বাংলাদেশ, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯

চবি ক্যাম্পাসে হঠাৎ কেন থেমে গেল জোবাইকের চাকা?

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৪ ১৫:২২:৩২ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৪ ১৫:২২:৪০

ইমাম ইমু, চবি » 

‘জোবাইক’, মুঠোফোন ভিত্তিক অ্যাপ দিয়েই যার ব্যবহার। এ জোবাইক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন হলেও এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর আবেগকে জড়ো করেছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শিক্ষার্থীরা ক্লাস, আড্ডা-গান, ল্যাব, পড়াশোনা কিংবা পরীক্ষার মাঝে একটু সময় পেলেই দলবেঁধে বন্ধুদের নিয়ে কিংবা প্রেয়সীর সঙ্গে অজানায় হারিয়ে যায় এ লাল সাইকেল নিয়ে। শিক্ষার্থীরা তাদের ইচ্ছামতো একটা সাইকেল বারকোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে আনলক করে ক্যাম্পাসে জোবাইকের এরিয়ার ভিতরে যেকোনো জায়গায় যেতে পারেন প্রতি ৫ মিনিট ৩ টাকা খরচে। স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে লক খোলার সাথে সাথে সময় গণনা শুরু হয়। নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে লক করার সাথে সাথে আবার সময় গণনা শেষ হয়। একটি সোলার প্যানেল ও জিপিএস থাকায় খুব সহজেই কোথায় সাইকেল আছে ব্যবহারকারী অ্যাপের সাহায্যে খুঁজে পায়।

দেশের প্রথম বাইসাইকেল শেয়ারিংয়ের এ উদ্যোগ ২০১৮ সালের ১৮ জুন কক্সবাজারে এবং ১১ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এর যাত্রা শুরু হয় একই বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে।

গত ১২ মে থেকে বর্ষাকালীন অবকাশ, পবিত্র রমজান, শবে-কদর ও ইদ-উল-ফিতরের বন্ধ শেষে ৩৫ দিন পর ক্যাম্পাস খুলে ১৬ জুন। কিন্তু খোলার পর জোবাইকের দেখা আর মিলে না। তাহলে হঠাৎ থেমে গেল কেন এ লাল সাইকেলের চাকা?

এ নিয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং জোবাইকের ক্যাম্পাস লীড মাইনুল ইসলামের সাথে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমদিকে আমাদের জোবাইক ছিল ৮০টি। পরে সেটা কমিয়ে ৫০ টিতে আনা হয়। তার মধ্যে প্রায় ৪০টি সাইকেলই মেরামত করতে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। এর মধ্যে বেশির ভাগ সাইকেলের লক, সিট, ব্রেক, ঝুড়ি এবং পিছনের মার্টগাট ভেঙে গেছে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পার্টস যেগুলো না হলে একটি সাইকেল চলে না সেগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় সাময়িক বন্ধ রয়েছে জোবাইক।’

তিনি বলেন, ব্যবহারকারীর অসচেতনতা আবার কেউ কেউ ইচ্ছা করেই এ ক্ষতিগুলো করেছে।

কবে থেকে আবার জোবাইক ক্যাম্পাসে চালু হবে সে ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক পার্টস আছে যেগুলো বাংলাদেশে পাওয়া যায় না, তাই একটু সময় লাগতে পারে। তবে সঠিক করে বলা যাচ্ছে না।’

ক্যাম্পাসে বিদ্যমান পরিবহন সংকট নিরসনের পাশাপাশি দেশের ট্যুরিজম ইন্ড্রাস্ট্রি এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনসহ সবদিক চিন্তা করেই জোবাইক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে বলে জানান জোবাইক’র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট ইসতিয়াক আহমদে শাওন।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর