বাংলাদেশ, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দেয়া অধিনায়কের জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৫ ১১:০৭:৩৭ || আপডেট: ২০১৯-১০-০৫ ১১:২০:৩০

বাংলাধারা ডেস্ক »

মাশরাফি বিন মুর্ত্তজা, ভক্ত-সতির্থরা যাকে ভালোবেসে ম্যাশ বলে ডাকে। যিনি নড়াইল এক্সপ্রেস নামেও পরিচিত তার গতি ও খুরধার বোলিংয়ের জন্য। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দেওয়ার অন্যতম নায়কও তিনি। যার নেতৃত্বেই টাইগাররা শিখেছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, কখন হুঙ্কার ছুড়তে হয়। শিখেছে কিভাবে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে খেলতে হয়, চোখ রাঙাতে হয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চেঞ্জমেকারের নাম মাশরাফি, যিনি দলকে এক সুঁতোয় গেথে রাখার কাজটা ভালোভাবেই করতে পেরেছেন। তার নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতি হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। লাল-সবুজের সফল একজন অধিনায়ক তিনি। মাশরাফি বাংলাদেশের প্রথম স্পিড স্টার, হয়তো তিনিই প্রথম কোনো পেসার যিনি পেস বোলিংয়ে স্ট্যান্ডার্ড বা ক্রেজ তৈরি করেছিলেন।

আজ ৫ অক্টোবর, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক, নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফির জন্মদিন। ১৯৮৩ সালের এই দিনেই সবুজ শ্যামল নড়াইল শহরের মহিষখোলায় নানাবাড়িতে তিনি মায়ের কোল আলোকিত করে পৃথিবীতে এসেছিলেন। পেরিয়ে গেছে ৩৬টি বছর। টাইগারদের সফল এই অধিনায়ক ৩৭ বছরে পা দিয়েছেন। ২০১৪ সালের এই দিনেই পৃথিবীতে এসেছে মাশরাফি-সুমনা হক সুমির দ্বিতীয় সন্তান, পুত্র সাহেল মুর্ত্তজা। বাংলাধারার পক্ষ থেকে মাশরাফি ও তার ছেলেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

বাবার নাম গোলাম মুর্ত্তজা স্বপন। মায়ের নাম হামিদা বেগম বলাকা। দুই ভাইয়ের মধ্যে মাশরাফি বড়। ছোট ভাই সিজার মাহমুদও ক্রিকেট নিয়েই সময় কাটান। মাশরাফি সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলোয়াড়ই শুধু নয়, মানুষও।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মাশরাফি। তার উপর আস্থা রেখেই ম্যাশের জন্মস্থান নড়াইল থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের সুযোগ করে দেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাশরাফি।

মাশরাফি নামটাই যেন একটা আলাদা অনুভূতি, আবেগের জায়গা। তার খুব কাছের মানুষও বোধহয় আশা করেন না প্রতি ম্যাচেই তিনি ৫ উইকেট নেবেন, প্রতি ম্যাচেই ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করবেন। তারপরও কিন্তু মাশরাফিকে মাঠে নামতে দেখে গ্যালারির দর্শক আলাদা কোনো উত্তেজনায় কাঁপতে থাকেন, দাঁড়িয়ে পড়েন, হাততালি দেন। এটা প্রমাণ করে ম্যাশের প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা।

বাংলাদেশের আর কোনো ক্রিকেটার এমন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা কখনো পেয়েছেন কিনা জানা নেই। এমনও ম্যাচ দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব, যেখানে মাশরাফি বল ধরলেই হাততালি বেজে ওঠে, টিভি স্ক্রিনের ক্যামেরা তাকে ধরলেই হাততালি বেজে ওঠে আবার ব্যাটের কানায় লাগিয়ে একটা সিঙ্গেল রান নিলেও মনের অজান্তে হাতজোড়া এক হয়। এমনও ম্যাচ হয়েছে যেখানে মাশরাফি কিছুই করেননি, শুধু মাঠে থেকেছেন জন্যই হাততালি বেজে উঠেছে। বুকের ভেতর কোথায় যেন একটা শিহরণ জেগে উঠে।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

ট্যাগ :