বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

বাবা দিবস; নির্ভরতা আর ভালোবাসায় ভরে উঠুক

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২১ ১২:৪৭:৪১ || আপডেট: ২০২০-০৬-২১ ১২:৪৭:৪২

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

‘পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহী পরমং তপঃ, পিতরী প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা’-সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই মন্ত্র জপে বাবাকে স্বর্গজ্ঞান করে শ্রদ্ধা করেন। কোরআনে পিতা-মাতার সম্মান প্রসঙ্গে বলা আছে, তাদের সঙ্গে উহ! শব্দ পর্যন্ত করো না। পিতা সন্তানের মাথার ওপর বটবৃক্ষের ছায়ার মতো যার স্নেহ অবারিত ধারায় শুধু ঝরতেই থাকে। শিশু সন্তানের কচি হাতটি যখন বাবার হাতটি আঁকড়ে ধরে হাঁটতে থাকে তখন তাদের এ অটুট সম্পর্ক জানান দেয়।

দিবসটিকে সামনে রেখে পাঞ্জাবির দোকান, কার্ডের দোকান, ফুলের দোকানে, উপহারের দোকানে ভিড় জমান সন্তানরা। বাবাকে এই দিবসে শ্রেষ্ঠ উপহার দেওয়া নিয়ে চলে জল্পনা-কল্পনা। সব বয়সীরাই এই দিনটিতে তার বাবাকে একটি সুন্দর উপহার কিংবা একটু সঙ্গ দেওয়ার জন্য আগে থেকেই নানা পরিকল্পনা করে থাকেন। তবে এবার করোনার কারণে বাবা দিবসের আমেজে ভাটাও পড়েছে বেশ।

সন্তানের ভালোর জন্য জীবনের প্রায় সবকিছুই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করতে হয় বাবাকে। আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার জায়গা হলো বাবা। বাবার মাধ্যমেই সন্তানের জীবনের শুরু। সন্তান বাবার ঋণ কখনও পরিমাপ করতেও পারে না। সেই বাবার প্রতি সম্মান জানাতে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বাবা দিবস। প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালন করা হয়। সে হিসেবে এ বছর ২১ জুন বিশ্ব বাবা দিবস।

বাবা মানে নির্ভরতা। বাবা নিখাদ আশ্রয়। উত্তপ্ত সূর্যের তলে সন্তানের শীতল ছায়া। বাবা মানে ভরসা। আবার বাবা শাশ্বত, বাবা চির আপন। বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯০৮ সালে প্রথম বাবা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে ৫ জুলাই এই দিবস পালন করা হয়। ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবছর জাতীয়ভাবে বাবা দিবস পালনের রীতি চালু করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্যাটেলাইট যুগের সুবাদে বাবা দিবস ঘটা করেই পালিত হচ্ছে।

তবে বাবা দিবস নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। সমালোচকরা বলেন, বাবাকে স্মরণ করার জন্য শুধু একটি দিন কেন! কেউ কেউ বলে থাকেন, বাবা দিবসটা ঠিক আমাদের জন্য নয়। এটি মূলত পাশ্চাত্যের।

ইদানিং ‘বাবা দিবস’ ছড়িয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। অনেকেই বাবার সঙ্গে তোলা ছবিকে নিজের প্রোফাইল বা কাভার ছবিতে রাখেন, স্ট্যাটাস লিখে প্রকাশ করেন বাবার জন্য ভালোবাসা। যাদের বাবা বেঁচে নেই, তারাও এদিন করেন স্মৃতিচারণ।

সব মিলিয়ে ‘বাবা দিবস’ উদযাপন এখন বেশ প্রচলিত। সবাই এদিনটিতে চান বাবাকে না বলা অনেক কথা বলতে, বাবার প্রতি নিজের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশ করতে। এদিন বাবাকে জানিয়ে দিতে চান- ভালোবাসি বাবা!

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :