ্গনে কাজ করার ইচ্ছে, সেক্ষেত্রে আমাকে ফেইমে নিয়ে যাই সেখানে শ্রদ্ধেয় অসীম স্যার এর কাছে যাই । আসলে আমি সেখানে যাই স্যারে এর স্ত্রী তিলোত্তমা সেন গুপ্তের কাছে তালিম নেওয়ার জন্য। ওখানে গিয়ে অভিনয় দেখে প্রভাবিত হই । অসীম স্যারের মঞ্চায়ন ,লাইটিং, নির্দেশনা দেখে ভালো লাগা থেকে ২০১৫ থেকে এখনো অভিনয় নিয়ে আছি ।

বাংলাধারা : অভিনয়ের ব্যস্ততা কেমন ?
আশরাফা হোসাইন : ব্যক্তিগত কারণে ব্যস্ততা একটু কম । ব্যক্তিগত কারন বলতে পারিবারিকভাবে শুভকাজের প্রসেসিং চলছে।এইবার আমার ন্যাশনাল স্কূল অব ড্রামা তে যাওয়ার কথা ছিলো। গতবছর ন্যাশনাল স্কূল অব ড্রামা আমাদের ডেকেছিলো ওখানে আমরা ক্যালিগুলা নিয়ে অংশগ্রহণ করেছিলাম এবং পাটনাতে প্রদর্শিত হয়। ন্যাশনাল স্কূল অব ড্রামা কে আমি সিরিয়াসলি দেখি এটা খুব বড় একটা জায়গা এবং বিখ্যাত একটা জায়গা।ওখানে সুযোগ পাওয়াটা আমার কাছে অনেক ভাগ্যের।

স্যারকে আমি বলেছি আমি চাই আমার নাটকটা আগে পারফেক্ট হোক। বিয়েটাও একটা জীবনের বড় একটা অংশ। এটা এমন নাযে ঢাকার একটা প্রোগ্রাম, এটা আন্তর্জাতিক মানের একটা প্রোগ্রাম। তাই এবার ন্যাশনাল স্কূল অব ড্রামা তে যাওয়া অফ রাখি। তাই বলে এমন না যে সামনে যাবোনা। আমাদের কিন্তু নিয়নিত প্রোডাকশন হয় এবং প্রতিমাসে মাসে আমরা নাটক প্রেজেন্ট করে থাকি দর্শকদের কাছে। ফেইম দ্যা স্কুল অব ডান্স ও ড্রামা এন্ড মিউজিক এবং বৃন্দবিকাশ থিয়েটারের কাজতো প্রতিসপ্তাহে কিছুনা কিছু করছি । এই নিয়েই ব্যস্ততা।

বাংলাধারা : অভিনয়ে আপনার অনুপ্রেরণা কে ?
আশরাফা হোসাইন : প্রথমে বলতে হয় আমার ছোট খালামণির কথা যিন এস. এম. সোলায়মান গ্রুপে থিয়েটার করতেন , তারপর আমার মা । এছাড়াও আছেন গুরু অসীম দাশ । তিনি আমার জীবনে পাওয়া একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ।

বাংলাধারা : কোথায় এবং কি কি নাটকে অভিনয় করেছেন ?
আশরাফা হোসাইন : গুরু অসীম দাশ এর নির্দেশনায় কাজ করেছি আলবার্ট কামু- ক্যালিগুলা । সক্রেটিসের ইডিপাস, ইডিপাস এড কলোনাস ,আন্তিগোনে । ইউজিন আয়োনেস্কোর রিনোসোরাস/ গন্ডার । আলর্ক কামু লে জুস্ত ।

আশিকুর রহমানের নির্দেশনায় পথনাটক, বাংলাদেশ টিভিতে “ স্বপ্নের বাংলাদেশে ”বীরাঙ্গনা চরিত্রে অভিনয় করেছি । ২০১৮ সালে ৮ম অলিম্পিক ফেস্টিভ্যালে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামাতে ফেইম প্রোডাকশন যায় ক্যানিওলা যা পাটনাতে মঞ্চায়িত হয় ।

বাংলাধারা : আপনার প্রিয় অভিনেতা / অভিনেত্রী কারা ?
আশরাফা হোসাইন : মঞ্চে ফেরদৌসি মজুমদার ,প্রয়াত হুমায়ূন ফরিদী । চট্টগ্রামে আছেন মুবিদুল রহমান সুজাত এবং পলি চৌধুরী ববি।

বাংলাধারা : থিয়েটারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আপনার মতামত ?
আশরাফা হোসাইন : থিয়েটারের বর্তমান অবস্থা মানে, আমার খুব কস্ট লাগে।একটা মানুষ তার জব থেকে বিজনেস থেকে এসে সানন্দে থিয়েটারে তার কাজ করতে যাচ্ছে। কোন কোনও ভাবে আমি এটাও দেখেছি আসলে আমরা মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত ক্লাস থেকে আসি।

প্রথমত মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরী। কারণ আমাদের থিয়েটারের মানুষের মূল্যায়নে জরুরী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা। আমরাতো সাধারন মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করছি। নাটকে সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতিফলন ঘটাচ্ছি। এদিকে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া জরুরী। যখন আমি দিল্লী বা পাটনা গিয়েছি তখন ওদের অনেক নাটক দেখেছি এবং ওরা কতটা ডেডিকেটেড বুঝতে পেরেছি । কারণ তারা সরকার থেকে পৃষ্ঠপোষকতা পায় ।

বাংলাধারা: বর্তমানে কি নিয়ে কাজ করছেন?
আশরাফা হোসাইন : বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লাস্ট যেকাজ গুলো আছে সেগুলো নিয়ে উৎসব হবে। প্রতিমাসে মাসে যে নাটকগুলো ওগুলো আমরা আবার উপস্থাপন করছি। আর রিসেন্টলি আমি উপস্থাপনার প্রস্তাব পেয়েছি ওটা এখনো সিউর হয়নি বিধায় এখনো নাম বলছিনা।

বাংলাধারা : ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি ?
আশরাফা হোসাইন : ভবিষ্যত পরিকল্পনা হচ্ছে আমার নিজের একটা প্রতিষ্ঠান আছে সেটার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যতটুকু পারি আন্তরিক হয়ে কাজ করে যাওয়া। ধন্যবাদ আপনাকে ।

বাংলাধারা/এনএস/এনএম/কেটি/বি

ট্যাগ :