বাংলাদেশ, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

সন্দ্বীপ পৌর যুবলীগ; বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি প্রকাশের অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৯ ১৩:০১:১৩ || আপডেট: ২০১৯-১০-০৯ ১৩:০১:১৮

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি »

দেশব্যাপী ‘যুবলীগ’ ডামাডোলের মধ্যেই যুবলীগ সন্দ্বীপ পৌর কমিটি রোববার (৬ অক্টোবর) প্রকাশ করলো সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ।

গত বছর জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ১৪ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ-সন্দ্বীপ পৌরসভা কমিটি ঘোষণা হয়েছিল। ঠিক একবছর পর গত ৬ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ৬১ সদস্যের কমিটি অথচ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত কমিটিতে নেই একবছর আগে ঘোষিত কমিটির ৯ জন। এ নিয়ে স্তম্ভিত ও হতভম্ব বাদ পরা ৯ জন সহ উপজেলা আওয়ামীলীগের বহু নেতা, অভিযোগ উঠছে প্রকাশিত কমিটি নিয়ে। বিএনপি-জামাত জোট আমলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদকাসক্ত মাদক ব্যবসায়ী, খুনের মামলার পরোয়ানা ভুক্ত পলাতক আসামীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রকাশিত কমিটিতে।

পূর্ব ঘোষিত কমিটি হতে বাদ দেয়া হয়েছে যথাক্রমে শামীম হোসেন (সিনিয়র সহ-সভাপতি) শাহাদাৎ হোসেন (সহ-সভাপতি) জিয়াউদ্দিন বাবলু (সাংগঠনিক সম্পাদক) মোঃ সোহেল (ক্রিয়া বিষয়ক সম্পাদক) মিলন (সদস্য) সহ ৯ জনকে।

এ বিষয়ে পূর্ব ঘোষিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউদ্দিন বাবলু বাংলাধারাকে বলেন, আমরা ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বেচ্ছাচারী রাজনীতির অবসান ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মমতাময়ী নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে জনগণবান্ধব রাজনীতি করতে চাওয়াই আমাদের জন্য কাল হয়েছে, আজকে দেশ স্বাক্ষী দেখুন যুবলীগের অবস্থা, আমরা এসব অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম, ন্যায় নীতি ভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে সুন্দর সমাজ গড়তে চেয়েছিলাম, জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত অনিয়ম অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’র ওপর আস্থা রেখে সেই রাজনীতি করেছি যেটা এই বাংলাদেশে জননেত্রী স্বপ্ন দেখেন। অথচ আমাদেরকে অন্যায়ভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত কমিটি থেকে বাদ দিয়ে সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশকারী মাদকাসক্ত মাদক ব্যবসায়ী খুনের মামলার পরোয়ানা ভুক্ত আসামী ও হাইজ্যাকারদের দিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা উপজেলা যুবলীগের এই স্বেচ্ছাচারীতার বিরুদ্ধে আমাদের মুরুব্বি সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী মনোনীত আমাদের অভিভাবক প্রিয় সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতার দেশে ফেরা এবং সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাদ পরা ক’জন বলেন, প্রকাশিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান জাবেদ একজন অনুপ্রবেশকারী, পৌর যুবলীগের সাবেক আহবায়ক বাবলুর হত্যাকারী এবং এই মামলার পরোয়ানা ভুক্ত পলাতক আসামী। যুগ্ম সম্পাদক সুমন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মনসুর একই মামলার আসামী এবং অপর সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদ ইয়াবা মাদক কারবারি সহ স্বীকৃতি হাইজ্যাকার। এছাড়া প্রকাশিত কমিটির অধিকাংশই অনুপ্রবেশকারী মাদকাসক্ত।

উপজেলা আওয়ামীলীগের দু’জন নেতা বলেন উপজেলা যুবলীগের এই সিদ্ধান্তে আমরা অবাক এবং হতাশ হয়েছি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলাধাকে জানান, যেটা প্রকাশ করেছি সেটাই অনুমোদিত কমিটি, পূর্ব ঘোষিত কমিটি হতে কাউকে বাদ দেয়া হয়নি, সেটা খসরা ছিলো এবং সেই খসরা তালিকা সংযোজন বিয়োজন করা হয়েছে। ঘোষিত কমিটিতে থাকাদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেশব্যাপী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানের প্রতি নজর রেখেই অযোগ্যদের বিয়োজন করা হয়েছে।

খুনের মামলার আসামী ও মাদকাসক্তদের কমিটিতে পদায়ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দেখুন অভিযোগ থাকতেই পারে অভিযোগ থাকলেই কেউ অপরাধী হয়ে যায় না যতক্ষণ অভিযোগ প্রমাণিত না হয়।


এই বিষয়ে পৌর যুবলীগের সভাপতি শাকিলউদ্দিন খোকন জানান, বাদ দেয়ার বিষয়টি আমাদের নেতাদের এখতিয়ার। অনুপ্রবেশকারী ইয়াবা সেবীদের ঘোষিত কমিটি হতে বাদ দেয়া হয়েছে। খুনের মামলার আসামী ও মাদকাসক্ত তার কমিটি রাখা বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ মন্তব্য করেন।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এএ

ট্যাগ :