বাংলাদেশ, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯

মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় মাঈনউদ্দিন খান বাদল

প্রকাশ: ২০১৯-১১-১০ ১৩:২৪:৩৭ || আপডেট: ২০১৯-১১-১০ ১৩:২৪:৪৫

বাংলাধারা প্রতিবেদন »  

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সংসদ সদস্য মাঈনউদ্দিন খান বাদল। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর সারোয়াতলী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে শনিবার রাতে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তার জানাজায় অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। প্রিয় সংসদ সদস্যকে চোখের জলে বিদায় দেন তারা।

মাঈনউদ্দিন খান বাদল বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের বেঙ্গালুরুর নারায়ণ হৃদরোগ রিসার্চ ইন্সটিটিউট অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। একাদশ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আংশিক) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাসদ একাংশের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন বাদল। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে শনিবার বাদ মাগরিব চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মাঈনউদ্দিন খান বাদলের নামাজে জানাজা। এতে অংশ নেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে তার মরদেহ নেয়া হয় নিজ নির্বাচনী এলাকা বোয়ালখালী উপজেলায়। রাত ৮টায় বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ মাঠে এবং রাত ৯টায় সারোয়াতলী গ্রামের বাড়িতে আরেক দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভী, মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম, সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল দোভাষ, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, সিএমপি কমিশনার মাহাবুবর রহমান, জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।

এর আগে সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মাঈনউদ্দিন খান বাদলের প্রথম জানাজা হয়। পরে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয় এই মুক্তিযোদ্ধাকে। পুলিশের একটি চৌকস দল তার প্রতি রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। পরে তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেন তার ছেলে তাইমুর নূর।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব এসএম শামিম উজ জামান প্রয়াত বাদলের কফিনে শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাদলের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে দলের পক্ষ থেকে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াও শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ জাসদের এই নেতার প্রতি। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় পার্টির নেতা ফখরুল ইমাম। ফুলেল শ্রদ্ধা জানান প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে সংসদের সব হুইপ। ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে জোটের নেতারা বাদলের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী মো. শাহাবুদ্দিন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ, ফজলে নূর তাপস, এবি তাজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, নজরুল ইসলাম বাবু, শফিকুল ইসলাম শিমুল, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জাসদের শিরীন আখতার।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :