বাংলাদেশ, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২০

পটিয়া বাইপাস সড়ক যেন মরণফাঁদ, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা

প্রকাশ: ২০২০-০১-১৪ ১৩:১৫:৪০ || আপডেট: ২০২০-০১-১৪ ১৩:১৫:৫০

কাউছার আলম, পটিয়া »

কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস সড়কটি মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে। এতে প্রতিদিন একের পর এক ছোট বড় দুর্ঘটনায় ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ ও পঙ্গু হচ্ছে অনেকে। সড়কটি উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত অর্থাৎ বিগত ছয় মাসে এতে কমপক্ষে সাতজন নিহত ও অসংখ্য সাধারণ মানুষ আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছে।

পটিয়া পৌরসভার শহর এলাকার যানজট নিরসন ও পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও বান্দরবানের দূরপাল্লার যানবাহন গুলোর বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করার জন্য চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের ইন্দ্রপুল এলাকা থেকে চক্রশালা পর্যন্ত ৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার এ বাইপাস সড়কটি নির্মাণ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এতে মোট ব্যয় হয় ৮৭ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা।

চলতি বছরের ৩০ জুন সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। দূরপাল্লার যাত্রীদে দুর্ভোগ লাঘবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১০ আগস্ট বাইপাস সড়কটি চালু করা হয়। জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য এসময় সাময়িকভাবে সড়কটি খুলে দেন। পরে গত ১৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

পটিয়া বাইপাস সড়কটি চালু হওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যোগাযোগ ক্ষেত্রে নবদিগন্ত সূচিত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনকালে অভিমত প্রকাশ করেন। বর্তমানে এ সড়কটি চালু হওয়ায় দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে পটিয়া সদরে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে পড়তে হচ্ছে না। এমন কি এর ফলে তাদের সময় ও দূরত্ব দুই কমে এসেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে সড়কটি চালু হওয়ার পর থেকে এ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।

বিশেষ করে গ্রামীণ নয়টি সড়ক নতুন বাইপাস সড়কের সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রতিদিন শত শত স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, চাকুরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, রাস্তা পারাপার এবং সড়ক বিভাজকের মোড়ে গাড়ি ঘুরানোর সময় অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কটি নিরাপদ করতে এলাকাবাসী ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারক লিপি দিয়েছে।

স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাইপাস সড়কটি সরলীকরণ না করায় ১০ থেকে ১২টি বাঁক সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কটি চালু হওয়ার পর থেকে ১০ জন পথচারী ও যাত্রী নিহত এবং আহত হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক সাধারণ মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ছয় মাস প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী, একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী, অটোরিকশা, বাসযাত্রীসহ সাতজন নিহত হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, পটিয়া বাইপাস সড়কের সঙ্গে নয়টি সংযুক্ত সড়ক রয়েছে। সংযুক্ত আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক দিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ নানা ধারনের ছোট যানবাহন চলাচল করে। সড়ক লাগোয়া বসতবাড়ি ও একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আনোয়ারা রাস্তার মাথা, বৈলতলী সড়ক, ভাটিখাইন সড়ক ও কচুয়াই শ্রীমাই সেতু, দক্ষিণ ঘাটা, সড়ক এলাকা। বাইপাস সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় দেখা গেছে, দ্রুত গতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে সংযুক্ত সড়কের গ্রামের ছোট গাড়িগুলো কিংবা পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। রাতের দিকে বাতি না থাকায় অনেক ছোট গাড়ির ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লাগছে। এতেও দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ভাটিখাইন হযরত মির্জা আলী লেদু শাহ্ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুল মাবুদ ইসলামাবাদী বলেন, এ সড়কটি অনেক ক্ষেত্রে জনগণের জন্য সুফল বয়ে এনেছে। কিন্তু এটি নির্মাণের সময় গ্রামের সংযুক্ত সড়ক লাগোয়া জায়গায় আন্ডারপাস কিংবা ওভার ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি না থাকায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি স্থানীয় জনগণের সড়ক পারাপারের নিরাপত্তা বিধানে অবিলম্বে কার্যকরী ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক বিভাগের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

সড়কে আটটির মত চৌমহনি আছে । যেখানে বাইপাস সড়কের বিভাজকের মোড়ে গাড়ি ঘোরানোর সময় দ্রুত গতিতে আসা বড় গাড়ির সঙ্গে ছোট গাড়ির ধাক্কা লাগার কারণে প্রাণ হানির মতো ঘটনা ঘটছে।

পটিয়া পরিবেশ আন্দোলন আহ্বায়ক মহি উদ্দিন বকুল বলেন, পটিয়া বাইপাস সড়কটিতে গাড়ি চলাচলের গতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে না। ফলে চালক তার গাড়ির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ব্যার্থ হয়। তিনি এ সড়কে যানবাহন চলাচলের গতিসীমা নির্ধারণ ও আপাতত স্প্রীট ব্রেকার দেওয়ার জন্য সওজ বিভাগের দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

ভাটিখাইন ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বখতিয়ার বলেন, পটিয়া বাইপাস সড়কটি আমার ইউনিয়নের ওপর দিয়ে যাওয়ায় আমার ইউনিয়নের লোকজন সবচেয়ে বেমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি পরিকল্পিতভাবে যদি সংস্কার করে দুর্ঘটনা মুক্ত করা না হয় তাহলে মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকবে।

পটিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান বলেন, বাইপাস সড়কে নির্দিষ্ট গতির চেয়ে বেশি গতিতে বড় গাড়ি চলাচল করে। এমন কি একটি গাড়ি আরেকটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়েও দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ধরণের ঘটনা আমার চোখে পড়ায় আমি একটি গাড়ির চালকে ইতি মধ্যে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছি। বর্তমানে মহা সড়কে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে।

দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ বলেন, গ্রামের চারটি সংযুক্ত সড়কের যানবাহন বাইপাস সড়কে উঠে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা দুর্ঘটনা এড়াতে সড়ক বিভাজক মোড়ের দুই পাশে ৩ ফুট করে সড়ক চওড়া করার কাজ শুরু করেছি আর মহাসড়কে পাঁচটি করে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপন করেছি। আমার বিশ্বাস এতে দুর্ঘটনা কমে আসবে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :