বাংলাদেশ, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামে পাশে ছিলো এদেশের সংবাদপত্র : অনুপম সেন

প্রকাশ: ২০২০-০১-২৯ ১৭:০২:৫৭ || আপডেট: ২০২০-০১-২৯ ১৭:২৭:৪৩

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামে পাশে ছিলো এদেশের সংবাদপত্র। সাংবাদিকদের বড় ভূমিকা ছিলো। একাত্তরে সংবাদ ভবন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। একজন সাংবাদিক সেই আগুনে পুড়ে শহীদ হন। ২৫ মার্চ রাতে একজন সাংবাদিক মারা যান। নিপীড়ন তুচ্ছ করে সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বাংলার মুক্তির সংগ্রামে সাংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। মুজিব বর্ষে সেই সাংবাদিকদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কৃতি সাংবাদিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা। কারণ তিনি বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে জনগণের রাষ্ট্র, প্রজাতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তাটির সাইক্লোস্টাইলে ছাপানো কপি আন্দরকিল্লার আজাদী অফিসে দেখেছি। চবির বাংলার অধ্যাপক আবু জাফর আমার সঙ্গে ছিলেন। তিনি বেশ কিছু কপি নিয়েছিলেন। সেই কপি চবির মুক্তযুদ্ধ জাদুঘরে দিয়েছিলেন। এগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে জানি না।

ড. সেন বলেন, ১৯৬০ সালে সিইউজের জন্ম। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, কঠোর ও কঠিন সময় ছিলো। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের কারণে কণ্ঠরোধ অবস্থা। কথায় কথায় বেত্রাঘাত চলতো। সেই সময় প্রতিবাদ জানিয়েছিলো সংবাদপত্র। ঢাকার ইত্তেফাক বাংলার জনগণের ক্ষোভ নানাভাবে প্রকাশ করেছিলো। প্রচ্ছন্নভাবে প্রকাশ করতে হয়েছিলো। বাষট্টির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিক্ষোভে আমি অংশ নিয়েছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন সাংবাদিকরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে অনেক বছর ধরে আছি। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকরা, গণমাধ্যম। সাংবাদিকতা না থাকলে সমাজে সাম্য, ভারসাম্য থাকতো না। ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মেয়র বলেন, সাধারণ মানুষকে দেশের সব কাজে সক্রিয় করতে হবে। বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে উজ্জীবিত করে মুক্তিযুদ্ধের পথে ধাবিত করেছিলেন৷ এখন দেশপ্রেম কাজ করে জাতীয় দিবসে। জনসম্পৃক্ততা বাড়লে সাফল্য আসবে।

নগরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ২ বছর মাইকিং করেছি, ২০ লাখ লিফলেট বিলি করেছি কিন্তু আশানুরূপ সাড়া পাইনি। এ নগর আমরা যারা বাস করছি তাদের। এ দেশকে গড়তে, সুন্দর, নিরাপদ বাসযোগ্য করতে সব সংকীর্ণতা পরিহার করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। সাংবাদিকরা সোচ্চার হলে দেশ এগিয়ে যাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, দেশে দেয়ালের পর দেয়াল। জাতির একমাত্র ভরসা প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এখন দেশে গণমাধ্যমের রমরমা অবস্থা, কিন্তু সাংবাদিকদের বেহাল অবস্থা। এতদিন ইউনিয়ন যে প্রক্রিয়ায় চলছে সেভাবে চললে হবে না। চাকরির নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। সর্বজন গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে আসতে হবে। চট্টগ্রামের কাছে আমি অনেকভাবে ঋণী। যতদিন বেঁচে থাকবো চট্টগ্রামকে বুকে ধারণ করবো।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিক সমাজ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। নবম ওয়েজবোর্ডে দুইটি পক্ষ। একটি সরকার, অন্যটি নোয়াব। সিইউজের সাধারণ সম্পাদক ওয়েজবোর্ড নিয়ে মামলা করেছেন। তিনি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা ভালোবাসার বন্ধনে জড়াতে চাই। সিইউজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আভিজাত্য রয়েছে। অঞ্জন কুমার সেন সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে কিংবদন্তি। আবু সুফিয়ান সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করেছেন। অনেক প্রবীণ সাংবাদিক এখানে আছেন, যারা সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামকে বেগবান করেছেন।

এবার কৃতি সাংবাদিক হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক নওশের আলী খান এবং প্রবীণ সাংবাদিক ও নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজীকে। প্রদীপ দেওয়ানজীর হাতে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথি।

সংবর্ধিত সাংবাদিকদের পরিচিতি পাঠ করেন যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ। সভা পরিচালনা করেন সিইউজে সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সিইউজের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার সিইউজে’র ৪০৫ জন সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :