বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

কক্সবাজারে ১ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৩

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২১ ১২:০১:৩৩ || আপডেট: ২০২০-০৬-২১ ১২:০১:৩৪

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

কক্সবাজারে এক লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা ও মোটর সাইকেলসহ তিনজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধ্যা ও শনিবার ভোররাতে রামুর গর্জনিয়া ও পার্শ্ববতী এলাকায় পৃথক অভিযানে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া।

এ ঘটনায় পৃথক আইনে মামলার পর শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, বান্দরবানের আলীকদম থানার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলীপাড়ার আব্দুল মোতালেবের ছেলে আব্দুর রশিদ (২৬), নাইক্যংছড়ির দোছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জারুলিয়াছড়ির মৃত মো. ইসলামের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (৪১) ও উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়ার এফ ব্লকের-১৫ এর ডাব্লিউ-১ বাসিন্দা রোহিঙ্গা মকতুল হোসেনের ছেলে এনামুল হাসান (২২)।

ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া জানান, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের নির্দেশনায় মাদক নির্মূলে প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলে রামু এলাকায় আমার নেতৃত্বে দায়িত্বপালন করছিল ডিবি পুলিশ। এসময় খবর আসে সন্ধ্যার আগে দু’যুবক লোক একটি ডিসকভার মোটর সাইকেলে ইয়াবা নিয়া গর্জনীয়া বাজার হতে রামু বাইপাসের দিকে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গর্জনীয়া বাজার অভিমুখে যাবার পথে ডিবি টিম পূর্ব কাউয়ার খোপ এলাকার আল্লাহর দান ষ্টোরের সামনে রাস্তার উপর ডিসকভার মোটর সাইকেলে দুজন লোককে দেখে থামানোর সিগনাল দেয়।

‘তারা মোটর সাইকেল উল্টা ঘুরিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে ধাওয়া দিয়ে মোটর সাইকেলসহ আরোহী আব্দুর রশিদ ও এনামুল হাসানকে আটক করা হয়। সবার সামনে মোটর সাইকেল ও আটকদের দেহ তল্লাশী করে মোটর সাইকেলের পেছনে আংটার সাথে ঝুলানো একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগের ভিতর ৪ কাটে (প্রতি কাটে ১০ হাজার পিস) ৪০ হাজার পিস ইয়াবা এবং এনামুলের হাতে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগের ভিতর আরো ৪ কাটে ৪০ হাজারসহ মোট ৮০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ হয়।’

তিনি আরো জানান, আটক যুবকরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়- রামুর গর্জনীয়া ফাড়িস্থ কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শেষ অংশে তাদের সহযোগী আনোয়ার সাদিকের হেফাজতে আরো ইয়াবা রক্ষিত আছে। ফোর্সসহ সেখানে অভিযানে যায় ডিবি। পুলিশের উপস্থিতি ঠের পেয়ে আনোয়ার সাদিক সটকে পড়ে। তার বসতঘরে তল্লাশীকালে আনোয়ার সাদিকের মা মাহমুদা বেগমকে আটক পূর্বক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তিনি স্বীকার করেন যে, তার ছেলে আনোয়ার সাদিক তার কাছে কিছু ইয়াবা রেখেছে। মাহমুদার স্বীকারোক্তি ও দেখানোমতে সাক্ষীদের সম্মুখে তার বসত ঘরের বিপরীত পাশে ঝোঁপের ভিতর লুকানো অবস্থায় ১০ কাটে এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

ধৃত আব্দুর রশিদ ও এনামুল জানায়, তাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো পলাতক আনোয়ার সাদেক, মো. শাহজান, নুর আলম ও কামালদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে মো. নবীর কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ধৃত ও পলাতকরা পরস্পর এক হয়ে প্রশাসনের দৃষ্টির অন্তরালে দীর্ঘদিন ইয়াবা ব্যবসা করছিল।

ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া জানান, বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংকটকে কাজে লাগাচ্ছে মাদক কারবারীরা। পৃথক অভিযানে মাদকের বিশাল এ চালান আটকের ঘটনায় তার প্রমাণ। এ ঘটনায় ধৃত ও পলাত সহযোগিদের আসামী করে পৃথক আইনে মামলা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জিরোটলারেন্স নীতিতে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তার নেতৃত্বে আমরা শহর-গ্রাম তথা প্রত্যাঞ্চল চষে বেড়াচ্ছি।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :