বাংলাদেশ, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৪০ গ্রামে রবিবার ঈদ

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-১০ ১৫:১১:০৫ || আপডেট: ২০১৯-০৮-১০ ১৫:১১:১২

পটিয়া প্রতিনিধি »

সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৪০টি গ্রামের মির্জাখীল দরবার শরীফের মুরিদরা পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন রবিবার।

জানা যায়, সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের মুরিদগণ সৌদি আরবের সাথে সঙ্গতি রেখে অন্যান্য বছরের মতো এবারও একদিন আগে পশু কোরবানি দেবেন। দরবার শরীফের এসব মুরিদগণ সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে পবিত্র রোজা পালন এবং ঈদ উল ফিতর ও একদিন আগে উদযাপন করে থাকেন।

ইতিমধ্যে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় ও কোরবানির জন্য প্রস্তুতি শুরু করছে দরবার শরীফ কর্তৃপক্ষ। দক্ষিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানে থাকা মির্জাখীল দরবার শরীফের অনেক মুরিদ ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ের জন্য দরবার শরীফে চলে আসবেন। রবিবার সকালে মির্জাখীল দরবার শরীফের মাঠে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করবেন তারা। দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আরেফুল হাই-এর বড় ছেলে ড. মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ মকছুদুর রহমান ঈদুল আযহার নামাজ পড়াবেন বলে জানা গেছে।

মির্জারখীল দরবার শরীফ সূত্র মতে আরো জানা যায়, সাতকানিয়ার মির্জাখীল, চরতি, পুরানগড়, মৈশামুড়া, গাটিয়াডেঙ্গা, মাদার্শা, চন্দনাইশের কাঞ্চননগর, হারাল, বাইনজুরি, কানাই মাদারি, সাতবাড়িয়া, বরকল, দোহাজারী, জামিরজুরি, বাঁশখালীর কালিপুর, চাম্বল, শেখের খীল, ডোংরা, ছনুয়া, আনোয়ারার বরুমছড়া, তৈলারদ্বীপ, লোহাগাড়ার পুটিবিলা, কলাউজান, বড়হাতিয়া, চুনতি, এবং পটিয়া, বোয়ালখালী এলাকাসহ চট্টগ্রামের মোট ৪০টি গ্রামের মানুষ আগামীকাল রবিবার ঈদ-উল আযহা উৎযাপন করবে।

এছাড়াও পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যাংছড়ি, কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও হ্নীলার বেশ কয়েকটি গ্রামের কিছু লোক একই সময়ে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় এবং পশু কোরবানি দেবেন বলে জানা গেছে।

মির্জাখীল দরবার শরীফের ভক্তরা কোনো কোনো গ্রামে পৃথকভাবে ঈদুল আযহার নামাজের আয়োজন করবেন। আবার কিছু কিছু এলাকার মুরিদরা সাতকানিয়ার মির্জাখীল গিয়ে দরবার শরীফের মাঠে উপস্থিত হয়ে নামাজ আদায় করবেন। তারা নামাজ শেষ করে যার যার এলাকায় গিয়ে পশু কোরবানি দেবেন।

মির্জাখীল দরবার শরীফ পরিচালনা কমিটির সচিব ও মির্জারখীল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বজলুল করিম চৌধুরী জানান, মির্জাখীল পুরো গ্রামের মানুষ আগামী রবিবার ঈদুল আযহা পালন করবে। প্রায় দুই শতাধিক বছরের অধিক সময় ধরে মির্জাখীল দরবার শরীফের মুরিদরা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে একদিন আগে রোজা পালন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উদযাপন করে আসছেন। চট্টগ্রামের প্রায় ৪০টি গ্রামে থাকা দরবার শরীফের মুরিদরাও রবিবার ঈদ উদযাপন করবে।

তিনি আরো জানান, যেসব এলাকায় দরবার শরীফের মুরিদ বেশি রয়েছে তারা নিজ নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় ও কোরবানি দেবেন। আর যেখানে দরবার শরীফের ভক্ত কম তারা সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফে এসে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। পরে বাড়িতে গিয়ে পশু কোরবানি দেবেন।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

ট্যাগ :