বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯

রাত ২টায় বুলবুলের আঘাত খেপুপাড়ায়

প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৯ ২৩:৩১:৩০ || আপডেট: ২০১৯-১১-০৯ ২৩:৩১:৩৯

বাংলাধারা ডেস্ক »  

শনিবার রাত ২টায় ১৩৫ কিলোমিটার বেগে ভয়ঙ্কর বুলবুল (Cyclone Bulbul)আছড়ে পড়বে সাগর ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূলের কাছে সুন্দরবন ব-দ্বীপ বরাবর।বাংলাদেশ ও ভারতীয় আবহাওয়া কর্মকর্তারা এমনটিই জানিয়েছেন।ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসছে। মারাত্মক উত্তাল হয়ে  উঠেছে সমুদ্র।বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর রাতে জানায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ১১০-১৩০ কিলোমিটার।

ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে রাত সাড়ে ৯টায় আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়,পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের উপকূলে প্রবেশ করেছে অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। সাগরদ্বীপ থেকে বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যে স্থলভাগে প্রায় ১২০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে বুলবুল। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথে রয়েছে সুন্দরবন বদ্বীপ অঞ্চল। রাত ২টার মধ্যেই বুলবুল আছড়ে পড়বে স্থলভাগের কোনও জায়গায়।

অতি ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বাংলাদেশ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।সরকার উপকূলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে।ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় ১৩ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনি ও রোববারের ছুটি বাতিল করেছে সরকার।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর। ছুটি বাতিল করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। এছাড়া ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় প্রত্যেক জেলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডিএসবির তত্ত্বাবধানে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রত্যেক থানাতেও কন্ট্রোল রুম এবং প্রতিটি পুলিশ লাইন্সে এক প্লাটুন কিউআরটি ফোর্স (কুইক রেসপন্স টিম) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ওয়াটার রেসকিউ টিম, ফাস্ট এইড টিম এবং সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের যাবতীয় খবরাখবর সংগ্রহ ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ৪টি স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষগুলোর ঢাকা-০২-৯৫৫৬৭৫৪, ০১৭১৩-০৩৮১৮১, চট্টগ্রাম- ০১৭৩০-৩৩৬৬৬৬, খুলনা- ০১৭৩৩-০৬২২০৯ এবং বরিশাল- ০১৯৮৩-৮৮৬৬৭৭ ফোন নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া এন্ড পিআর) মো. সোহেল রানা জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রত্যেক জেলা পুলিশের কার্যালয়ে ডিএসবির তত্ত্বাবধানে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রত্যেক থানায়ও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রতিটি পুলিশ লাইন্সে এক প্লাটুন কুইক রেসপন্স টিম হিসেবে রাখা হয়েছে। ওয়ার্ড মেম্বার, ইউপি চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওসিসহ সিনিয়র অফিসারদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের সহযোগিতা নেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশ সদর দফতরও কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। কন্ট্রোল রুমে ০১৭৬৯-৬৯০০৩৩, ০১৭৬৯-৬৯০০৩৪ নম্বরে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।চট্টগ্রাম বন্দর ও বর্হিনোঙ্গর থেকে সব জাহাজ সরিয়ে কুতুবদিয়ায় বর্হিনোঙ্গরে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :