বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯

বৃষ্টি উপেক্ষা করে সৈকতে পর্যটক; বিপদ এড়াতে তৎপর লাইফগার্ডরা

প্রকাশ: ২০১৯-১১-১০ ১৬:৩৭:৪২ || আপডেট: ২০১৯-১১-১০ ১৬:৪৪:৪৪

কক্সবাজার প্রতিনিধি »  

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ খুলনা-বাগেরহাট-পিরোজপুর এলাকায় আঘাত হানার পর দূর্বল হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এখনো উত্তাল রয়েছে সাগর। কক্সবাজারে ভোর থেকে ঝলমলে রোদ থাকলেও দুপুর গড়াতেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। থেমে হওয়া বৃষ্টি স্থবির করে তুলেছে জনজীবন। কিন্তু বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে উদ্দিপনা নিয়ে সৈকতে গোসলে মত্ত হচ্ছেন সব বয়সী পর্যটকরা। ঢেউয়ের তোড়ে অনেকে গা এলিয়ে দিয়ে মজা নিচ্ছেন। আর স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে আনন্দটি দূর্যোগে পরিণত হওয়া রোধে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে হুশিয়ারি করছেন সী সেইফ লাইফগার্ড কর্মীরা।

সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া পর্যটকরাও স্বাভাবিক পরিবেশে নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ। এখনো তিন নম্বর সংকেত বলবত রয়েছে, আগামীকাল সংকেত কমলে জাহাজ সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রজ এন্ড ডাইয়িং এর ব্যবস্থাপক শাহ আলম।

এদিকে, কক্সবাজার সৈকতে বিপদাপন্ন পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করা সী সেইফ লাইফগার্ড’র সুপারভাইজার মো. ওসমান গনি জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবলের প্রভাবে শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টির পাশাপাশি সাগর প্রছন্ড রকম উত্তাল ছিল। টানা তিনদিনের ছুটিতে বেড়াতে আসা সিংহভাগ পর্যটক হোটেল রুমে, লবিতে বসে সময় কাটালেও কিছু পর্যটক তখনো সাগরে নেমেছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় অতিক্রম করেছে খুলনা এলাকায় অতিক্রম করার তথ্য জানার পর রোববার ভোর থেকেই সববয়সী পর্যটক সৈকতে নেমেছে। যে যারমতোই গোসল, হৈ হল্লুড় করে আনন্দ করছেন।

তিনি আরো জানান, ঘুর্ণিঝড়টি অতিক্রমের পর নি¤œচাপে পরিণত হলেও সাগর স্বাভাবিকের চেয়ে উত্তাল রয়েছে। এরই মাঝে সৈকতে সববয়সী পর্যটকরা গোসলে নামায় ভেসে যাবার শংকা আছে। পর্যটকদের বিপদাপন্ন পরিস্থিতি এড়াতে লাইফগার্ডকর্মীরা সতর্ক নজর রেখে চলেছে। যারা একটু বিপদ সীমা অতিক্রম করছেন তাদের কাছে গিয়ে নিরাপদ দুরত্বে নিয়ে আসা হচ্ছে।

ঢাকা থেকে স্বপরিবারে আসা বেক্সিমকো মিডিয়া লিমিটেডের ফাইনান্স বিভাগের কর্মকর্তা সাজ্জাদুল হক বলেন, শনিবারটা দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রুমেই বন্দি থাকতে হয়েছে। ঘুর্ণিঝড়ের আতংক কেটে যাওয়ায় সকাল থেকেই সবাই মিলে বিচে আনন্দ করেছি। ভোর থেকে ঝলমলে রোদ থাকলেও দুপুর গড়াতেই আবারো বৃষ্টিপাত একটু ভোগাচ্ছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেছেন, সেন্টমার্টিনে আটকপড়া পর্যটকরা নিরাপদে রয়েছেন। ঘুর্ণিঝড়ের দূর্যোগ থেকে নিরাপদ রাখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও সাইক্লোন শেল্টার এবং বহুতল হোটেল ভবনগুলোতে রাখা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পর্যটকদের স্বল্পমূল্যে আহার ও আবাসন নির্বিঘ্ন করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে সোমবার জাহাজ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন আটকাপড়ারা ফিরে যেতে পারবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সবকিছু দেখভাল করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ দূর্বল হয়ে নিম্বচাপে পরিণত হয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সাগর একটু উত্তাল রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যহত থাকতে পারে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি থেকে আল্লাহ কক্সবাজারবাসীকে রক্ষা করেছেন। যেকোন ধরণের দুর্যোগ এড়াতে প্রস্তুতি ছিল আমাদের। ৮ উপজেলায় ৫৩৮টি সাইক্লোন শেল্টার ও বহুতল ভবনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো খুলে রাখা হয়েছিল। স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বাড়ায় মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ উপকূলের নিচু এলাকায় কিছুটা পাবিøত হয়েছে বলে খবর পাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের এসব বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া আছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, জেলার আইন-শৃংখলার নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ নজর রেখে মাঠে রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। ট্যুরিষ্ট পুলিশের পাশাপাশি পর্যটন এলাকাতেও আমাদের দৃষ্টি রয়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :