বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

আয় নেই, আছে বাসাভাড়ার চাপ

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৭ ১৬:৩৪:৩৪ || আপডেট: ২০২০-০৬-২৭ ১৬:৩৪:৩৬

ইয়াসির রাফা »

বর্তমানে চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এলোমেলো করে দিয়েছে জীবন-জীবিকা। অনেকেরই আয় বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত, কারও কমেছে আয়ের পরিমাণ। সংকটময় অবস্থার ফলে সক্ষমতা হারাচ্ছে ভাড়াটিয়ারা, ভুগছে বাড়িওয়ালারাও।

অনেক ভাড়াটিয়ারা বাসা ভাড়া কমিয়ে অর্ধেক করে দেয়ার দাবিও তুলেছেন ইতোমধ্যে। এদিকে বাড়িওয়ালাদের মধ্যে অনেকই ভাড়ার টাকায় নিজেদের সংসার চালান। আবার ব্যাংকের ঋণও তাদের অনেককে দুর্ভাবনায় ফেলেছে বলে জানান তারা। অন্যদিকে প্রায়ই নতুন নতুন এলাকা লকডাউনের আওতায় যাওয়ায় নতুন করে বাসা খোঁজা বা বাসা বদল করাটাও বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে নগরের বাসিন্দাদের জন্য। মহামারির কারণে চাকরি হারানোর ফলে শহরে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ায় অনেকেই এখন আর বেশি ভাড়াওয়ালা বাসায় থাকতে চাচ্ছেন না। কেউবা চলে যাচ্ছেন গ্রামের বাড়িতে।

নগরীর খুলশী এলাকার বাসিন্দা কামরান উদ্দিন নামে একজন বাড়ির মালিক বলেন, ‘আমার বাড়ির তিনটি ফ্ল্যাট গত এপ্রিল থেকে খালি পড়ে আছে। পুরনো ভাড়াটিয়ারা সস্তায় বাসা খোঁজে সেখানে চলে গেছেন। গত তিন মাস ধরে নতুন কোনো ভাড়াটিয়াও আর আসেননি।’

তিনি আরও জানান, তার বাড়ির প্রতিটি ফ্ল্যাট সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া দিতেন তিনি। চাহিদাও ছিলো বেশ। কিন্তু ভাড়াটিয়ার এমন আকাল এর আগে কখনো দেখেননি তিনি।

ফয়সাল নামের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ও তার আরও চার বন্ধু মিলে হালিশহর এলাকায় এক বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তারা বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। মূলত টিউশান করে তারা তাদের অধিকাংশ খরচ চালাতেন। কিন্তু বর্তমানে টিউশানও না থাকায় বাসা ভাড়া বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে, যার ফলে তারা বাধ্য হয়েই বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামে পরিবারের কাছে চলে যান।

লালখানবাজার এলকার বাড়ির মালিক হুমায়ুন কাদের বলেন, তার বাড়ির ৯টি ফ্লাটের মাঝে ২টি গত দুইমাস ধরে খালি। অন্য ভাড়াটিয়ারাও ভাড়া পরিশোধ করতে দেরি করছেন।

তিনি আরও বলেন, এই বাড়িটি বানানোর সময় তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। প্রতিমাসেই কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে হয় তাকে। একে একে ভাড়াটিয়ারা চলে যাওয়ায় এবং নতুন ভাড়াটিয়া না আসায় দুর্ভাবনায় পড়েছেন তিনি।

এদিকে এ কে খান এলাকায় বসবাসরত সিএনজি চালক রহমত উল্লাহ জানান, পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন যাবত আয় বন্ধ ছিলো। এখনও প্রয়োজনের তুলনায় আয় নেই তাছাড়া জমানো অর্থও নেই তার। পরিবারে উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি তিনি। বাসা ভাড়া দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। বাসা ভাড়া কমিয়ে রাখতে অনুরোধ করলে তা নাকচ করে দেয় বাড়িওয়ালা।

অন্যদিকে রিক্সা চালক মহিম জানান, তিন মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় বাড়িওয়ালা কয়েকদফায় এসে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের শাসিয়ে গেছেন।

২৭ বছর বয়সী এই রিক্সা চালক জানান, আগে সময়মতো বাড়িভাড়া পরিশোধ করতেন কিন্তু এই মহামারিকালীন সময়ে আয় কমে এসেছে। কিন্তু তা বাড়িওয়ালা বুঝতে চাইছেন না।

সাধারণত ভাড়া দেওয়ার সময় বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে দুই মাসের ভাড়া অগ্রীম নিয়ে রাখেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশজুড়ে গত তিনমাসের স্থবিরতায় সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী যারা হয়েছেন তাদের তালিকায় নেই বাড়িওয়ালারা। মহামারির কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকটে স্বচ্ছল লোকেদের তাৎক্ষণিক লাভ ক্ষতির হিসাব করা উচিত না। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জায়গা থেকে ভাড়াটিয়াদের কষ্টের বিষয়ে আমাদের নজর দেওয়া উচিত। বর্তমান সংকট মোকাবিলা করতে বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়া দুই পক্ষকেই একটা ভালো বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :