বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

ভোগান্তি কমাতে কোভিড ও নন কোভিড হাসপাতাল

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২১ ২০:৫১:৩১ || আপডেট: ২০২০-০৬-২১ ২২:০৪:৩০

জালালউদ্দিন সাগর »

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রজ্ঞাপন জারীর পরও করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে না চট্টগ্রামের বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকরা। এমনকি করোনার অজুহাতে ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি হতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন এমন রোগীদেরও।

সংক্রমনের সঙ্কায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসাসেবা না দেয়ার কারণে ইতোমধ্যে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন রোগী। বেসরকারী এই হাসপাতাল-ক্লিনিক মালিকদের দৌরাত্ব থেকে রক্ষা পায়নি অসুস্থ শিশুরাও।

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে করোনা আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় দেড় শতাধীক রোগী। তবে চট্টগ্রামে লাশ দাফনকারী সেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে করোনাকালে দাফনকৃত মরদেহের সংখ্যা প্রায় ৫ শতাধিক।

স্বাস্থ অধিদপ্তরের নিদের্শ বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের তত্বাবধানে জেলা প্রশাসন,জেলা সিভিল সার্জন,বিভাগীয় স্বাস্থ পরিচালকের সমন্বয়ে মনেটরিং কমিটি করলেও ভুক্তভুগিদের অভিযোগ, সবই ভাওতাবাজি। ক্লিনিকে ক্লিনিকে ঘুরেও চিকিৎসা পাচ্ছেন না তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিদের্শনা থাকার পরেও করোনা আক্রান্ত রোগী ও নন করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে মালিকদের অনিহার কারন অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান একই ক্লিনিকে করোনা এবং নন করোনা রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভবন নয়।

তাঁদের অভিমত, করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হলে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোকে আলাদা করতে হবে। একই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গেলে সাধারণ রোগীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবে ঠিক একই ভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে চিকিৎসক ও স্বাস্থকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্লিনিকগুলোতে পর্যাপ্ত সিট খালি থাকা সত্তেও করোনা সংক্রমনের শঙ্কা এড়াতে রোগী ভর্তিতে অনিচ্ছুক নগরীর অধিকাংশ হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ । রোগী ভর্তি করলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আর্থিকভাবে লাভবান হবেন জেনেও রোগীদের এড়িয়ে যাচ্ছেন তারা ।

খোঁজ নিয়ে আনা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলাতে ভালো মানের প্রায় শতাধিক হাসপাতাল-ক্লিনিক রয়েছে তার মধ্য থেকে অন্তত ২০ থেকে ৩০টি হাসপাতালকে ক্লিনিক ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষাণা করতে পারে স্বাস্থ অধিদপ্তর। শুধুমাত্র সে সব হাসপাতালগুলোতেই করোনা উপসর্গ আছে এমন রোগীদের চিকিৎসা করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের অভিমত, করোনা পজেটিভ, উপসর্গ আছে এমন এবং উপসর্গহীন সন্দেহভাজন রোগীদের জন্য করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে। একই সাথে যে সব হাসপাতাল করোনা ডেডিকেটেড নয় সে সব হাসপাতালে অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারলে রোগিদের ভোগান্তি কমবে।

আলাপচারিতায় জানা যায়,নির্ধারিত করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল,কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থকর্মীদের সরকারী হাসপাতালে মতো প্রণোদনার আওতায় এনে স্বাস্থ অধিদপ্তর এই উদ্যোগ নিতে পারেন।

কোভিড ও নন কোভিড হাসপাতালগুলোকে আলাদা করতে পারলে চিকিৎসাসেবা খ্যাকে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা দূর করা সম্ভব জানিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি মুজিবুল হক খান বলেন,আমরা এরমধ্যে কয়েকটি হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে বিবেচনা করার জন্য প্রস্তাব করেছি।

তিনি আরও বলেন, একই হাসপাতালে কোভিড ও নন কোভিড রোগীদের একসাথে চিকিৎসাসেবা দিতে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকিতো থাকেই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা.মোস্তফা খালেদ আহমদ, করোনা ডেডিকেটেড ও নন করোনা হাসপাতালগুলোকে আলাদা করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভরশীল।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :