বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯

পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী(সঃ) আজ

প্রকাশ: ২০১৯-১১-১০ ০৯:৫৩:৩০ || আপডেট: ২০১৯-১১-১০ ০৯:৫৩:৩৭

বাংলাধারা প্রতিবেদন »  

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী(সঃ)আজ। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ২৯ আগস্ট, আরবি রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার, সুবহে সাদিকের সময় মহাকালের এক মহাক্রান্তিলগ্নে পবিত্র মক্কা নগরীতে  জন্মগ্রহণ করেন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)। আবার তেষট্টি বছরের এক মহান আদর্শিক জীবন অতিবাহিত করে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ৮ জুন, ১১ হিজরি রবিউল আউওয়াল মাসের ১২ তারিখ একই দিনে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন তিনি। দিনটি মুসলিম সমাজে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নামে সমধিক পরিচিত। ঈদ, মিলাদ আর নবী তিনটি শব্দ যোগে দিবসটির নামকরণ করা হয়েছে। ঈদ অর্থ- আনন্দোৎসব, মিলাদ অর্থ- জন্মদিন আর নবী অর্থ নবী বা ঐশী বার্তাবাহক।

সমগ্র পৃথিবীর জন্য আল্লাহ’র রহমত হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছিলেন হযরত মোহাম্মদ (সঃ)।পরম সত্যের সন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত রেখে  ৪০ বছর বয়সে নবুয়াত লাভ করেন তিনি। তাই আজকের দিনটি সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

মহানবী (সঃ) মানব জাতির জন্য এক আলোক অনুসরণীয় আদর্শ। বিশ্বনবীর আবির্ভাবে পৃথিবীতে  ইহলৌকিক ও পরলৌকিক জগতের মুক্তির সন্ধান পায় মানুষ। সততা, মহানুভবতা, সহনশীলতা, ধৈর্য্য,  নিষ্ঠা ও অপরিসীম দুঃখ যন্ত্রনা ভোগ করে সারা বিশ্বে তাওহিদের বাণী ছড়িয়ে দেন মহানবী(সঃ)। আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগ দুর করে অত্যাচার ও জুলুম-নির্যাতন বরণ করে সত্য ও ন্যায়কে সুপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে বিশ্বকে আলোয় উদ্ভাসিত করেন তিনি। কদাচারে লিপ্ত আরবীয় সমাজে মহান আদর্শের সুষমা দিয়ে  তাদের একটি আদর্শ জাতিতে পরিণত করেন মহানবী(সঃ)।

অনাচারে লিপ্ত সমাজের সকল পঙ্কিলতা দুর করে শান্তির সুশীতল ছায়াতলে এনে দেন তিনি। অতুলনীয়  বিশ্বস্ততা, সীমাহীন দয়া ও ক্ষমার জন্য  মানবজাতির এক অনুকরণীয় আদর্শ মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সঃ)। পবিত্র মহানগ্রন্থ আল-কোরআন মহানবী (সাঃ) উপর অবতীর্ণ করেন আল্লাহ তা’আলা। যা মানব জাতির পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসাবে ইহলৌকিক ও পরলৌকিক মুক্তির যাবতীয় নির্দেশাবলী অনুসরণের মাধ্যমে মানুষকে পরিপূর্ণ ও মর্যাদাশীল করে তোলে।

এদিকে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইসলামিক সংগঠনগুলো দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে রয়েছে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবন নিয়ে আলোচনা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও মিলাদ মাহফিল। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক বিভাজক ও ট্রাফিক মোড়ে জাতীয় পতাকা ও কালিমা তায়্যিবা লেখা ব্যানার টানানো হয়েছে। কিছু ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে ।

ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে ধর্মীয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন পক্ষকালব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বায়তুল মোকাররম উত্তর প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা।

চট্টগ্রাম নগরীর ষোল শহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে বের করা হয়েছে ঈদে মিলাদুন্নবীর জুলশ। এটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সেখানে এসে শেষ হয়। আজ সরকারি ছুটির দিন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :