বাংলাদেশ, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০

চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু; গ্রামের চেয়ে তিনগুন বেশি নগরে

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৩ ১৮:৪৭:১৮ || আপডেট: ২০২০-০৬-২৩ ১৮:৪৭:২১

তারেক মাহমুদ »

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে কিংবা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর খবর আসছে প্রতি মুহূর্তে। নগরীর মসজিদের মাইক থেকে কিছুক্ষণ পরপরই ভেসে আসছে এক একটি বেদনার্ত শোক সংবাদ। গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামে করোনায় মৃতের সংখ্যা শতক ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে মহানগরীতে ৭৩ জন এবং উপজেলায় ২৬ মারা গেছেন। তবে চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যুর চেয়ে উপসর্গ নিয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

করোনার এই দু:সময়ে অসহায় মানুষ ছুটছে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে, কিন্তু চিকিৎসা মিলছে না। অক্সিজেনের জন্য হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন মুমূর্ষু রোগী। চারদিকে চিকিৎসার জন্য হাহাকার। এভাবেই মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পণ করছেন অসহায় মানুষ।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব অনুযায়ী, গত একদিনে চট্টগ্রামে করোনায় চারজন মৃত্যুবরণ করেন। গত ২২ মে থেকে ২২ জুন পর্যন্ত এই এক মাসে মহানগরে ৭৩ জন এবং উপজেলায় ২৬ জন মারা গেছেন।

তিনি আরা বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় ১৯২ জন সহ চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৮০ জন করোনায় আক্রান্ত হন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৯৯ জন, হোম আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫০৫ জন, বর্তমানে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ৬০৬ জন। তাছাড়া বর্তমানে ৩৫৩ জন আইসোলেশনে রয়েছেন।

আল-মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ফরিদ উদ্দিন জানান, এপ্রিলে কাজ শুরুর প্রথম সাত সপ্তাহে আমরা এক শ মরদেহ দাফন করি। আর জুনের প্রথম সপ্তাহেই আমরা ৫৫ জনের দাফন সম্পন্ন করেছি। ঈদের দিন থেকে করোনায় আক্রান্ত ও সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বাংলাধারাকে বলেন, চট্টগ্রামে উপজেলার তুলনায় মহানগরে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি। করোনায় মৃত্যুর চেয়ে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বেশি চট্টগ্রামে। শহরে আক্রান্তের হার ৬৮ শতাংশ আর উপজেলায় ৩২ শতাংশ। গ্রামের তুলনায় শহরে ঘনবসতি বেশি। গ্রামের মানুষ দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করার সুযোগ আছে। এসব কারণে শহরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি বলে মনে হয়। তবে সবাইকে অবশ্যই সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।

চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। করোনার প্রকোপ শুরুর পর চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও গুরুত্ব দিয়ে মানা হয় না স্বাস্থ্যবিধি। লকডাউনের মধ্যে মানুষের আনাগোনা কমে নি। রোগী বেড়ে যাওয়াতে এখন হাসপাতালে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না।

চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন হাটহাজারীতে। গতকাল পর্যন্ত সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭৫ জন। পটিয়ায় ২৫৭, সীতাকুন্ডে ২২৯, বোয়ালখালীতে ২১৩ এবং চন্দনাইশে ১৫৪, লোহাগাড়ায় ১১০, রাউজানে ১৫০, সাতকানিয়ায় ১১৪, বাঁশখালীতে ১২১, রাঙ্গুনিয়ায় ৯৭, আনোয়ারায় ৮৬, ফটিকছড়িতে ১০২ জন, সন্দ্বীপে ৩৪ এবং মীরসরাইয়ে ৪৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

 উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ থেকে চট্টগ্রামে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরুর পর প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৩ এপ্রিল। ৯ এপ্রিল এক বৃদ্ধ করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। পরে ১১ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। এরপর থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দিনদিন বাড়তে থাকে। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিল্পপতি, আলেম, কাস্টম কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষার্থী কারও নাম বাদ যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল থেকে। তবে বর্তমানে করোনায় মৃত্যুর চেয়ে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বেশি হচ্ছে চট্টগ্রামে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :