বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০

করোনায় কী করছেন তরুণ ছাত্র প্রতিনিধিরা?

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২১ ২৩:১৩:০৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-২১ ২৩:১৩:১২

ইয়াসির রাফা »

ব্যক্তিগত পড়াশুনা ও সংগঠনের নানান কাজে সারা বছর ব্যস্ত থাকতে হয় ছাত্র প্রতিনিধিদের। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গোটা বিশ্বে জনজীবন প্রায় স্তব্ধ হয়ে গেছে ৷ এই দমবন্ধ সময়ে কীভাবে কাটছে তাদের দিন? কী ভাবছেন তারা? এ নিয়েই কথা হলো তিন ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে। তারা প্রত্যেকে তরুণ। জানালেন তাদের লকডাউনে থাকার গল্প।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপু। তিনি বলেন, করোনায় একটা লম্বা অবসর পাওয়া গেলেও সব সময় ঘরে থাকাটা সম্ভব হচ্ছে না। করোনায় যেসকল মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে তাদের পাশে দাঁড়াবার নিমিত্তে ছুটে চলেছি । এই সময়টাতে মানুষের পাশে থাকাটা আসলে নিজের দায়িত্ব মনে করেই কাজ করছি। আর এখন যেহেতু মাহে রমজান তাই ধর্মীয় কর্মকান্ডে একটু বেশি সময় দেওয়ার চেষ্টা করছি।

বাসায় কিভাবে সময় কাটছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন লেখকের বই পড়ি, টিভিতে নিউজ দেখি। এখন নিউজে করোনার খবর চোখের সামনে আসলেই মানসিকভাবে ভাবনায় পড়ে যাই! কবে আবার সব ঠিক হবে! করোনায় নতুন করে মানুষ আক্রান্তের খরব দেখলে, মৃত্যুর সংবাদ দৃষ্টিগোচর হলে মনটা খরাপ হয়ে যায়। মনে হয় পৃথিবীটা ভালো নেই। তবে আশা করি, ইন-শা -আল্লাহ্ সামনে এই অচল অবস্থা কেটে যাবে।

এদিকে দিন দিন করোনার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তপু জানালেন, বর্তমান এই মহামারি করোনা ভাইরাসে আমাদের দেশেও আক্রন্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তখন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমদের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে স্যানিটাইজার,মাক্স, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে লিফলেট বিতরণ করেছি। আমার নিজ উপজেলা,মীরসরাইয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আওতাধীন অন্য উপজেলার গুলোতেও ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় হতদরিদ্র কৃষকের ধান কেটে দিয়ে, তার ঘরে পৌঁছে দিতেও সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। প্রিয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশমত মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এ সকল কাজ অব্যাহত থাকবে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ৩৪ জন ডাক্তারের একটা ‘কুইক রেসপন্স মেডিক্যাল’ সেল গঠন করা হয়েছে। যেখানে ফোন করে ডাক্তারদের সেবা নিতে পারবে যে কেউ, জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন টিপু। কিভাবে সময় কাটছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কেউ আসলে এমন পরিস্থিতির সাথে পরিচিত না। এখন যেহেতু এই পরিস্থিতিতে পড়ে গেছি তাই মানিয়ে নিচ্ছি নিজেকে। ঘরেই সালাত আদায় করছি । সংগঠন এবং ব্যাক্তিগত দুই জায়গা থেকেই ক্যাম্পাসের আশে পাশের অসহায় মানুষদের সাহায্য করার চেষ্টা করছি। ইফতারের আগে ইফতার তৈরি করতে কাজ করি, নিজের পরিবারকে সময় দিচ্ছি । সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে টকশো দেখি। জাতির পিতার আর্দশিক রাজনৈতিক জীবনের দর্শন নিয়ে লেখা বই গুলো পড়ছি সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে পড়াশুনা করছি। এক কথায় বলা যায় বর্তমানে রাজনৈতিক বিষয়ে একটা স্টাডি হয়ে যাচ্ছে।

কথা বলে আরও জানা যায়, দুর্যোগের শুরু থেকেই চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক টিপু এবং সভাপতি রেজাউল হক রুবেলসহ অন্যান্য নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে মানুষের সেবায় কাজ করছেন তারা। হ্যান্ড সেনিটাইজার,মাস্ক,সাবানসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানোসহ ক্যাম্পাসের দরিদ্র রিক্সা চালকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে চবি ছাত্রলীগ। এছাড়াও নাম পরিচয় গোপন রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অসহায় মধ্যবিত্ত ১৫০ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী উপহার দেয়া হয়েছে।

টিপু আরও জানান, বর্তমান অবস্থায় কৃষকদের অবস্থা করূণ। সবকিছু বন্ধ থাকায় ধান কাটার মজুর না পাওয়ায় ক্যাম্পাসের পাশেই কয়েকজন কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্যাম্পাসের পাশ্ববর্তী কটেজ ও শহরে বিভিন্ন বাসায় ভাড়া থাকা শিক্ষার্থীদের ভাড়া মওকুফের জন্য আবেদন জানিয়েছি তাদের সবার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি।

আরও জানা যায়, ইকবাল হোসেন টিপু ব্যাক্তিগত ভাবে ” মানুষ হতে চাই ” এবং ” রমাদান গিফট ” নামক দুটো মানবিক সংগঠনের সাথে যুক্ত। যেখান থেকে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ছয়শো পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এই সময়ে সকল অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ছাত্র সমাজের প্রতি আহবান জানান তিনি। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেকোন সমস্যায় যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

কক্সবাজার জেলা শাখার ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। করোনা পরিস্থিতিতে সময় কিভাবে কাটছে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, বিবেকের তাড়নায়, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে মানব কল্যাণের জন্য ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে। যুবলীগ-ছাত্রলীগ সমন্বয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন প্রিন্সকে প্রধান করে একটি করোনা সহায়তা মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে যেখানে কখনো মনিটরিং সেলের প্রতিনিধি হিসেবে আবার কখনো ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় এবং দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অসহায় মানুষের কাছে সাহায্য নিয়ে ছুটে চলছেন প্রতিনিয়ত।

কথা বলে আরও জানা যায়, করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক লিফলেট,মাস্ক,হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং সাবান বিতরণসহ গ্রামের ঘরে ঘরে জীবানু নাশক স্প্রে করেছেন তিনি। এছাড়াও পারিবারিক অর্থায়নে নিন্মবিত্ত,মধ্যবিত্ত পরিবার, মাদ্রাসার শিক্ষক,মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন, রিক্সা ও সিএনজি চালকদের মাঝে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার সরূপ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। জরুরী রোগী পরিবহন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ফ্রিতে সাদ্দাম হোসেনের পারিবারিক জীপ গাড়িটি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সাদ্দাম হোসেন আরও জানান, একটি মানবিক টিম গঠনের মাধ্যমে রামু হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তিকৃত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও বর্তমান সময়ে প্রান্তিক কৃষকের ধান কেটে দেওয়াসহ সবজি চাষিদের কাছ থেকে বাজার মুল্যের চেয়ে কেজি প্রতি ৫টাকা বেশি দামে কিনে ফ্রি-তে বিতরণ করা হচ্ছে সবজি ।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :