বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় সার্ভেইল্যান্স টিম করেও সুফল মিলছে না

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৪ ১৫:৫২:৫০ || আপডেট: ২০২০-০৬-২৪ ১৫:৫২:৫২

তারেক মাহমুদ »

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ-অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, জ্বর, সর্দি-কাশির মতো লক্ষণ থাকলেও হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না কোন চিকিৎসা। অনেক বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলো তদারকি করতে গত ৩০ মে সার্ভেইল্যান্স টিম গঠন করা হলেও এখনও পর্যন্ত এর দৃশ্যমান কোন সুফল মিলছে না। বেসরকারী হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসছে আগের মতোই।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বাংলাধারাকে বলেছেন, করোনা রোগী নেওয়ার ভয়ে চিকিৎসকের অসুস্থতা ও নার্স-চিকিৎসক স্বল্পতার অজুহাতে রীতিমতো আইসিইউ ওয়ার্ডই বন্ধ রেখেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো। চট্টগ্রামে অন্য সময় আইসিইউ ভাড়া ৩০ হাজার টাকা নেয়া হলেও, এখন চাওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ। এছাড়া, চেক বা কার্ডে বিল না নিয়ে নগদ টাকায় বিল পরিশোধেও বাধ্য করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোগান্তি বেড়েছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের। 

চকবাজার সার্জিস্কোপ হাসপাতালে মিনহাজ চৌধুরী নামে রোগীর এক স্বজন বাংলাধারাকে জানান, তারা এক লাখ টাকা অগ্রিম নিয়েছে এবং প্রতিদিন আইসিইউ ভাড়া ৬০ হাজার করে নিচ্ছে। আমার রোগীর অবস্থা খারাপ ছিল। আমার আইসিইউ দরকার ছিল। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে আইসিইউ ভাড়া নিয়েছি।  

এদিকে দেখা গেছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্যন্ত ইউএসটিসি হাসপাতালে সর্বাধিক ২৪ জন, আগ্রাবাদের চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ১৮ জন, সার্জিস্কোপ-পার্কভিউ ও সিএসসিআর হাসপাতালে ২৭ জন, মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৬ জন, ম্যাক্স হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারে ১০ জন, ন্যাশনাল হাসপাতালে ৪ জন এবং ডেল্টা হসপিটালে মাত্র দুজন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন। অথচ সবমিলিয়ে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় এই ১০টি হাসপাতালের মধ্যে নয়টি হাসপাতালেই বেড রয়েছে ৬৭৩টি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ও সার্ভেইল্যান্স টিমের সদস্য সচিব ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বাংলাধারাকে জানান, গত মার্চে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষার ফল ‘নেগেটিভ’ না হলে সাধারণ রোগীদেরও সেবা দিতে অনীহার কথা শোনা যাচ্ছিল। তাই বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো তদারকি করতে গত ৩০ মে সার্ভেইল্যান্স টিম গঠন করা হয়। রোগীদের স্বজনরা যারা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন, সেগুলো আমরা যোগাযোগ করে নিরসন করছি। কোথাও অগ্রিম টাকা নিচ্ছে এবং তার পাশাপাশি বেশি টাকা নিচ্ছে এমন অভিযোগ পেলে সেটা আমাদের সার্ভিলেন্স টিম খতিয়ে দেখছে।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা দেয়ার নামে বাড়তি টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি। 

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৯৯১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয় কক্সবাজার ল্যাবসহ চট্টগ্রামের ৬টি ল্যাবে। এতে ২৮০ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগর এলাকায় ১৫৫ জন এবং বিভিন্ন উপজেলা বাসিন্দা ১২৫ জন। গত একদিনে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আরো ৮৫ জন। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৫২ জন।   

এছাড়াও চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৮০ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৬৯৯ জন, হোম আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫০৫ জন, বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬০৬ জন, বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৩৫৩ জন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :