বাংলাদেশ, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দেড় কোটি শিশুর কাছে চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৬ ১১:৩৯:৫৪ || আপডেট: ২০২০-০৩-১৬ ১১:৩৯:৫৫

বাংলাধারা ডেস্ক »  

পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে শিশুদের কাছে চিঠি লিখেছেন মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাবাকে নিয়ে লেখা এ চিঠি দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ৩৬ লাখ শিশুর হাতে তুলে দেয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বিদ্যালয়ে বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুরা এটি পাঠ করবে। এ উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর প্যাডে লেখা চিঠিটি অবিকল ছেপে শিশুদের হাতে তুলে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠিটি পৌঁছায় বৃহস্পতিবার বিকালে। তখনই তা পাঠিয়ে দেয়া হয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে (ডিপিই)।

১৯০ শব্দের ওই চিঠিতে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে ওঠা, বাংলাদেশ নামের একটি দেশ উপহার দেওয়া, ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের বিষয়ে জানানো হয়। চিঠিতে পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

শিশুদের কাছে শেখ হাসিনার চিঠি প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল-হোসেন  বলেন, ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর একটি প্রজন্মকে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান শিশুরা আগামীর ভবিষ্যৎ, তারা ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানবে। মার্কিন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন তার সন্তানের শিক্ষকের কাছে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠি আজ ইতিহাস। প্রধামন্ত্রীর এই চিঠিও একদিন ইতিহাস হবে।

হুবহু চিঠিটি তুলে ধরা হলো।

ছোট্ট সোনামণি,

আমার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিও। তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম ও ভাইবোনদের স্নেহ পৌঁছে দিও। পাড়া-প্রতিবেশীদের প্রতি শুভেচ্ছা রইল।

আজ ১৭ই মার্চ। ১৯২০ সালের এই দিনে বাংলার মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন এক মহাপুরুষ। তিনি আমার পিতা, শেখ মুজিবুর রহমান।

বাংলাদেশ নামের এই দেশটি তিনি উপহার দিয়েছেন। দিয়েছেন বাঙালিকে একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের সুযোগ। তাই তো তিনি আমাদের জাতির পিতা।

দুঃখী মানুষদের ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে নিজের জীবনের সব সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে তিনি সংগ্রাম করেছেন। বারবার কারাবরণ করেছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে ব্যথিত করত। অধিকারহারা দুঃখী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে তিনি দ্বিধা করেননি। এই বঙ্গভূমির বঙ্গ-সন্তানদের একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছিলেন- তাই তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’।

২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশ এই জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করছে। সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

প্রিয় বন্ধু,

ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিয়েছে জাতির পিতাকে। তাঁর নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওরা পারেনি। ঘাতকেরা বুঝতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর রক্ত ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে-বেয়ে ছড়িয়ে গেছে সারা বাংলাদেশে। জন্ম দিয়েছে কোটি কোটি মুজিবের। তাই আজ জেগে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষ সত্যের সন্ধানে। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায় না। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশকে বিশ্ব চিনে নিয়েছে তাঁরই ত্যাগের মহিমায়।

সোনামণি,

জাতির পিতার কাছে আমাদের অঙ্গীকার, তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়বই। আর সেদিন বেশি দূরে নয়। পিতা ঘুমিয়ে আছেন টুঙ্গিপাড়ার সবুজ ছায়াঘেরা মাটিতে পিতামাতার কোলের কাছে। তিনি শান্তিতে ঘুমান। তাঁর বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

আমরা জেগে রইব তাঁর আদর্শ বুকে নিয়ে। জেগে থাকবে মানুষ-প্রজন্মের পর প্রজন্ম- তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে। জাতির পিতার দেওয়া পতাকা সমুন্নত থাকবে চিরদিন।

তোমরা মন দিয়ে পড়ালেখা করবে, মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবে।

জয় বাংলার জয়, জয় মুজিবের জয়, জয় বঙ্গবন্ধুর জয়।

ইতি,

তোমারই

শেখ হাসিনা

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :