বাংলাদেশ, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০

ক্ষোভ থামাতে নাগরিক সভায় পৌর মেয়র ও কউক চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ২০২০-০১-১৪ ১৪:১২:৪৮ || আপডেট: ২০২০-০১-১৪ ১৪:১২:৫৫

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

বছরেরও বেশি সময় ধরে কক্সবাজার শহরের প্রধান ও উপসড়কগুলো খানা-খন্দকে চলাচল অনুপযোগী। বৃষ্টি হলে গর্তগুলো মিনি জলাশয়ে রূপ নেয়। স্বাভাবিক সময়ে চলতে হয় ঢেউয়ের তালে। এতে ইজিবাইক (টমটম) ও রিকশা উল্টে দূর্ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিনিয়ত। শরীর ব্যাথা হয়ে অসুস্থ হয় নারী-শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা।

প্রধান সড়কটি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও উপসড়কগুলো মেরামতের দায়িত্ব কক্সবাজার পৌরসভার। ক্ষত-বিক্ষত প্রধান ও উপসড়কের ভোগান্তি নিয়ে বেড়ে যাওয়া ক্ষোভ ঝাড়তে নাগরিক সভার আয়োজন করে শহরবাসী। সোমবার বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাব মাঠে আয়োজিত এ সভায় শুধু প্রধান সড়ক নয়; শহরের উপসড়ক, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ক্ষোভ ঝেরেছেন ভুক্তভোগীদের  প্রতিনিধিরা।

সেই সভার কথা জানতে পেরেই এতে হাজির হন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান। নিজেদের অপটুতা এবং ব্যর্থতার কথা তুলে ক্ষোভ ঝাড়ার পাশাপাশি কোন কর্মসূচী আসতে পারে ভেবে তা থামাতে দু’প্রতিষ্ঠানের দু’মাথা সভায় হাজির হন বলে গুঞ্জন তুলেন ভুক্তভোগীরা। 

সভায় বক্তারা বলেন, কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের যে দশা হয়েছে তাতে যানবাহন দূরে থাক জনচলাচলও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রধান সড়কের ভোগান্তি এড়াতে উপসড়কে গেলে সেখানে দূর্ভোগ আরে বাড়ে। রোগী ও শিক্ষার্থীসহ সর্ব স্তরের মানুষই কষ্টে ভুগছে। দিনের পর দিন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে দেয়ালে পিট ঠেকে গেছে অধিবাসীদের। এই পরিস্থিতিতে আর প্রতিশ্রুতি নয়;  প্রধান সড়কের ভঙ্গুর দশা দ্রুত  সংস্কার না হলে শহরবাসী আর বসে থাকবে না। রাস্তায় নেমে আসবে সর্বস্তরের মানুষ।

তারা আরো বলেন, শহরের খানা-খন্দে ভরে উপ-সড়কেও উন্নয়নের ব্যবস্থা নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নাজুক। প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। মেয়র মুজিব নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক প্রতিশ্রুতি শুনিয়েছেন, যা শুধু পত্রিকার পাতা ভরেছে। 

বক্তাদের মতে, পর্যটন নগরী হলেও যোগাযোগের নাজুকতা ও অস্বাস্থ্যকর  নগরীর তকমা দেশজুড়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এভাবে চললে এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে পর্যটকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সজাগ না হলে মুখ থুবড়ে পড়বে কক্সবাজার।

বক্তারা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পেয়ে উন্নত পর্যটননগরী হবার আশায় বুক বেধেছিল কক্সবাজারবাসী। কিন্তু প্রতিশ্রুতির আশানুরূপ বাস্তবায়ন একটুও হয়েনি। আমরা চরম হতাশ। প্রধান সড়কটি অন্তত সংস্কার করে শহরবাসীকে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিন।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানকে উদ্দেশ্য করেও একই কথা বলেন শহরের সমস্যাগুলো নিরসন করতে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে আল্টিমেটাম বেঁধে দেন বক্তারা। 
জবাবে মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, আমি জনগণের জন্যই আমার জীবনটা ত্যাগ করে আসছি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে পৌরবাসীর জন্য কাজ করছি।

ইতোমধ্যে পৌরসভার বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। উপ-সড়ক সংস্কারের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ, শিগগিরই কাজ শুরু হবে। আমি নির্বাচিত হবার পর থেকে পৌরসভার একটি টাকাও তছরুপ করিনি। আপনারা নিরাশ হবে না। সবার পরামর্শ মতে কাজ করে আপনাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে দেখাবো ইনশাল্লাহ।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজার নিয়ে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কউক। ইতিমধ্যে পরিকল্পনা বাস্তয়ান শুরু হয়েছে। অত্যাধুনিক করতেই প্রধান সড়কটি কউক’র নিয়ন্ত্রণে দেয়া হয়েছে। একনেকে প্রকল্প পাশ হয়েছে, এখন শুধু কাজ শুরুর অপেক্ষা। কিন্তু তার আগেই জরুরী ভিত্তিতে এই সড়ক সংস্কার করা হবে। প্রতিনিয়ত এই সংস্কার কাজ অব্যাহত থাকবে। যতবার খানা খন্দ হতে ততবার সংস্কার করা হবে। দয়া করে আপনারা আমার সাথে থাকবেন। এখানের সভা শেষে তিনি সন্ধ্যার পর কউক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।    

সভায় সিনিয়র সাংবাদিক ও জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি তোফায়েল আহমদ, সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পদাাক এড. রনজিৎ দাশ, সাংস্কৃতিকক সম্পাদক এড. তাপস রক্ষিত, এড. আয়াছুর রহমান, কক্সবাজার চেম্বার সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল কুদ্দুস রানা, দৈনিক কক্সবাজারের পরিচালনা সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর সভাপতি মমতাজ উদ্দীন বাহারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রাসেদুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল, জেলা জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন সিকদার, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু, সকালের কক্সবাজারের সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :