বাংলাদেশ, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

পূজোর সাজসজ্জা

প্রকাশ: ২০১৯-১০-০২ ১৮:৪৯:০৬ || আপডেট: ২০১৯-১০-০২ ১৮:৪৯:১২

বাংলাধারা ডেস্ক »

চলে এসেছে বাঙালি সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা। পূজার আড়ম্বর মূলত শুরু হয় ষষ্ঠী থেকে। ষষ্ঠী থেকেই মন্ডপে গিয়ে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে বড়দের প্রণাম করা, বন্ধুদের নিয়ে বেড়ানো শুরু হয় সনাতন ধর্মালম্বীদের। এই প্রতিটি আনন্দের সঙ্গেই যুক্ত থাকে সাজসজ্জার ব্যাপারটিও।

এই বিশেষ আনন্দের সময়, সবাই চাই নিজেকে অন্যের চেয়ে কিছুটা আলাদা করে তুলতে। তাই সাজসজ্জায় ভিন্নতা আনায় আগ্রহ থাকে সবার। পূজার সময় নিজেকে উজ্জ্বল দেখাতে কয়েকদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়। সারা বছর নিজেকে সময় দিতে না পারলেও এ সময় কিছু সহজ সৌন্দর্য চর্চার নিয়ম মেনে চলা উচিত। জেনে নিন এ সময়ের কিছু বিশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে-

পূজার আগের প্রস্তুতি

★ চুলের যত্ন

এ সময় চুলের বিশেষ যত্নে ব্যবহার করুন আমলকি, হরতকি, শিকাকাই, হেনা, মেথি, টকদই, মিল্ক পাউডার, ডিম। এগুলো মিশিয়ে পুরো চুলে লাগান। ৪০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। তারপর হারবাল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

★ শুষ্ক ত্বক

এই ধরনের ত্বকের প্রধান কাজ হলো ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখা। ভিটামিন-ই অয়েল আর গ্লিসারিন আধ চামচ করে মিশিয়ে প্রতিদিন লাগাতে পারেন। ত্বকে পুষ্টি জোগাতে ডিমের কুসুমের সঙ্গে ১ চা-চামচ মধু, আধা চামচ অলিভ অয়েল ও গোলাপজল মিশিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

★ তৈলাক্ত ত্বক

যাদের ত্বক খুব তৈলাক্ত তাদের ত্বক সংক্রান্ত নানান রকম সমস্যা থাকাটা স্বাভাবিক। তবে তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিংয়ের ক্ষেত্রে ‘অয়েল ফ্রি প্রোডাক্ট’ ব্যবহার করুন। ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার হিসেবে টমেটোর রস খুব কার্যকর।

★ মিশ্র ত্বক

প্রতিদিনের যত্নে হালকা ক্লিনজার ব্যবহার করুন। তবে ত্বকের শুষ্ক জায়গাগুলোয় অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন। সিদ্ধ করা মিষ্টি কুমড়া চটকে, মধু ও দুধ পরিমাণ মতো মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট রেখে তারপর ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।

★ দিনের সাজ

পূজার উৎসব চলে মূলত ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত। এ কারণে ষষ্ঠীতে সবাই হালকা সাজের মধ্যে থাকতেই ভালোবাসেন। দশমীতে গিয়ে রূপসজ্জা গাঢ় ও রঙিন হয়ে ওঠে। দিনের বেলা মন্দিরে পূজার অঞ্জলি দেওয়ার সময় প্রকৃতির সজীব ভাবটা সাজের মধ্যে থাকে। সেই জন্য বেইজ মেইকআপ করার ক্ষেত্রে ত্বকের টোনের সঙ্গে মিলিয়ে হালকা ফাউন্ডেশন লাগিয়ে তার উপর ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার লাগিয়ে নিন। চোখের সাজে অফ হোয়াইট হাই লাইটস, বাদামি ও কালো রংয়ের কম্বিনেশন অথবা পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মিশিয়ে হালকা রংয়ের আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। পেনসিল আই লাইনার অথবা চাইলে শুধু কাজলের একটা হালকা রেখা টেনে দিন চোখে। ঠোঁটে কোরাল বা হালকা গোলাপি লিপস্টিক অথবা লিপগ্লস লাগাতে পারেন। সঙ্গে হালকা বাদামি রংয়ের ব্লাশঅন লাগান। যেহেতু সারাদিন পূজা মণ্ডপে থাকতে হয়, তাই চুল এমনভাবে বাঁধা উচিত যাতে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে না হয়।

★ রাতের সাজ

সন্ধ্যার পর সাধারণত জাঁকালোভাবে সেজে বের হন অধিকাংশ নারীই। তাই রাতের মেইকআপ একটু যত্ন নিয়ে করতে হয়। চোখের আশপাশে কালি বা কোনো দাগ থাকলে সেটা ঢাকার জন্য কনসিলার ব্যবহার করুন। এর উপরে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে তার উপর ফেইস পাউডার দিন। তারপর ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন। অ্যাকোয়া ব্লু ও ধূসর আইশ্যাডো কম্বিনেশন করে চোখের পাতায় লাগান। সিলভার রংয়ের হাইলাইটস দিন। ওয়াটার প্রুফ আইলাইনার ও কাজল পড়ুন। সাজের ও শাড়ির সঙ্গে খোঁপা বা লম্বা বেণির পাশাপাশি ফ্রন্টসেটিং করতে পারেন। খোলা চুলেও স্টাইল করা যায়। স্ট্রেইট করিয়ে নিতে পারেন। আবার হালকা বা কোঁকড়ানো করতে পারেন।

এছাড়া চুল সাজাতে পারেন ফুলের স্নিগ্ধতায়। খোঁপাতে জড়িয়ে নিন শিউলি ফুল বা বেলিফুলের মালা। কানের পাশে গুঁজে দিন নীল অপরাজিতা।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এএ

ট্যাগ :