বাংলাদেশ, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯

মিয়ানমার থেকে আনা হচ্ছে শত শত টন পেঁয়াজ

প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৭ ১৫:৫৬:২৬ || আপডেট: ২০১৯-১০-১৭ ১৫:৫৬:৩২

বাংলাধারা ডেস্ক »

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার পর অশান্ত হয়ে পড়েছিল দেশের পেঁয়াজের বাজার। প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ছুঁয়ে যায় তিন অংকের ঘর। তাই পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক করতে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হচ্ছে পেঁয়াজ। দুইদিন বন্ধ থাকার পর আবারও মিয়ানমার থেকে দেশে ঢুকছে শত শত টন পেঁয়াজ। গতকাল বুধবার (১৬ অক্টোবর) আট ব্যবসায়ী তিন ট্রলারভর্তি ৯ হাজার বস্তা পেঁয়াজ এনেছেন। যেগুলোর ওজন প্রায় ৩৭০ টন। আগামী এক সপ্তাহে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আরও প্রায় এক হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির কথা রয়েছে। এদিকে মাত্র দু’দিন আমদানি বন্ধের সুযোগ নিয়ে যারা পেঁয়াজের বাজার অস্থির করেছে তাদের ব্যাপারে ফের সক্রিয় হয়েছেন গোয়েন্দারা। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত চট্টগ্রামের পাইকারি মোকাম খাতুনগঞ্জে গিয়ে কারসাজির প্রমাণও পেয়েছেন। ৪২ টাকায় কেনা পেঁয়াজ ৭০ টাকায় বিক্রি করায় দুই ব্যবসায়ীকে করা হয়েছে জরিমানাও।

এ অভিযান আরও জোরদার করতে নির্দেশ এসেছে মন্ত্রণালয় থেকে। তাই পেঁয়াজের বাজার অস্থির করতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম নিয়ে যারা ফের কারসাজি করার চেষ্টা করছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করছি নতুন করে। এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছি। ৪২ টাকায় কেনা মিয়ানমারের পেঁয়াজ মেসার্স আজমির ভাণ্ডার ৭০ টাকা ও শাহ আমানত ট্রেডার্সের ৬৫ টাকা করে বিক্রি করার প্রমাণ হাতেনাতে পেয়েছি। কয়েকজনকে আমরা সতর্ক করে এসেছি। শিগগির আরও সাঁড়াশি অভিযান চালাব পাইকারি ও খুচরা উভয় মোকামে।’

এদিকে টেকনাফ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর অভিযোগ করে বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও খালাসে বিলম্বের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে তিন হাজারের বেশি বস্তা পেঁয়াজ। অনেকে তাই পেঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।’ তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজের তিনটি ট্রলার ঘাটে পৌঁছেছে। তার মধ্যে দুই ব্যবসায়ীর কাগজপত্র হাতে পেয়েছি। ফলে তাদের পেঁয়াজ খালাসের প্রস্তুতি চলছে। বাকি ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালাস শুরু হবে। সরকারের নির্দেশ অনুসারে পেঁয়াজভর্তি ট্রলার সবার আগে খালাস করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। স্থলবন্দরে অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতি নেই। ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের পেঁয়াজ এনে সেটি বন্দরের কারণে নষ্ট হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :