বাংলাদেশ, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯

সন্দ্বীপে বিএনপি’র শীর্ষ ক্যাডার জুয়েল চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতা!

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৫ ১৬:০৩:০৬ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৫ ১৬:০৭:০৪

প্রথম ছবিতে মহানগর বিএনপি অফিসের সামনে সাবেক সাংসদ মোস্তফা কামাল পাশার সাথে পিছনে কালো শার্ট পরা এবং দ্বিতীয় ছবিতে জানলার পাশে কালো টি-শার্ট পড়া মহসিনের পা ধরে রাখা লোকটি জুয়েল। ছবি: সংগৃহিত।

সাইফুল ইসলাম, সন্দ্বীপ »

বরগুনায় রিফাত হত্যার পরপরই গত ২ জুলাই নগরীর আকবরশাহ থানাধীন বিশ্বকলোনীর এন-ব্লকে ঘটে যায় আরেক নারকীয় হামলা। ভায়রাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখাযায় সাদা টি-শার্ট পরিহিত এক যুবককের উপর অতর্কিত হামলা করে ৮-১০ জন যুবক, একপর্যায়ে মৃত ভেবে আহত যুবককে ফেলেরেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

আকবরশাহ থানা পুলিশ ও খবরের সুত্রে জানাযায়, আন্তকোন্দলের জেরে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী উত্তর পাহারতলী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহবায়ক সারোয়ার মোর্শেদের অনুসারী মহসিনের ওপর নারকীয় এই হামলা চালায় তাঁর বিরোধী পক্ষ উত্তর পাহারতলী ওয়ার্ড কাউন্সিল ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আরেক যুগ্ম-আহবায়ক জহুরুল আলম জসিম অনুসারী কর্মীরা।

হামলার সময় হামলাকারীদের হাতে লাঠি রড ও লম্বা ছুরি ছিলো। হামলাকারীদের মধ্যে একজন মহসিনকে পেটানোর সময় তাঁর পা ধরে রাখে অন্যরা পেটায় এবং একপর্যায়ে হামলার স্বীকার মহসিন পা ধরেরাখা যুবকের পা ধরে জীবন ভিক্ষা চায়, তখন সেই যুবক তাঁর পা’দিয়ে মহসিনকে চেপে ধরে মহসিনের মাথা থেকে পা পর্যন্ত লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে পালিয়ে যায়।

হামলার পর ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করলেও মহসিনের পা ধরে রাখা পরে নিজের পা দিয়ে চেপে বেধড়ক পেটানো যুবক এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে! হামলার পরদিন গত ৩ জুলাই নগরীর আকবরশাহ থাকা থেকে একটি যাচাই নোটিশ আসে সন্দ্বীপ থানায়, সেখানে উল্লেখ করা হয় বিশ্বকলোনীর এন-ব্লকে যুবলীগ কর্মী মহসিনের উপর হামলাকারীদের একজন যে মহসিনের পা চেপে ধরে রাখে এবং বেধড়ক পেটায় তাঁর বাড়ি সন্দ্বীপ এবং তাঁর নাম ‘জুয়েল’।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শরিফুল আলম বাংলাধারা’কে বলেন, গত ২’রা জুলাই নগরীর বিশ্বকলোনীতে ঘটে যাওয়া হামলার সাথে জড়িত ‘জুয়েল’ এর বাড়ি সন্দ্বীপ মর্মে একটি নোটিশ আসলে আমরা তদন্ত করে জানতে পারি সন্দ্বীপ থানার তালিকাভুক্ত পলাতক আসামী জুয়েল ওরফে জুয়েল চৌধুরী।

মজিবুর রহমান জুয়েল ওরফে জুয়েল চৌধুরী ‘কমপ্লেক্স উত্তর আবাসিক এলাকা’র চৌধুরী বাড়ির মৃত মোজাম্মেল হোসেনের দ্বিতীয় পুত্র, তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, চোরাকারবারি ও সন্ত্রাসী হামলার পাঁচ মামলাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে থানায়। এবং জুয়েল দীর্ঘ দিন থেকেই আত্মগোপনে আছে।

এমন নারকীয় হামলার সাথে জুয়েলের সম্পৃক্ততার খবর জেনে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও, তাঁরা এই সন্ত্রাসী জুয়েলের গ্রেফতার এবং শাস্তি প্রত্যাশা করছে।

কমপ্লেক্সে উত্তর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সন্দ্বীপ পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলাল উদ্দিন বলেন, এই জুয়েল ৯৬ সালে কমপ্লেক্স এলাকায় আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতীক নৌকা পুড়িয়ে দিয়েছিলো, ২০০১-০৬ পর্যন্ত সন্দ্বীপে এমন কোন অপকর্ম নেয় যেটার সাথে জুয়েল সম্পৃক্ত ছিলোনা। এই সময়কালে সেনেরহাট কমপ্লেক্স তালতলী এলাকায় এমন কোন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী সমর্থক নেয় যে জুয়েলের সন্ত্রাস চাঁদাবাজি ও নিপীড়নের স্বীকার হয়নি, হাজার হাজার নেতাকর্মী সমর্থক তাঁর অত্যাচারে সন্দ্বীপ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলো।

তিনি বলেন, বিগত বিএনপি-জামাত জোট শাসনামলে ততকালীন সাংসদের ছত্রছায়ায় থেকে যাবতীয় অপকর্ম করলেও প্রশাসন সাংসদের ভয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেনি। জুয়েল ছিলো বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক সাংসদ মোস্তফা কামাল পাশা’র একান্ত বিশ্বস্ত সহযোগী, ২০০৬’এ বিগত সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিন সরকারের সময় জনরোষে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান সন্ত্রাসী জুয়েল শুধু নয় বিগত জোট শাসনামলে যেসব বিএনপি-জামাত সন্ত্রাসীদের তান্ডবে সন্দ্বীপকে নরকে পরিনত করা হয়েছিলো তাদের প্রায় সকলেই চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন আওয়ামীলীগ নেতার ছত্রছায়ায় সেখানেও অপরাধ কর্ম অব্যাহত রেখেছে।

মজিবুর রহমান জুয়েল ওরফে জুয়েল চৌধুরীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁর বড়ভাই আকবর হোসেন এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর