বাংলাদেশ, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব প্রার্থী ও সদস্যরা: আগামিকাল সিইউজের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন, বৃহস্পতিবার ভোট

প্রকাশ: ২০২০-০১-২৮ ১৭:৪১:১৮ || আপডেট: ২০২০-০১-২৮ ১৯:০২:২৩

তারেক মাহমুদ »

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে আগামীকাল বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে’র) দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন, কৃতি সাংবাদিক সংবর্ধনা ও বার্ষিক সাধরণ সভা।

সম্মেলন উদ্ধোধন করবেন সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দিন।

এদিকে আগামি ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সিইউজে’র দ্বি বার্ষিক নির্বাচনে ৯টি পদে ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্ধন্ধীতা করছেন।

নির্বাচনে সভাপতি পদে অবজারভারের মোস্তাক আহমদ, দি ফিনান্সিয়াল এক্্রপ্রেসের নাজিমুদ্দীন শ্যামল, একাত্তর টিভির মাঈনুদ্দীন দুলাল, পূর্বকোণের মোহাম্মদ আলী।

সিনিয়র সহ সভাপতি পদে আলোকময় তলাপাত্র, কর্ণফুলীর মুজাহিদুল ইসলাম ও পূর্বদেশের রতন কান্তি দেবাশীষ। সহ সভাপতি পদে গাজী টিভির অনিন্দ্য টিটো, পূর্বকোণের আবসার মাহফুজ ও সি প্লাস টিভির আলমগীর অপু।

সাধারণ সম্পাদক পদে একুশে টিভির মো হাসান ফেরদৌস ও দেশ রুপান্তরের ম. শামসুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক পদে-আজাদীর সবুর শুভ , সিপ্লাস টিভির স্বরূপ ভট্টাচার্য।

অর্থ সম্পাদক পদে আজাদীর কাশেম শাহ, নুর উদ্দিন আহমেদ ও সৌমেন ধর।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পূর্বকোণের এসএম ইফতেখারুল ইসলাম ও ভোরের কাগজের প্রীতম দাশ।

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে বাংলা নিউজের আল রাহমান, ইন্ডিপেন্ডেট টিভির ইফতেখার উদ্দীন,এটিএন বাংলার মো. ফরিদ উদ্দীন ও পূর্বদেশের রাহুল কান্তি দাশ।

নির্বাহী সদস্য পদে পূর্বদেশের আবুল হোসাইন, আবদুর রউফ পাটোয়ারী, জয় নিউজের বিশু রায় চৌধুরী ও বিএনএর’র মো. মহররম হোসাইন প্রতিদ্ধন্ধীতা করছেন।

চার শতাধিক ভোটার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িদ্ব পালন করছেন সিনিয়র সাংবাদিক জসীম চৌধুরী সবুজ, সদস্য যথাক্রমে সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ নিযাম উদ্দিন, মুহাম্মদ মোরশেদ আলম, মুহাম্মদ শামসুল হক ও মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ।

এদিকে সিইউজের নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সরব ভোটার আর প্রার্থীরা। ফেসবুকে সিনিয়র সাংবাদিক ও দেশ রুপান্তরের ব্যুরো প্রধান ফারুক ইকবাল লিখেছেন, আমাদের প্রিয় মাতৃ সংগঠন – চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন। এই সংগঠনকে আমরা সকলে অন্তরে ধারণ করি প্রতিনিয়ত। এটি কর্মরত এবং কর্মচ্যুত বা বেকার – সকলের রুচিরুজি সুরক্ষার এবং ন্যায় ও আইনসঙ্গত দাবী আদায়ের একমাত্র সংগঠন। এই প্রানপ্রিয় সংগঠনকে একতায়, ভালোবাসায় এগিয়ে নেওয়ার দায়-দায়িত্ব আমাদের সকলের। ৩০ জানুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার নিবেদন, এখানে যথাযথ নেতৃত্ব নির্বাচনে সচেতনতা আবশ্যক। এক্ষেত্রে, কোন লোভ – লালসা যেন কোনভাবেই আমাদের গ্রাস কিংবা বশীভূত না করে। আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে কারোর কোন জবাবদিহিতা থাকবেনা। তাই, একটি সুন্দর আগামীর চিন্তায় আমাদেরকে সকল ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী চিন্তার ঊর্ধে থেকে পবিত্র জ্ঞানে ভোটটি প্রদান করতে হবে। আমি কাউকে কোন জ্ঞান বা নসিহত দিতে চাইনা। অতোটা ধৃষ্টতা আমার নেই। শুধু বলি, আমরা সজ্ঞানে ভোট দিই। চমৎকার একটি নির্বাচন হোক। সুন্দর ও গতিশীল একটি নেতৃত্ব আসুক, বিশেষ করে যাঁদের নেতৃত্বগুণ আছে। সবার জন্য শুভ কামনা এবং ভালোবাসা রইলো।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার সাইদুল ইসলাম লিখেছেন, কান পড়া দিবেন না। যথেষ্ট ঝামেলায় আছি…….. নির্বাচন এলেই অনেকেই অনেক রকম কথা বলেন। তবে সকল সম্মানীত ভোটার যথেষ্ট সচেতন। এখানে আশার বাণী নয়, প্রকৃত যোগ্যরাই নেতৃত্ব দিবেন সেটাই আশা করছি। প্রবীনরা অনেক কিছুই জানেন, কিন্তু ব্যক্তি স্বার্থে তরুন ভোটারদের মাঝে উসকানিমুলক তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না। এক কথায় সব ভোটাররাই সচেতন। ইতিমধ্যে কাকে ভোট দিবেন, কাকে দিবেন না, চূড়ান্তভাবে ঠিক করে ফেলেছেন। অনেকেই কান পড়া দেয়া শুরু করেছেন। শুধু শুধু প্রবীন-নবীন, সিনিয়র, জুনিয়র এবং বন্ধু ভোটারদের মাঝে দয়া করে সর্ম্পক নষ্ট করবেন না। আমরা যথেষ্ট ঝামেলায় আছি। প্লিজ প্লিজ।

নাগরিক টিভির সিনিয়র রিপোর্টার একে আজাদ লিখেছেন, চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের বৃহৎ সংগঠন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে’র) আসন্ন নির্বাচন আগামি ৩০ জানুয়ারী। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। বিগত দিনের সাংগঠনিক কর্মকান্ড নিয়ে চলছে আলোচনা-সমলোচনা। এটা অস্বাভাবিক কিছুনা। সাধারণ সদস্য হিসেবে কিংবা এক সময়ের ইউনিট প্রতিনিধি হিসেবে কিছু মতামত তুলে ধরছি। নির্বাচন আসলেই অনেকেই প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। এটা অধিকার। এ বিষয়ে আমার বক্তব্য হচ্ছে, সাংবাদিক ইউনিয়ন একটি ট্রেড ইউনিয়ন। এটা বিনোদন ক্লাব নয়। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে মাঠে থাকার মনোবল যাদের রয়েছে তাদেরই এখানে প্রার্থী হ্ওয়া উচিত। আর যদি অন্য কোন উদ্দেশ্যে কেউ প্রার্থী হতে চায়, তাদের ব্যাপারে কি আর বলবো! নেতৃত্ব দিতে হলে লেখাপড়া জানা প্রয়োজন। লেখাপড়া বলতে আইনের বিষয়টিকে বলছি। শ্রম আইন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র না জেনে নেতৃত্বে দিতে আসা উচিত নয় বলে মনে করছি। নির্বাহী পরিষদের সকলেই আইনের ব্যাপারে সজাগ থাকলে সংগত কারনে বেআইনী কর্মকান্ড হ্ওয়ার সম্ভবনা থাকে কম। চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়নের আন্দোলনে সিইউজের অনেক নেতার অবদান রযেছে। কারো নাম এখানে উল্লেখ করছিনা। এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করতেই হয় লোকাল হাউসে আমরা যারা কাজ করেছি আমরা জানি ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়নে কৌশলী এবং বলিষ্ট নেতৃত্ব কতটা প্রয়োজন। তাই লোকাল কাগজের সাংবাদিকরা ভোট প্রয়োগের ক্ষেত্রে বলিষ্ট নেতৃত্বকে সঙ্গত কারনেই বেছে নেয়। জাতীয় কাগজ এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কর্মরত গনমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি বুঝেনা তা কিন্তু নয়। তাদের ক্ষেত্রে সিইউজের সীমাবদ্ধতার কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই। এসব কথার বলার মানে হচ্ছে, আমাদের ভোটারদেরও সচেতন হ্ওয়া উচিত। ঘনিষ্ট বন্ধু বা সহকর্মী কিংবা আত্মীয় ভোটে দাঁড়িয়েছে, যোগ্য না হলেও তাকে ভোট দিতে হবে এমন মানসিকতা পরিহার করতে হবে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই এমনটা বলছি। নির্বাচনে দৃশ্যমান প্যানেল না দেখলেও ভেতরে ভেতরে প্যানেল হয়ে যায়। এটা দোষের কিছুনা। যারা এই প্যানেলটি সাজাতে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করেন তাদেরকে অনুরোধ করছি, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে মাঠে থাকার পাশাপাশি সংগঠনকে যিনি এগিয়ে নিতে পারবেন তাকেই প্রার্থী করতে উৎসাহিত এবং সহযোগিতা করে সংগঠনকে গতিশীল করুণ। গণমাধ্যমে চলমান অস্থিরতার এ সময়ে আশা করছি, সিইউজের ৪ শতাধিক সচেতন ভোটার এবার বেছে নিবে বলিষ্ট নেতৃত্ব। যাদের নেতৃত্বে আরো গতিশীল হবে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন।

সমকালের স্টাফ রিপোর্টার শৈবাল আচার্য লিখেছেন, সম্মানিত প্রার্থী ভোট চাওয়ার জন্য ফোন করে প্রতিদ্ধন্ধী প্রার্থী শিবির কিংবা বিএনপি কর্মী ছিলেন ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে এ ধরনের কথা না বললে তরুণ ভোটাররা বেশি খুশি হবে। নির্বাচনে কে যোগ্য, কে অতিথি পাখি ও কোন প্রার্থী গলাবাজিতে এক্সপার্ট সে বিষয়ে যথেষ্ট বোঝাপড়া ভোটারদের আছে। নির্বাচনকে ঘিরে পেশার অমর্যাদা ও চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজকে অসম্মানিত করবেননা প্লিজ……..

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :