বাংলাদেশ, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

বহুমুখী প্রতিভার দ্যুতি ছড়াচ্ছে ঈশায়া

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-০১ ১৬:১৩:০৭ || আপডেট: ২০১৯-০৪-০১ ১৬:৩৬:৩০

মিজানুর রহমান ইউসুফ »

মেহেদি লাগানোকে প্রথমে সখ হিসেবে নিলেও, পরবর্তীতে এর মাধ্যমে পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। ২০১৬ সালে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘Ntv’ তে প্রচারিত মেহেদি লাগানোর প্রতিযোগিতায় ৫ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ প্রতিযোগী হিসেবে সেরা ১৫ তে জায়গা করে নেয়। প্রতিযোগিতার গ্রান্ডফিনালেতে চট্টগ্রামের প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম ও বাংলাদেশের মধ্যে চতুর্থ স্থান অধিকার করে।

এরপর পাখা মেলতে শুরু করে ঈশায়ার প্রতিভা। একে একে কাজ করে মেকআপ আর্টিস্ট, ফ্যাশন শো‘র র‌্যাম্প মডেল, শো স্টপার ও মিউজিক ভিডিও‘র মডেল হিসেবে।

বেসরকারি চাকরিজীবী বাবা ও সাবেক শিক্ষিকা মায়ের প্রথম সন্তান ঈশায়া তাহসিন বাবা-মায়ের অনুপ্রেণায় এগিয়ে যেতে চায় বহুদুর।

বাংলাধারাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন ঈশায়া তাহসিন নামের বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সন্মান ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত এক বিষ্ময় তরুণী।

বাংলাধারা: কেমন আছেন আপনি?  

ঈশায়া তাহসিন: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

বাংলাধারা: আমরা যতদুর জানি আপনি একাধারে একজন মেহেদি আর্টিস্ট, মেকআপ আর্টিস্ট ও মডেল, তো মেহেদি আর্টিস্ট হবার পেছনে আপনার অনুপ্রেরণাটা কি?  

ইয়েস কার্ড হাতে ঈশায়া

ঈশায়া  তাহসিন: মূলত সখ থেকেই আমার মেহেদি আর্টিস্ট হওয়া। ভালো লাগতো মেহেদি লাগাতে। আস্তে আস্তে নিজের হাতে, পরিবারের সদস্যদের হাতে, পরে বন্ধু-বান্ধবের হাতে মেহেদি লোগানোর ট্রাই করতে থাকি। তারপর ২০১৬ সালের দিকে একদিন হঠাৎ করে এনটিভিতে দেখি মেহেদি লাগানোর প্রতিযোগিতা হচ্ছে। তখন এপ্লাই করার পর আমার অডিশন হলো চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে। সেখান থেকে ইয়েসকার্ড পাই ঢাকায় যাওয়ার জন্য। পরবর্তীতে ঢাকায় গিয়ে সিলেকশান রাউন্ড হয়। এতে ৫ হাজার প্রতিযোগির মধ্যে পনেরজন সিলেক্ট হয়। সিলেকশানের পর গ্রান্ডফিনালে হয় এফডিসিতে। সেখানে জাজ ছিলেন শারমিন লাকি, ফেরদৌস আরা, চারুকলার প্রধান অধ্যক্ষের মতো সুবিখ্যাত ব্যক্তিরা। বিভিন্ন তারকাদের উপস্থিতিতে আমি চট্টগ্রামের প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম ও বাংলাদেশের মধ্যে চতুর্থ হই।

বাংলাধারা: এটা তো সখের ভিতরে দিয়ে শুরু হয়ে আপনাকে একটা প্লাটফর্মে দাঁড় করিয়েছে, পরবর্তীতে আপনি এটাকে এগিয়ে নিতে কি ধরণের কাজ করেছেন?

ঈশায়া  তাহসিন: ২০১৬ সালে আমি প্রথম পেইজ খুলে এটাকে প্রফেশনালী শুরু করলাম। এরপর থেকে আমার কাজ অনেকেরই ভালো লাগতে শুরু করে। মেহেদির সাথে সাথে যোগ হয়েছে র‌্যাম্প, ফটোশ্যুটের কাজ। কোন একটা অফার আসলেই আমার পথ চলা শুরু হয়। যেমন র‌্যাম্প মডেলিং অফারটি আসার পরে আমি এর দিকে আগাই।

বাংলাধারা: একসময় বাংলাদেশে মেহেদি লাগানোটা ঘরোয়া পর্যায়ে ছিল। এখন সেটা একটা আর্টে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রামের মতো একটা ছোট শহরে আপনার এই শিল্পের চাহিদা কেমন?

ঈশায়া  তাহসিন: শুরুর দিকদিয়ে এর চাহিদা কম থাকলেও এখন অনেক বেশী। এখনতো সব উৎসবে আধুনিক ডিজাইনের মেহেদি না পরালে কিছু একটার কমতি থাকে। যার জন্য অনেক আগ্রহ দেখতে পাই এটির প্রতি।

বাংলাধারা: এ প্রফেশনে কেউ আসতে চাইলেই কি পরামর্শ দিবেন আপনি?

ঈশায়া  তাহসিন: মেহেদী আর্টকে প্রফেশনালী নিলে অবশ্যই ভালো। কিন্তু এতে আসতে হলে অনুশীলনটা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মেহেদী তো তাড়াহুড়া করে লাগানো যায় না। আর একটা মানুষকে মেহেদি লাগাতে তো আর আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখতে পারবেন না। শিক্ষার্থী, গৃহিণী, এবং বেকার মহিলারা পার্টটাইম কাজটি করতে পারে।

বাংলাধারা: আচ্ছা একটা হাতে মেহেদির ডিজাইন করতে কতো সময় লাগে এবং এর জন্য কত টাকা নেওয়া হয়?

ঈশায়া তাহসিন: একটা হতে মেহেদির ডিজাইন করতে মোটামুটি ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। আর এর জন্য আমরা তিন’শ থেকে চার’ শ টাকা নিয়ে থাকি। এটা মূলত ডিজাইনের উপর নির্ভর করে থাকে।

বাংলাধারা: মেহেদির ডিজাইন শেখানোর জন্য বাংলাদেশে কোথাও কোন ট্রেনিং ইনিস্টিউট আছে?

ঈশায়া তাহসিন: মেহেদি নিয়ে যেহেতু আমি আগে অনেক রিসার্চ করেছি, তাই জানি যে ঢাকায় সংখ নামে একটা এসোসিয়েশন আছে যেখানে এটা শেখায়। আমি একবার ভাবছিলাম ঢাকায় গিয়ে উনাদের ট্রেনিংটা নিব।

বাংলাধারা: এখন তো আপনি অনেকটাই দক্ষ একটা ইনিস্টিউট খুলতে পারেন, তো করছেন না কেন?

ঈশায়া তাহসিন: আসলেই অনেকেই বলে আমাকে একটা কোর্স করান। আমি সাহস পাচ্ছিনা, তবে ভাবছি যে এটা শুরু করবো

বাংলাধারা/এনএস/এমআর/বি