বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯

শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর মুখোমুখি অবস্থানে

প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৬ ১৫:০৮:১৩ || আপডেট: ২০১৯-১০-১৬ ১৫:০৮:১৯

বাংলাধারা ডেস্ক »

বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আন্দোলনরত দেশের ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক গত সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুইঘণ্টা এবং মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) তিনঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন। এই ধারাবাহিতায় বুধবারও (১৬ অক্টোবর) তারা অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন। এমনকি বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন ও ২৩ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

গত ৬ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচির ঘোষণা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। ‘বেতন বৈষম্য নিরসন প্রক্রিয়াধীন থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকরা কেন কর্ম বিরতিতে যাচ্ছে?’- এমন প্রশ্ন রেখে গত ১৩ অক্টোবর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ডিপিই’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠি এরই মধ্যে বিভাগীয় উপ-পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওই আদেশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এ পর্যায়ে দাবি আদায়ের কোনো কর্মসূচি পালিত হলে তা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অধিকন্তু সরকারি কর্মচারীরা এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা বা অংশগ্রহণ করা সরকারি শৃঙ্খলা বা আপিল বিধিমালা-২০১৮ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

চিঠিতে অধিদফতরের বিভাগীয় উপ-পরিচালকদের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, এ ধরনের কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্নিষ্ট শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জানা গেছে, বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৪টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কারও আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন ঐক্য পরিষদের নেতারা।

প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান বলেন, ‘বেতন বৈষম্য নিরসনের প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেলে আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করব। কারণ অন্যান্যরা আশ্বাস দিলে সেটি কখনও বাস্তবতার মুখ দেখে না। বিভিন্ন সময় মন্ত্রীরা আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই হয়নি। আমাদের শেষ আশ্রয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা চাই তিনি আমাদের দাবিগুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দিক।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বেতন বৈষম্য নিরসন না করে আমাদের সঙ্গে কৌতুক করা হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একটি জাতির ভিত্তি তৈরি করে দেয়। তাদের সম্মান না দিলে দেশের শিক্ষা পিছিয়ে পড়বে। এই সত্যটুকু অনুধাবন করতে না পারলে আমাদেরই ক্ষতি হবে। কাজেই সমস্যাগুলোর আশু সমাধান দাবি করছি।’

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ জানান, ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের দাবিতে ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে বসেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা। সে সময়ের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার শিক্ষকদের এই দাবি একমাসের মধ্যে বাস্তাবয়ন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলে শিক্ষকরা আমরণ অনশন স্থগিত করেন। এরপর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের বেতন বৈষম্য নিরসন হয়নি।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে শিক্ষকরা আবারও আন্দোলনের ডাক দিলে আওয়ামী লীগ সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই লক্ষে গত ২৯ জুলাই শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের নিরসনের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু ৮ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রণালয় তা নাকচ করে দেয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৯৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন লাখ ২৫ হাজার সহকারী শিক্ষক ও ৪২ হাজার প্রধান শিক্ষক রয়েছেন।

বাংলাধারা/এফএস/এএ

ট্যাগ :