বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯

বোয়ালখালীর ভারপ্রাপ্ত ইউএনও’র বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-০৮ ১৯:৫৬:৪৯ || আপডেট: ২০১৯-০৮-০৮ ২০:০২:১৪

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

বোয়ালখালীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. একরামুল ছিদ্দিকের হাতে এক নারী কর্মকর্তা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শ্লীলতাহানির শিকার ওই নারী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মো. একরামুল ছিদ্দিক ফোন করে ওই নারী কর্মকর্তাকে কার্যালয়ে ডেকে নেন। এ সময় কার্যালয়ে নির্বাহীসহ চার ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

তাদের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন একরামুল ছিদ্দিক। গালিগালাজ শুনে ওই নারী কর্মকর্তা কান্নায় ভেঙে পড়লে অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিদের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন ইউএনও।

তারা বের হয়ে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত ইউএনও একরামুল ছিদ্দিক জড়িয়ে ধরে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করেন ওই নারী কর্মকর্তাকে। এ সময় ইউএনও তাকে মাইনোরিটি সম্প্রদায়ের অবিবাহিত শিক্ষিত মেয়ে উল্লেখ করে সম্মানহানির ভয়ভীতি দেখিয়েছি।

এ ঘটনার পর থেকে কর্মস্থলে যেতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান ওই নারী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এ ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ফোন করে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বলেন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও।

জাতীয় মহিলা সংস্থার তথ্য আপা প্রকল্পের তথ্য সেবা কর্মকর্তা হিসেবে বোয়ালখালীতে কর্মরত রয়েছেন ওই নারী কর্মকর্তা।

তিনি আরো জানান, ‘কোনো সরকারি দরকারি ফাইলে সই করাতে গেলে ইউএনও দেড় দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখতেন। এছাড়া অন্যান্য সহকর্মীদের মাধ্যমে ফাইল পাঠানো হলে তিনি খারাপ ব্যবহার করে ফেরত পাঠাতেন। এ বিষয়ে ইউএনও বলেছেন ফাইল আমাকে নিয়ে যেতে হবে, তবেই তিনি সই করবেন।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন ওই নারী কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক পারভীন আক্তারকে অভিযোগটি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বাংলাধারাকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এখনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় নি। ঘটনাটি তদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ইয়সমিন পারভিনকে পারভীনকে দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তে যদি ভারপ্রাপ্ত ইউএনও দোষী প্রমােনিত হন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবিষয়ে জানতে একরামুল ছিদ্দিকের (সরকারি) মোবাইলে বার বার ফোন দেয়া হলেও তার নম্বরে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অপারেটর মেসেজ পাওয়া গেছে।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

ট্যাগ :