বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২০

সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় মাধ্যম নাটক; চবিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০২০-০১-১৬ ১২:০০:২৬ || আপডেট: ২০২০-০১-১৬ ১২:০০:৩২

চবি প্রতিনিধি »

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় মাধ্যম নাটক। সংকট হলে নাটক মঞ্চস্থ হয়। সফল নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে জাতির জাগরণ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, আমরা আশা করি স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি যে নিশ্বাস এখনও ফেলছে, যে হায়েনার হাত আমাদের দিকে আগাচ্ছে তার নির্মূল হবে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নাট্যকলা বিভাগ আয়োজিত তিন দিনব্যাপি নাট্যোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের পর আটচল্লিশ সালে এসেই বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারলেন এটি আমাদের দেশ না। তাই তিনি সংগ্রাম শুরু করলেন। যেন একটি নাটক। বঙ্গবন্ধু আটচল্লিশ সালে যে স্ক্রিপ্ট রচনা করেছিলেন সেটি সফল মঞ্চায়ন হয়েছিল ২৬শে মার্চের সকালে।

উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, বঙ্গবন্ধু পরাধীন জাতিকে একাত্তরে মুক্তির শ্বাস নিতে দিয়েছেন। তাঁরই অনুপ্রেরণায় আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি, মুক্তি পেয়েছি। চবিতে এখন উন্মুক্তমঞ্চে আয়োজন করতে পারছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, চবি ক্যাম্পাসে প্রায় ২১ বছর ধরে বাঙালি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংস্কৃতি চর্চার উপায় ছিল না। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পিছনে সংস্কৃতি এবং রাজনীতি হাত ধরে পথ চলেছিল।

‘ক্যাম্পাসগুলোতে সংস্কৃতি আর জ্ঞান চর্চার সমন্বয় ঘটাতে না পারলে সেই পরিস্থিতি আবার ফিরে আসবে। কাজেই এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হবে। বাঙালির চিরায়ত উদার মানবিকতাবাদী সংস্কৃতিটাকে লালন করতে হবে। এটি অসাম্প্রদায়িক, বর্ণবাদবিরোধী, আঞ্চলিকতাবিরোধী। সমগ্র মানুষ ঐক্যবদ্ধ করার একটি চেতনা।’

এছাড়াও বিভাগের সভাপতি শামীম হাসানের সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কলা ও মানববিদ্যা আনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী।

এর আগে ‘মুক্তির চেতনায় শিল্পীত সৃজন’ এই প্রতিপাদ্যে বুধবার শুরু হয় বিভাগের ৪র্থ বার্ষিক এই উৎসব। সকাল ১১ টায় র‍্যালির মাধ্যমে উৎসবের প্রথম দিনের আয়োজন শুরু হয়। দুপুর ১২.৩০ মিনিট থেকে জিয়া হায়দার স্টুডিওতে মঞ্চস্থ হয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের ২টি প্রযোজনা ‘মোহভঙ্গ’ ও ‘পূজোর সাজ’।

সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিভাগের শিক্ষিকা ফাহমিদা সুলতানা তানজীর পরিচালনায় উন্মুক্ত মঞ্চে ‘বোধন আনন্দ’ পরিবেশনার মাধ্যমে উদ্বোধনী আহ্বান করা হয়।

পরে বিভাগের শিক্ষার্থী নোভা চক্রবর্তীর হাতে নাট্যকার অভিনেতা শান্তুনু বিশ্বাস শিক্ষা বৃত্তি তুলে দেন প্রধান অতিথি কেএম খালিদ।

রাতে উন্মুক্ত মঞ্চে বিভাগের শিক্ষিকা ফারজানা আফরিন রুপার নির্দেশনা ও নাট্যকলা বিভাগের প্রযোজনায় নাটক ‘যৈবতী কন্যার মন’ মঞ্চায়নের মাধ্যমে প্রথম দিনের আয়োজন সমাপ্ত হবে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :