বাংলাদেশ, বুধবার, ২৭ মে ২০২০

প্রশাসক নিয়োগ হচ্ছে যুবকে, প্রস্তাব অনুমোদন

প্রকাশ: ২০২০-০২-০৯ ১৮:২৫:৪৫ || আপডেট: ২০২০-০২-০৯ ১৮:২৫:৫১

বাংলাধারা ডেস্ক »

যুব কর্মসংস্থান সোসাইটির (যুবক) ৬ হাজার কোটি টাকার বেদখল সম্পত্তি সরকারি হেফাজতে নিয়ে তা বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে প্রশাসক। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শিগগির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া। প্রশাসক সরকারের অধীন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে তিন লাখ গ্রাহকের পক্ষে কাজ করবে। যুবকের কাছে তাদের দায়দেনা হিসাব করে তা পরিশোধ করবে। এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্রমতে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের পাওনা টাকা ফেরত পেতে অর্থমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকা ও সহযোগিতা চাওয়া হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম সারসংক্ষেপে বলেছেন, যুবকের সম্পত্তি সরকারি হেফাজতে গ্রহণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিক্রি করে প্রকৃত গ্রাহকদের জমা করা মূল আমানত পরিশোধের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শক্রমে একজন রিসিভার বা প্রশাসক নির্বাচন করা যেতে পারে।

জানতে চাইলে যুবকের ক্ষতিগ্রস্ত জনকল্যাণ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন মুকুল বলেন, অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের মধ্য দিয়ে যুবকের সাড়ে তিন লাখ গ্রাহকের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। অর্থমন্ত্রী অসহায় গ্রাহকদের দুঃখকষ্ট অনুধাবন করতে পেরেছেন। আশা করি, অর্থমন্ত্রীর এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বাণিজ্যমন্ত্রীও রক্ষা করবেন।

সহসভাপতি মো. রুহুল আমিন খান বলেন, এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় আটকে থাকা জটলা খুলতে শুরু করেছে।

অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়, যুবকের মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সদস্যদের বিনিয়োগের আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে যুবক কর্তৃপক্ষ। গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নিয়ে যুবক কর্তৃপক্ষ যে সম্পদের পাহাড় গড়েছে এর বর্তমান বাজার মূল্য ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

যুবক কর্তৃপক্ষের প্রতারণার ঘটনায় সরকার পরপর দুটি কমিশন ও একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছিল। এর একটি কমিশনের প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ, অন্যটির প্রধান ছিলেন যুগ্ম সচিব মো. রফিকুল ইসলাম। এর বাইরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিশন ও কমিটি তাদের প্রতিবেদনে প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করে।

সারসংক্ষেপে আরও বলা হয়, সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট-১৮৬০-এর আওতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধন পরিদফতরের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান যুবক। ১৯৯৭ সালে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত হলেও এর তিন বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৪ সাল থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

সারসংক্ষেপে বলা হয়, যুবকের সম্পত্তি সরকারের হেফাজতে গ্রহণ, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিক্রি করে প্রকৃত গ্রাহকদের আসল পাওনা বুঝিয়ে দিতে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের মাধ্যমে একজন প্রশাসক বা রিসিভার নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ওই সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে ২০১৬ সালের ২৪ জুন এ বিষয়ে একটি অনুশাসন দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করুন।

অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। এরপর ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যুবকে প্রশাসক নিয়োগের ব্যাপারে সুবিধামতো সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আলোচনা শেষ করেন।

কিন্তু এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। সারসংক্ষেপে আরও বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নির্দেশ মোতাবেক ঢাকার পল্টন থানা বাদী হয়ে ২০১৪ সালে যুবকের প্রতারণার বিষয়ে মামলা করে। এটি বর্তমান সিআইডিতে তদন্তাধীন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, অর্থমন্ত্রী যুবকের বিষয়টি বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে তিনি প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। যুবকের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সংগঠন জনকল্যাণ সোসাইটির সহসভাপতি আবদুল বারেক বলেন, এ উদ্যোগ কোনোভাবে যুবক কর্তৃপক্ষ নষ্ট করতে না পারে সেদিকে সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে।

যুবক বিষয়ে সরকার ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে কমিশন (প্রথম কমিশন) গঠন করে। ‘দ্য কমিশনস অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট-১৯৫৬’-এর ৪ নম্বর ধারায় গ্রাহকের টাকায় কেনা সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পতির হিসাব দিতে ওই সময় কমিশন যুবককে নোটিশ দেয়। নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে ৬৭৪ একর জমি রয়েছে উল্লেখ করে যুবক কর্তৃপক্ষ কমিশনের কাছে হিসাব দেয়।

এরপর ২০১১ সালে মো. রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে দ্বিতীয় কমিশন গঠন করা হয়। একইভাবে দ্বিতীয় কমিশনও সম্পত্তির হিসাব চায় যুবকের কাছে। এ সময় যুবক কর্তৃপক্ষ ৫১৮ একর জমির একটি হিসাব কমিশনের কাছে দেয়। সূত্র : যুগান্তর

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :