বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯

মসলার পর বাড়ল পেঁয়াজ, রসুন, আদার দাম

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৬ ১৮:১৬:৪১ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৬ ১৮:১৬:৪৭

তারেক মাহমুদ »

কোরবানির আগে দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে অস্থির মসলার বাজার। বাজেটে অগ্রিম কর সংযোজন, সরবরাহ কম ও বিদেশে বুকিং রেট বাড়ার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা বাড়িয়েছে সব ধরণের মসলার দাম।

কয়েকদিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন ও আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকারও বেশি। দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

এদিকে বৃষ্টিপাত, বন্যার কারণে ট্রাক চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কারণকেও দাম বাড়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী বলে জানান ব্যবসায়ীরা। সামনে আরো বাড়বে বলে জানালেন।

পেঁয়াজের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ে ঘুরে দেখা যায়, নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৯ থেকে ৩০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে তা ২৪ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মাসখানেক আগে এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ১৭ থেকে ১৮ টাকা দরে।

চায়না থেকে আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। কয়েকদিন আগে তা ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।

পাইকারি বাজারে আদা বিক্রি হচ্ছে ১০৮ থেকে ১১০ টাকা দরে। তা বিক্রি হয়েছিল ১০২ টাকা দরে।

চাক্তাই হামিদ উল্লাহ মার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী জাবেদ ইকবাল বলেন, দাম বাড়ার কারণ হচ্ছে, চীন থেকে যে রসুনগুলো আসে তার বুকিং বেশি, বেশি রেটে কেনা। আর সবাই এগুলি ইমপোর্ট করতে পারে না। এজন্য মাল কম আসার কারণে রসুনের দাম বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ভারত সীমান্তের এপার-ওপারে পর্যন্ত পেঁয়াজ রয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পেঁয়াজবাহী ট্রাক চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংকট সৃষ্টি হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে গত দুই দিনে বৃষ্টিপাত কমার পর সীমান্ত থেকে ট্রাক আসা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দু-একদিনের মধ্যে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

ষোলশহর ২নং গেট কর্ণফুলী কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ এয়াকুব চৌধুরী বলেন, ‘খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা, রসুন ১৭০ টাকা ও আদা ১৩০ টাকা দরে’।

চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আহসান খালেক বলেন, বাজেটে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সংযোজন ও বাজারে সংকট থাকায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে পেঁয়াজের ট্রাক আসতে পারেনি।

ব্যবসায়ীরা জানান, মাসখানেক আগে মেহেরপুরের পেঁয়াজ ১৬ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ১৭ থেকে ১৮ টাকা দরে। বর্তমানে মেহেরপুরের পেঁয়াজ বাজারে নেই। নাসিক জাতের পেঁয়াজের সরবরাহ রয়েছে।

পাইকারি বাজারে দেখা যায়, গত দুইদিন ধরে পেঁয়াজ, রসুন ও আদাবাহী ট্রাক থেকে মালামাল উঠা-নামা চলছে। বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন ধরে বেচাকেনায় স্থরিবতা ছিল। বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়ার পর পেঁয়াজবাহী ট্রাক আসা শুরু হয়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী জাবেদ ইকবাল জানান, বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা বাজারে আসতে পারছে না। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের ব্যবসায়ীরা বেশি বেকায়দায় রয়েছেন। তবে শহর ও শহরতলী উপজেলার ব্যবসায়ীরা বাজারমুখী হলেও বৃষ্টির শঙ্কা এখনো কাটছে না।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক মো জালাল উদ্দীন বলেন, রসুন-আদায় নতুন ভ্যাট কার্যকর হওয়ায় এটার দাম বেড়েছে। আর তাছাড়া আমরা যেখান থেকে ইমপোর্ট করি সেখানেও ওদের সরবরাহ কমে গেছে। ওই কারণে ওরা বুকিংও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সাথে প্রাকৃতিক বিপর্যয় তো আছেই।

দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ, আর রসুন ৫ লাখ মেট্রিক টন। অভিযোগ আছে, কোরবানির আগে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে বাড়ছে এসব পণ্যের দাম।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম

ট্যাগ :