বাংলাদেশ, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০

কক্সবাজারে মাঠে নেমেছে সেনা ও নৌবাহিনী

প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৫ ১৮:৪৬:২৫ || আপডেট: ২০২০-০৩-২৫ ১৮:৪৭:০৮

কক্সবাজার প্রতিনিধি »  

করোনা সংক্রমণ রোধে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজারেও মাঠে নেমেছে সেনা ও নৌ-বাহিনীর সদস্যরা। বুধবার বেলা ১ থেকে জেলার পাঁচ উপজেলায় সেনাবাহিনীর নয়টি দল ও তিন উপজেলা নৌবাহিনীর পাঁচটি দল টহলে নেমেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

জেলা প্রশাসক জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিহতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে করতে কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়ায় টহলে নেমেছে সেনাবাহিনী এবং উপকূলীয় উপজেলা কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফে টহলে নেমেছে নৌবাহিনী।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের মতে, করোনা রোধে হার্ডলাইনে রয়েছে সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বন্ধ দিয়ে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখার প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরপরও জনসমাগম কিছু কিছু এলাকায় হচ্ছে বলে খবর আসে। তা নিয়ন্ত্রণে সেনা ও নৌবাহিনী নামানো হয়েছে। টহলরত সেনা ও নৌবাহিনী গণজমায়েত রোধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, সেনাবাহিনী রামু ১০ পদাতিক ডিভিশন এক তথ্য বিবরণীতে নিজেদের মাঠে নামার কথা জানায়। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ৫ উপজেলা ও মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৮ উপজেলায় বুধবার (২৫ মার্চ) থেকেই সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের চিকিৎসাদলসহ সেনাসদস্যরা মাঠে নেমেছে। মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠক করে সেনাবাহিনীর কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয় বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

তারা জানায়, প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের কাজে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সেনাবাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যক নতুন চেক্ পোষ্ট স্থাপন ও টহল কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি ও সীমিত করা হয়েছে বহিরাগতদের চলাচল।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, করোনা বিস্তার রোধে সতর্কতায় থাকতে হবে সবাইকে। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে যেন বের না হয় আমরা। দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য রসদ তাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করেন ডিসি ।

অন্যদিকে এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সেনাবাহিনী মাঠে নামার খবরে রাস্তায় খুব কম সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অনেক এলাকা প্রায় জনমানবশূন্য। জনমানব শূন্য অবস্থায় রয়েছে সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলোও। জেলার রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। সেনাসদস্যরা মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং প্রেষণার মাধ্যমে অবস্থানরত লোকদের ঘরে ফিরে যাবার তাগিদ দিচ্ছেন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :