বাংলাদেশ, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯

হাটহাজারীতে বিদ্যালয়ের কাজ শেষ না করেই চূড়ান্ত বিল নিলেন ঠিকাদার

প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৫ ১৭:১৫:২০ || আপডেট: ২০১৯-১০-১৫ ১৭:১৫:২৬

তারেক মাহমুদ »

হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শাস্থ মধ্য মাদার্শা নবাবিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হাটহাজারী উপজেলা প্রকৌশলী মেসার্স আহসান এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদারের সাথে ৩ আগষ্ট ‘১৭ সালে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকায় চুক্তি করে। ৬ মাসের মধ্য কাজ সমাপ্তির কথা থাকলেও তা দুই বছরেরও বেশি সময় পার হয়। অথচ কাজ পাওয়া ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই উপজেলা প্রকৌশলীর সহায়তায় চুড়ান্ত বিল তুলে নিয়েছেন। এরই মধ্যে এক বছর যাবৎ কাজ বন্ধ ছিল স্কুলটির। সম্প্রতি অভিযোগ উঠায় জামানতের টাকা দিয়ে কাজ শুরু করছেন উপজেলা প্রকৌশলী।

এদিকে, গত বছরের ফেব্রুয়ারীতে স্কুলের ভবনটি বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও অদ্যবদি কাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বাধ্য হয়ে লেখাপড়া করছে শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের কোনো কক্ষেই শিক্ষার্থীদের বেঞ্চ নেই। ভবনের উত্তর পার্শ্বে নেই র । একজন রং মিস্ত্রি অত্যন্ত ধীরগতিতে কক্ষে রংয়ের কাজ করছেন। স্কুলের দরজা জানালায় মরিচিকায় ভরপুর। ছাদে এবং ভবনের বহিরাংশে বৃষ্টির পানি জমে আছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল প্রবেশে রেমটিও ভবন ডিজাইনের সাথে প্রস্থে পার্থক্য।  সুষ্ঠু তদন্ত করলে ভবনের অবকাঠামোগত অনেক সমস্যা রয়েছে তাও বেরিয়ে আসবে বলে জানান উপস্থিত অনেকে।

সম্প্রতি স্কুলের প্রধান শিক্ষক লীনা কাউসার নতুন বর্ষ শুরুর আগে নতুন ভবনে প্রবেশ করতে না পারলে জরাজীর্ণ ও অব্যবহারযোগ্য ভবনের কারণে বিদ্যালয়ে ভর্তির হার কমে যাওয়ার আশংকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত আবেদন করলে উপজেলা প্রকৌশল ভবনের কাজ শুরু করেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

প্রধান শিক্ষক লীনা কাউসার বলেন, আমি এবং সভাপতি এসব নিয়ে অনেকবার প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। বার বার বলায় উনি মাইন্ডও করেছেন। ঠিকাদার নেই তাই কাজ যতটুকু হয় ততটুকুই লাভ বলেও উনি (প্রকৌশলী) আমাদের বলেছেন। আর বেশি কথা বলার সাহসও পাইনা। তাই সবশেষে নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি।

স্কুল কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, অনেকদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি কাজ শুরু করলেও ঠিকমত কাজ হচ্ছেনা। শুনেছি ঠিকাদার কাজ শেষ করার আগেই বিল তুলে নিয়েছেন। এখন প্রকৌশলী ভবনের বাকি কাজগুলো করছেন কিন্তু ভবনের রং, আস্তর, দরজা, জানালা, গ্রীল, ছাদ সব কিছুতেই অনিয়ম। প্রকৌশলীকে বার বার জানালেও উনি লোক পাঠাবেন বলেও পাঠান না। এরকম নয় ছয়ে’র কাজ আমরা বুঝে নেব না।  

তিনি বলেন উনি (প্রকৌশলী) তো আর নিজের পকেট থেকে কাজ করাচ্ছেন না সরকারই টাকা দিচ্ছে তাহলে কাজে এমন অনিয়ম কেন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আহসান এন্টার প্রাইজের মালিক আহসান চুড়ান্তবিল তুলে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কাজ তো শেষ সামান্য ফিনিশিংয়ের কাজ বাকি। সেগুলো চলছে। প্রকৌশলী কেন করবে আমিই করছি।

উপজেলা প্রকৌশলী কামরুজ্জামান ঠিকাদার চুড়ান্ত বিল উত্তোলণের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ঠিকাদার ফেইল করেছেন। কাজ বন্ধ কিংবা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। জামানতের টাকাতো আছে তা দিয়েই কাজ চলছে। কয়েকদিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। কাজে অনিয়মের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা আমি দেখব।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম

ট্যাগ :