বাংলাদেশ, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

জনসমাগম থেকে মোবাইল টাওয়ার সরাতে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়

প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৭ ১২:১৮:২২ || আপডেট: ২০১৯-১০-১৭ ১২:১৮:২৮

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

হাসপাতাল, খেলার মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগম রয়েছে এমন স্থান থেকে মোবাইল টাওয়ার সরাতে হাইকোর্টের নির্দেশের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে ২৫ এপ্রিল টাওয়ার সরাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার হয়। এরপর ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হয়। তখন রুল জারি করলে বৃহস্পতিবার সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ের ১১ দফা নির্দেশনায় বলা হয়, এক. মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ মাত্রা নির্ধারিত মাত্রার দশ ভাগের একভাগ করা; দুই. মোবাইল টাওয়ার বাসার ছাদ, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কারাগার, খেলার মাঠ, জনবসতি এলাকা, হেরিটেজ ও প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকাসহ ইত্যাদি স্থানে না বসানো এবং যেগুলো বসানো হয়েছে, তা অপসারণ; তিন. বিকিরণ মাত্রা যেন বেশি না হয় সে ব্যাপারে অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ; চার. টাওয়ার বসাতে জমি অধিগ্রহণে কোনো বাধা আছে কি-না বা বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ; পাঁচ. টাওয়ারের বিকিরণ মাত্রা বিটিআরসি ও লাইসেন্সি দু’পক্ষকেই স্বাধীনভাবে আইটিইউ এবং আইইসির মান অনুসারে পরিমাপ করা; ছয়. কোনো টাওয়ারের বিকিরণ মাত্রা বেশি হলে তা অপসারণ করে নতুন টাওয়ার বসানো; সাত. টাওয়ার ভেরিফিকেশন মনিটর পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিটিআরসির দায়-দায়িত্ব বাধ্যতামূলক; আট. বিটিআরসি স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং সেল গঠন; নয়. বিটিআরসিকে অন্যদেরকে নিয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন। লাইসেন্সিকে প্রতি ছয় মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল; দশ. মোবাইল সেটে দৃশ্যমানভাবে এসএআর মান লেখা এবং এগারো. সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সির প্রতিটি রিপোর্ট/রেকর্ড পাঁচ বছর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতের আদেশ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে আরও গবেষণা করে রিপোর্ট দিতেও বলা হয়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/এএ

ট্যাগ :