বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০

ফেসবুক দুনিয়ায়ও বইফেরি করছেন ফয়জুর রহমান

প্রকাশ: ২০২০-০২-০৯ ১৬:০৯:২৮ || আপডেট: ২০২০-০২-০৯ ১৬:৩০:০৯

মুহাম্মদ আব্দুল আলী »

চলছে অমর একুশে বইমেলা। চলছে হরেক রকম মানুষের আশা যাওয়া। কেউ আসে মেলা দেখতে, ঘুরতে, কেউ বই কিনতে আর কেউ বই ফেরি করে বিক্রি করতে। আর বই ফেরি করে বিক্রি করতে দেখা গেছে ড. ফয়জুর রহমানর আল সিদ্দিককে। যা ফেসবুক দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এদিকে একুশে বাইমেলায় ড. ফয়জুর রহমানের বই ফেরি করে বেড়ানোর দৃশ্য নিয়ে ফেসবুকে আলোচনার শেষ নেই। শেয়ার দিচ্ছে অনেকে আবার একেকজন একেকভাবে কমেন্টস করে যাচ্ছে। ফেসবুকে একজন দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছে এ মহান ব্যক্তিকে নিয়ে। বাংলাধারার পাঠকদের সুবিধার্থে নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘ভদ্রলোকের নাম ড. ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিকী, উনি একজন স্কলার এবং অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী । ভদ্রলোক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বামী প্রয়াত ড. ওয়াজেদ সাহেবের সহকর্মী ছিলেন।’

‘এই পোস্ট টা দেওয়ার আশায় ছবিটা তোলা হয় নি কিন্তু বেশকিছু অর্থবিত্ত শালী ফেইসবুক /ইউটিউব সেলিব্রেটিদের বই এর পাবলিসিটি র পোস্ট দেখে দিতে ইচ্ছা হল। গতকাল বই মেলায় গিয়ে সেখানেই এই লেখক কে দেখি।উনি খুব ই দ্রুত হাঁটছিলেন, এক দোকান থেকে অন্য দোকানে যাচ্ছিলেন নিজের বই দেখাচ্ছিলেন দোকানে রাখতে হয়তো বিক্রির জন্যে। আমি শুধু ওনার হাতে ব্যাগ ভর্তি বই আর ক্ষয়ে যাওয়া জুতো টাই খেয়াল করেছিলাম। না বলে ছবিটা তোলা। শুনেছি ভদ্রলোক শুধুমাত্র বইয়ের খরচটাই নেন কোন লাভ/বাব্যসা করেন না।’

‘তখন একটা জিনিস ই মাথায় ঘুরছিল, আমাদের এ সমাজে যতই প্রতিভাবান হন না কেন,আপনার অর্থবিত্ত না থাকলে হয়তো আপনার প্রতিভা চাপা পড়ে যাবে বস্তা পচা সো কল্ড প্রতিভাবান মানুষের ভিড়ে।’

‘আপনারা যারা বই মেলায় যাবেন তারা আগ্রহী হলে ভদ্রলোকের একটি বই সংগ্রহে রাখতে পারেন। আপনার হয়তো অল্প কিছু টাকা খরচ হবে কিন্তু তার মুখে হাসি ফুটবে কোটি টাকার। উনার বই পাওয়া যাবে…প্যাভিলিয়ন ২ (পুঠিনিলয়), বই – বাঙ্গালীর জয়, বাঙ্গালীর ব্যর্থতা’

‘আসুন ফয়জুর সাহেবের বইয়ের প্রচারনা না হয় আমি আর আপনিই করি একটি শেয়ারের মাধ্যমে!! বাঙ্গালীর জয় হোক, বাঙ্গালীর ব্যর্থতার গ্লানি মুছে!!”

ড. ফয়জুর রহমানর আল সিদ্দিক ১৯৩৪ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার চরমধুচারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে অনার্স এবং থিসিস গ্রুপে এম এসসি ডিগ্রি অর্জন ও পোস্ট এম এসসি গবেষণায় অংশগ্রহণ করেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি নিউক্লীয় রসায়নের পিএইচ. ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন। তেহরানের নিউক্লীয় বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল নিউক্লীয় চুল্লি গবেষণা ইনস্টিটিউট যথাক্রমে পোস্ট এম এসসি এবং পোস্ট ডক্টরাল গবেষণায় অংশগ্রহণ করেন।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, পূর্ব জার্মানি, চেকোস্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, গণচীন ও জাপানে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি কর্মজীবন শুরু করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধীনে মেডিকেল একজামিনার হিসেবে। পরবর্তীতে পরমাণু শক্তি কমিশনের নিউক্লীয় শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ওপর দীর্ঘকাল গবেষণা করার পর ১৯৯২ সালে উক্ত সংস্থার নিউক্লীয় বিজ্ঞান ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

বর্তমান তিনি ইন্টারন্যাশাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনলজি-এ রসায়ন শাস্ত্রের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

লেখক : সহ-সম্পাদক, বাংলাধারা ডটকম

ট্যাগ :