বাংলাদেশ, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২০

হজ ক্যাম্পে নির্ঘুম রাত কাটলো ইতালি ফেরতদের

প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৬ ১২:৩২:৪০ || আপডেট: ২০২০-০৩-১৬ ১২:৩২:৫৮

বাংলাধারা ডেস্ক »

করোনাভাইরাস সতর্কতার জন্য বিদেশফেরত প্রবাসীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য যে হজ ক্যাম্পে নেওয়া হয়, সেখানকার পরিবেশ ভালো নয় বলে জানিয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে গাদাগাদি করে রাখা, নোংরা খাবার, নোংরা টয়লেটসহ ভয়াবহ মশার উপদ্রব সেখানে। হজক্যাম্প তারা বসে বসে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

রোববার সেখান থেকে ছাড় পাওয়া কয়েকজন প্রবাসী এসব তথ্য জানান। তারা হজ ক্যাম্পের পরিবেশ উন্নয়নের পরামর্শ দেন।

গতকাল শনিবার ইতালির রোম থেকে ফেরা ১৪২ জন বাংলাদেশিকে হজ ক্যাম্পে নেওয়ার পর সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেখানে তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার কথা বলা হলে প্রবাসীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ নিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে হজ ক্যাম্পে সেনা মোতায়েন করা হয়।

জানা গেছে, ওই প্রবাসীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তাই আজ দুপুরে তাদের বাড়ি যাওয়ার ছাড়পত্র দেয় কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর আশকোনার হজ ক্যাম্প থেকে বের হয়ে সেখানকার পরিবেশের বর্ণনা দেন কয়েকজন ইতালিফেরত প্রবাসী।

শনিবার ইতালি থেকে এসেছেন চাঁদপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিআরটিসির যে বাসে আমাদের ক্যাম্পে নেওয়া হয় সেই বাসে মশার কামড়ে বাসে থাকার জো ছিল না। বাস থেকে নামিয়ে পরীক্ষার জন্য হজ ক্যাম্পের যেখানে বসতে দেওয়া হয়, সেটা ছিল বিশ্রি রকমের নোংরা।’

গতকালের উত্তেজনার পর ইতালিফেরত প্রবাসীরা হজ ক্যাম্পে রাত যাপন করেন। সেই রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণা করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যে বেডে থাকতে দেওয়া হয় সেখানকার পরিবেশ খুব খারাপ। আর মশার কামড়ে রাতটা কাটানো খুব কষ্টের ছিল। বসে বসে রাত কাটিয়েছি। নোংরা টয়লেট। খুব বাজে পরিবেশ।’  খাবার নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি।

কুষ্টিয়ার কামরুজ্জামানের ভাষ্য, ক্যাম্পের পরিবেশ বা তাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য স্থানটি মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। মশার উপদ্রব আর নোংরা পরিবেশে তিনি বিরক্ত।

তারা দেশের রেমিট্যান্স আয়ে অবদান রাখেন উল্লেখ করে কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিদেশে আমরা তো  দেশের জন্য লড়ি। আমাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সরকার উপকৃত হচ্ছে, অথচ আমাদের জন্য এমন পরিবেশ!’

ইব্রাহিম খলিল নামের আরেক ইতালিফেরত সরকারের কাছে অনুরোধ করেন, ভালো একটা পরিবেশে রেখে যেন বিদেশফেরতদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়।

এদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) তাদের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে গতকাল জানিয়েছে, করোনাভাইরাস সতর্কতা হিসেবে সারা দেশে ২ হাজার ৩১৪ জন হোম কোয়ারেনটাইনে আছেন।

আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে আছেন ৪ জন। আর আইসোলেশনে আছেন ১০ জন।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে আরও দুজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। তারা দুজনই প্রবাসী। সম্প্রতি তাদের একজন ইতালি এবং আরেকজন জার্মানি থেকে দেশে এসেছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় আরও দুজন আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করল। এ নিয়ে দেশে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ হলো।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রবেশ ঠেকাতে যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের বাকি দেশগুলোর সঙ্গে যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। শনিবার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন, ওই সব দেশের কোনো উড়োজাহাজ বাংলাদেশে আসবে না। এ ছাড়া যেসব দেশ বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সেসব দেশের মানুষও বাংলাদেশে আসতে পারবে না। এই নিষেধাজ্ঞা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবত থাকবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৩৫টি দেশ-অঞ্চলে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৪৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৫ হাজার ৩৯৩ জন। সূত্র : ঢাকা টাইমস

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :