বাংলাদেশ, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০

রন্ধন শিল্পী পপি’র এগিয়ে চলা

প্রকাশ: ২০১৯-১০-৩০ ১৪:১৫:৩২ || আপডেট: ২০১৯-১০-৩০ ১৫:২০:০৩

তারেক মাহমুদ »

বর্তমানে রান্না বা রন্ধন একটি উৎকৃষ্ট শিল্প। দেশের রন্ধন শৈলীকে শিল্পের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে যে সকল মহীয়সী নারী কয়েক দশক ধরে অবদান রেখে চলছেন তাদের পথ অনুস্মরণ করে অনেকেই এখন রন্ধন শিল্পের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাচ্ছেন।

প্রিয় পাঠক, আমরা আজ এমনই একজন রন্ধন শিল্পীর কথা বলব যিনি ইতিমধ্যেই তার হাতের রান্নার জাদু দিয়ে জয় করে নিয়েছেন অসংখ্য দর্শক-পাঠকের হৃদয়। নিয়মিত পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে রান্নার রেসিপি নিয়ে হাজির হবার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেও বিজয়ী হয়েছেন তিনি অসংখ্যবার।

আমাদের ‘সাক্ষাৎকার বিভাগের’ আজকের অতিথি চাটগাঁয়ের মেয়ে বিশিষ্ট রন্ধন শিল্পী হালিমা আলী পপি। যিনি বিভিন্ন মিডিয়ায় ‘পপি খান’ নামে পরিচিত। চট্টগ্রামের পূর্ব মাদারবাড়ি আইচ ফ্যাক্টরি রোড়ের মরহুম হাজী ইয়াকুব আলী ভুইয়ার কনিষ্ঠ কণ্যা তিনি। বাবার হোটেল ব্যবসার সূত্র ধরে আজকের রন্ধন শিল্পিক হয়ে উঠা।

৭০ -৮০ দশকের দিকে নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ের জমজমাট ও ঐতিহ্যবাহী ছিল হোটেল হাওয়াই। যার মালিক ছিলেন রন্ধন শিল্পী হালিমা আলী পপির বাবা মরহুম হাজী ইয়াকুব আলী ভুইয়া। চট্টগ্রামের অর্পণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয় ও ওমরগণী এমইএস কলেজের ছাত্রী ছিলেন পপি।

১৯৯৫ সালে মো. শুক্কুর খানের সাথে বিবাহের পর রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তাদের সংসারে এক মেয়ে এক ছেলে সন্তান রয়েছে। ২০১৬ সালে ‘রূপচাঁদা দা ডেইলিস্টার সুপার শেফ’ রিয়েলিটি শো সেরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা ২০ তালিকায় স্থান পায় পপি। যেই প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে হাজার হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন।

এরপর সে আর পেছনে ফিরেননি পপি। এরপর তিনি নতুন নতুন স্বাদের মজাদার সব রান্নার রেসিপি নিয়ে নিয়মিত হাজির হচ্ছেন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল থেকে শুরু করে পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনগুলোতে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে তো নিয়মিত তার রান্নার জাদু থাকছেই দর্শক-পাঠকদের জন্য। মজার মজার রান্নার রেসিপি দিয়ে রসনাবিলাসী বাঙালির মন জয় করে আরো উৎসাহ নিয়ে পপি আবার ক্যাটারিং সার্ভিস চালুর মধ্যদিয়ে রান্না শিল্পকে পেশা হিসেবেও বেছে নিয়েছেন। চ্যানেল নাইন, এনটিভি, এশিয়ান টিভিসহ একে একে বিভিন্ন পত্রিকায় রন্ধন শিল্প নিয়ে তার অনুষ্ঠানমালা নিয়মিত প্রচার হয়ে আসছে।

এসব ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গ্রুপ প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত রান্নার অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন এবং রেসিপি দিচ্ছেন।

চট্টগ্রামের মেয়ে পপির রয়েছে অসংখ্য স্থানীয় ঐতিহ্যবাসী রান্নার মজাদার সব রেসিপি। এছাড়া নতুন নতুন আইডিয়া থেকে সম্পূর্ণ নিজস্বতায় তৈরি করেন তিনি তার রেসিপিগুলো। তারমধ্যে স্টোবেরী পায়েস ফেনা কৌটা, রেইনবো ডেজার্ট, চিকেন কোণ, বিবিখানা পিঠা ইত্যাদি।

ইতোমধ্যে তিনি পাক্কন পিঠা তৈরি করে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। চলতি বছর পিঠা শিল্পের সেরা অনন্যা নারী পুরস্কার পান পপি। পপিস রেসেপি নামে ফেইসবুক পেইজ রয়েছে তার। ইতোমধ্যেই তিনি ছোট্ট পরিসরে ক্যাটারিং সার্ভিস চালু করেছেন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ দিচ্ছে তার ক্যাটারিং সার্ভিস কোম্পানি। পাশাপাশি বিভিন্ন ইভেন্টের খাবারের অর্ডারও নিচ্ছেন তিনি।

বর্তমানে ফুড এন্ড বেভারেজোর উপর পপি লেভেল-৪ পড়াশোনা করছে। ঘর-সংসার, ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা, রান্নার জগতের বাইরেও একজন উদার মনের নারী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। রন্ধন শিল্পী হালিমা আলী পপি’র স্বপ্ন- ভবিষ্যতে অসহায় নারীদের জন্য কিছু করা। এছাড়াও ভবিষতে তিনি রন্ধন শিল্পের উপর একটি স্কুল গড়ে তুলতে চান। অবসরে পপি গান শোনেন, কবিতা আর গল্পের বই পড়েন। আর বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দিতে পছন্দ করেন।

বাংলাধারা/এফএস/এএ

ট্যাগ :