বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

বন্যার প্রভাবে নগরীতে বেড়েছে সবজি ও মাছের দাম

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-২০ ১৫:৪৬:৫৩ || আপডেট: ২০১৯-০৭-২০ ১৫:৪৭:০০

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যার প্রভাবে নগরীর বাজারগুলোতে বেড়েছে সব ধরণের সবজির দাম। প্রতিটি সবজির কেজি প্রতি দাম এক লাফে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আলু ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ৫০ টাকার ঊর্ধ্বে। টানা বর্ষণের অজুহাতে একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাছের দামও। পাশাপাশি ডিম, আদা, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বেড়েছে। এতে নাভিশ্বাস ওঠেছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের। আগামী ১৫ দিন পর্যন্ত এ বাড়তি দামে সবজি বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা। 

শনিবার (২০ জুলাই) নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, কর্ণফুলী বাজার ও কাজির দেউড়ি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

নগরীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, করলা ১০০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, কচুর ফুল ৮০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, বেগুন ৬০-৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, ধনেপাতা ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।

খুচরা সবজি বিক্রেতারা বলছেন, সবজির সরবরাহ আগের চেয়ে কিছুটা কম। আড়তদাররা সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামের অন্তত ১৪টি উপজেলায় টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে সবজি ক্ষেত ও মৎস্যখামার। কৃষকদের সবজি ক্ষেতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব এসে পড়েছে সবজি বাজারের ওপর। বৃষ্টি ও বন্যায় সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। বাজারে বেশিরভাগ সবজি চট্টগ্রামের বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও দোহাজারী থেকে আসে। এছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে কিছু কিছু সবজি আসে।

কাজির দেউড়ির সবজি বিক্রেতা আলিম বাংলাধারাকে  জানান, গেল দুই সপ্তাহে টানা বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় মূলত দাম বাড়তি। আমরা চেষ্টা করলেও কম দামে বিক্রি করতে পারছি না, কিনতে হচ্ছে বেশি দাম দিয়ে। আগামী ১৫ দিনেও দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানান পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কর্ণফুলী কাঁচাবাজার সবজি বিক্রেতা রবিউল জানান, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম, তাই দাম একটু বেশি। কেজিপ্রতি কেনা বেশি পড়ে।

এদিকে, সবজির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সব ধরনের মাছের দাম। প্রতি কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত মাছের দাম বেড়েছে। লইট্টা ২০০ থেকে ২৪০ টাকা, রুই-কাতলা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মলা (সাগরের) ২০০ টাকা, ইলিশ দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের বিক্রি হচ্ছে ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা, চিংড়ি প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা, কোরাল ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৬০ টাকা, সরপুঁটি ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শোল মাছ ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, জাপানি রুই ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, টাকি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা, বাটা ২০০ টাকা, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০, পিউলি ৫০০, ময়া ৫৫০, মিরকা ১৬০ টাকা থেকে ২২০ টাকা, চিতল ৪৫০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ টাকা, ফলি ৩০০ টাকা, বোয়াল ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা রোজিনা আখতার বাংলাধারাকে জানান, সকল প্রজাতির মাছের দাম এখন পর্যন্ত কমেনি। অথচ কয়েকদিন তো তেমন বৃষ্টি হচ্ছে না। হাটে বাজারে তো মাছ আসছে। কিন্তু মাছের দাম কমছে না কেন?

এদিকে, মাংসের বাজারে অপরিবর্তিত আছে গরু ও ছাগলের মাংসের দাম। গরুর মাংস (রান) কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, হাড়সহ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ছাগলের মাংস কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, ফার্মের মুরগি কেজিপ্রতি ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, চালের বাজারে দেখা যায়, মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, বাসমতি ৬৫ টাকা, পায়জাম ৬০ টাকা, কাজল লতা ৬০ টাকা, স্বর্ণা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, কালিজিরা ৮৫ টাকা, চিনিগুড়া ৯০ টাকা, কাটারি আতপ ৭০ টাকা, পায়জাম আতপ ৬০ টাকা, মোটা আতপ ৫০ টাকা, আউশ ৪০ টাকা, বলাম ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম

ট্যাগ :