বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

চট্টগ্রামের পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিয়ে শঙ্কা!

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৫ ১৯:১৯:০৯ || আপডেট: ২০২০-০৬-২৫ ১৯:১৯:৫৬

ইয়াসির রাফা »

করোনা ভাইরাসের মহামারি এলোমেলো করে দিয়েছে জীবন-জীবিকা। ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর কেটেছে সাদামাটাভাবে। ইতোমধ্যে সংকুচিত হয়েছে হজের পরিধি। এমন প্রেক্ষাপটে কড়া নাড়ছে ঈদুল আযহা। সঙ্গে এসেছে কোরবানির পশুর হাটের প্রসঙ্গটিও।

কোরবানির সময় এলেই এই গরুর হাটগুলোর বিস্তৃতি হয় বহুগুনে, থাকে উপচেপড়া মানুষের ভিড়। কিন্তু করোনা মহামারির এই সময়ে খোলা আকাশের নিচে এই হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা কতটুকু সম্ভব, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই শঙ্কার পেছনে বিশেষজ্ঞদের যুক্তিও রয়েছে ঢের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. মনজুরুল কাদের বলেন, পশুরহাট বসলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে না। তাছাড়া পশুরহাটে জনসমাগম হওয়ার ফুলে মানু্ষ হাচি-কাশি দিলে তার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়াও পশুরহাটে আগত লোকজন পশু বা অন্যকিছু অসতর্ক ভাবে স্পশ করতেই পারে। সেখান থেকেও ভাইরাস ছড়িয়ে অন্যরা আক্রান্ত হতে পারে।

একই মত প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেছেন, কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা অসম্ভব প্রায়। উল্টো ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

তিনি আরো বলেন, করোনা মহামারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা অবস্থায় নগরীতে পশুর হাট বসালে সংক্রমন বহুগুন বেড়ে যাবে। এই মহামারীতে কোরাবানীর পশুর বাজারের বর্জ্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ৬টি অস্থায়ী বাজারের আবেদন করলে ৩টি বাজার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সিএমপি। আপত্তি থাকা ৩টি পশুরহাট গুলো হলো, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার স্টিলমিল বাজার, পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (কাটগড়মোড়) ও বন্দর থানার নিউমুরিং আবাসিক এলাকা (বড়পোল)।

এ বিষয়ে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক বলেন, চসিক ৬টি অস্থায়ী কোরবানির পশুরহাট বসানো জন্য আবেদন করে। কিন্তু ৩টি জায়গা পশুরহাট না বসাতে সিটি কর্পোরেশনকে সমস্যা তুলে ধরে সিএমপির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত খালি স্থান না থাকায় ও জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

সিএমপির এক চিঠিতে বলা হয়, স্টিল মিল ও কাটগড় এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। উন্নয়ন কাজের কারণে সড়কের অর্ধেক অংশ টিন দিয়ে ঘেরাও আর বাকি অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করে। যদি এখানে পশুরহাট বসানো হয় তাহলে যানবাহন চলাচলের কোনো রাস্তা সচল থাকবে না। নিউমুরিং আবাসিক মাঠে কোরবানির পশুরহাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। মাঠের এক তৃতীয়াংশ জায়গায় রয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কাজ করা সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার্স কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের স্থাপনা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এস্টেট অফিসার এখলাসুর রহমান বলেন, সিএমপি থেকে ৩ টি স্থানে পশুর হাট না বসানো জন্য বলেছেন। তবে জেলা প্রশাসন এখনও তাদের থেকে কিছু জানায়নি। তবে বন্দর-পতেঙ্গায় হাট না বসার সম্ভাবনা বেশি। উল্লেখ্য, সিএমপির চিঠির বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :