বাংলাদেশ, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০

পর্যটকদের সর্বস্ব ছিনতাই, কাউন্সিলরের অনুসারী ২ ছিনতাইকারী আটক

প্রকাশ: ২০২০-০১-০৫ ১৪:৪১:১৩ || আপডেট: ২০২০-০১-০৫ ১৪:৪১:১৯

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

পর্যটকদের ছিনতাই করতে গিয়ে মোটর সাইকেলসহ ধরা পড়েছে দুই ছিনতাইকারী। তারা কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড কলাতলী এলাকার পৌর কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহমদ বাবু ও তার ভাই কাজী রাসেলের অনুসারী বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

ছিনতাইকারিরা পর্যটকদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইলসহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে যাবার কালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মোটর সাইকেলসহ প্রথমে একজন আটক হন। পরে পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া মোটর সাইকেল মালিককেও আটক করে।

আটককৃতরা হলো কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলীর সাবেক মেম্বার হাসান আলীর ছেলে আবদুল্লাহ মিটু (৩৩) একই এলাকার আহমদ আলী মেম্বারবাড়ির শামশুল আলমের ছেলে মো. আসিফ (২৩)।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলাতলী-বাহারছরা সংযোগস্থল পাসপোর্ট অফিস এলাকায় এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন দূর্ভোগে পড়া পর্যটক আসাদুল ইসলাম (২৩)। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চান্দরা ইউনিয়নের চান্দরা পূর্বপাড়ার মো. তাইজ উদ্দিনের ছেলে এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার পিটিসি পানিসেল বিকেএসপির মাছিহাতা সোয়েটার লিমিটেডের কোয়ালিটি ইন্সপেকশন কর্মকর্তা।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, গাজীপুরের জয়দেবপুরের মাছিহাতা সোয়েটার লিমিটেডের কর্মীরা শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) কক্সবাজার বেড়াতে এসে কলাতলীর ওয়াটার অর্কিড নামে হোটেলে উঠেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সহকর্মী মৌসুমী আকতারসহ বার্মিজ মার্কেট যেতে রিক্সায় উঠেন। রিক্সাটি বাহারছরা গোলচত্বর পাসপোর্ট অফিস এলাকায় পৌছালে মোটর সাইকেলে দুজন এবং দাঁড়ানো অবস্থায় দু’জনসহ ৪ ছিনতাইকারি তাদের গতিরোধ করে।

‘গলায় ছুরি ধরে ছিনতাইকারিরা তাদের কাছে থাকা স্মার্টফোন, নগদ টাকাসহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছিল। এমন সময় সামনে মুক্তিযুদ্ধা চত্বরে জনসমাগম দেখে সহযোগিতা চেয়ে চিৎকার করলে তারা এগিয়ে আসে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে মোটর সাইকেল থেকে নেমে যাওয়া একজনসহ তিনজন পালিয়ে গেলেও মোটর সাইকেলসহ আসিফ ধরা পড়ে। স্থানীয়রা ডিপি পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মোটর সাইকেলসহ ছিনতাইকারিকে নিয়ে যান। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে মোটর সাইকেল মালিক আবদুল্লাহ মিটুকে গভীররাতে বাড়ি থেকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মোবাইল, নগদ টাকাসহ সবকিছু উদ্ধার হয়।’

অভিযোগকারী আসাদুল ইসলাম বলেন, দু’জনকেই ডিবি কার্যালয়ে এনে আমাদের সামনেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানেই ছিনতাইকারিরা অপকটে স্বীকার করেছেন তারা ১২ ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবু, কাজী রাসেল ও শাহেদের অনুসারী। বাবু ও তারভাই রাসেলের নির্দেশে সব ধরণের অপকর্ম করে থাকেন তারা।

কক্সবাজার ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আবদুল্লাহ মিটু নিজেকে এক্স ছাত্রলীগ এবং বর্তমানে যুবলীগ নেতা হিসেবে দাবি করেছে। আটকদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহমদ বাবু বলেন, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা হাসান মেম্বারের ছেলে আবদুল্লাহ মিটুর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তার অপরাধকর্মে সে হয়ত আমার নাম বলেছে। এটা সঠিক নয়। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে এসপিকে অবহিত করা রয়েছে।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শাহজাহান কবির বলেন, আটক ছিনতাইকারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :