বাংলাদেশ, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯

পটিয়ায় পাঁচ কিলোমিটার বাইপাস সড়কের উদ্বোধন

প্রকাশ: ২০১৯-০৮-১০ ১৪:৩৯:১০ || আপডেট: ২০১৯-০৮-১০ ১৪:৩৯:১৯

পটিয়া প্রতিনিধি »

জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাইপাস চালুর ফলে পটিয়ায় আর কোন যানজট থাকবে না। এ বাইপাস পটিয়াকে আধুনিক রূপ দিতে সহায়ক হবে। পটিয়ার মূল শহরে যানজট থেকে মুক্তি পাবে লোকজন।

এ সময় তিনি বলেন, এ বাইপাস সড়কটি শুধু পটিয়ার নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রীদের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই বছরের মধ্যে সড়কটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ মতে দুই বছরের মধ্যেই সড়কটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পর ঈদ উপলক্ষে পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর জন্য খুলে দেয়া নির্দেশনা দেয়া হয়।

শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় বাইপাসের ইন্দ্রপুল পয়েন্টে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সড়কটি খুলে দেন হুইপ সামশুল হক।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জমান চৌধুরী, দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন, সহকারী কমিশনার ভূমি সাব্বির রহমান সানি, জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, জেলা পরিবষদ সদস্য দেবব্রত দাশ দেবু, জেলা আ’লীগ নেতা বিজন চক্রবর্তী, রাশেদ মনোয়ার, কাউন্সিলর রুপক সেন, পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন, টিআই মোহাম্মদ বশির, উপজেলা আ’লীগ নেতা আবদুল খালেক, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দ, লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফজলুল হক আল্লাই সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নেতৃবৃন্দ।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে পটিয়া বাইপাস সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে এ সড়কের কাজ শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৯০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

জানা যায়, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সড়ক ও জনপদ বিভাগ পটিয়া মনসার টেক থেকে দোহাজারী সাঙ্গু সেতু সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পে পটিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কার্যাদেশ দেওয়া হয় ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড (আইটিসিএল) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।

পটিয়া ইন্দ্রপুল থেকে গিরিশ চৌধুরী বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার পটিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটিও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু তা পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে যায়। জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর দৃঢ় প্রচেষ্টায় জমি অধিগ্রহণ পরবর্তী সড়কের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন হয়।

২০১৬ সালের ১ জুন বাইপাস সড়ক নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হলে ঢাকা র‌্যাব আরসি অ্যান্ড রিলায়েবল বিল্ডার্স নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পান। এরপর প্রায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে আরও ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এছাড়াও জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। সরেজমিনে বাইপাস সড়ক গুরে দেখা গেছে, এ সড়কে ২০টি কালভার্ট ও শ্রীমতি খালের ওপর ১টি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কটির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ৮টি ছোট সড়কও সংযুক্ত হয়েছে। তবে কয়েক মাস আগে এ সড়কে দূর্ঘটনায় পড়ে কয়েকজন প্রাণ ও হারান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পর্যটন শহর কক্সবাজার, বান্দরবানসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১০ রুটে চলাচলকারী যানবাহনগুলো যানজটে পড়ছে প্রতিদিনি। পটিয়া পৌর সদর অতিক্রম করতেই আধঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। বাইপাস সড়কে পুরোদমে যান চলাচল শুরু হয়েছে আজ অনেকাংশে ভোগান্তি কমে আসবে।

দোহাজারী সড়ক ও জনপদ বিভাগ পটিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন জানান , পটিয়া বাইপাস সড়কটির শত ভাগ কাজ হয়ে অাজ খুলে দেয়া হয়েছে। ৫ কিলোমিটার সড়কের ৮টি সংযোগ স্থানে মানুষের নিরাপদ পারাপারের জন্য গতিরোধকসহ সড়কের দুইপাশ উঁচু করে দেয়া হয়েছে। এতে সর্বমোট ব্যয় হচ্ছে ৯০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

ট্যাগ :