বাংলাদেশ, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০

পটিয়ায় পিডিবির গ্রাহকদের ঘাড়ে অতিরিক্ত বিল

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৭ ১২:১৩:০৭ || আপডেট: ২০২০-০৬-২৭ ১২:১৩:০৯

পটিয়া প্রতিনিধি »

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পিডিবির গ্রাহকদের গত তিন মাসের বকেয়া মূল বিদ্যুৎ বিলের সাথে অতিরিক্ত ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল আদায় নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মূল বিলের সাথে বাড়তি যোগ করা হয়েছে প্রতি গ্রাহকদের গড়ে ৫শ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। উক্ত বিল যথা সময়ে পরিশোধ করা না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বিলগুলো সমন্বয় করা কথা বলা হলেও পটিয়া বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত গ্রাহকদের সাথে কোন কথা বলছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে পিডিবির পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে ঘোষণা করা হচ্ছে তিন মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল গত ২৫ জুনের মধ্যে পরিশোধ করা না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিচ্ছে। এই ভয়ে গ্রাহকদের গাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে মূল বিলের সাথে অতিরিক্ত ৪ কোটি টাকা থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হয়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির এক কর্মচারী জানান, আমাদের অফিসের কিছু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের আত্বীয় স্বজনদের বাসা বাড়িতে নামে মাত্র বিল দিয়ে আসছে প্রায় ১০/১৫ বছর ধরে। কার বিল কত হবে সেটা অফিস থেকে এবং দালালরা নির্ধারণ করে দেয় বল জানান।

পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলায় পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎতের প্রায় লক্ষাধিক গ্রাহক রয়েছে। এরমধ্যে শুধু পিডিবির গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৪২ হাজার। প্রতিটি গ্রাহককে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। করোনার সুযোগে মিটার রিডিং না দেখে গত তিন মাসের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয়েছে।

পটিয়া পৌর সদরের পিডিবির অফিসে সরাসরি অভিযোগ করেও কোন সুরহা মিলছে না। বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গ্রাহকের চাপে পড়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কিছু কিছু গ্রাহকের বিল সমন্বয় ও কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ দিলেও পিডিবি অনড়। করোনা ভাইরাসের কারণে পটিয়াও লকডাউনের আওতায় ছিল। বিদ্যুতের গ্রাহকদের মূল বিলের সাথে হাজার টাকা থেকে ৫/৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল দেয়া হয়েছে। এভাবে প্রতি গ্রাহককে মনগড়া বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার ভাটিখাইনের আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছালেহ মো. শাহরিয়ার অভিযোগ করে জানান তার ঘরে পল্লী বিদ্যুতের দুটি মিটার রয়েছে। তার মধ্যে গত মার্চ মাসে একটি মিটারে ৬০৬ টাকা এবং অন্যটি ৫৫৫ টাকা বিল দেওয়া হয়। এপ্রিল মাসে ১ হাজার ২৩১ টাকা এবং অন্যটি ১ হাজার ৩৫০ টাকা। মে মাসে ৩ হাজার ১৯৮ এবং অন্যটি ১ হাজার ৭১৯ টাকা। প্রতিটি বিলে মনগড়া বিল করা হয়েছে। মিটার ভাড়া ১০ টাকা হলেও গত কয়েক মাস ধরে ৪০ ও ৩০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান উদ্দীন বশির তার ব্যক্তিগত এফবিতে লিখেছেন তাকে ১২ হাজার টাকা বিল দেয়া হয়েছে কোন কারণ ছাড়া। কি কারণে দেয়া হয়েছে কিছু জানে না বলে তিনি জানান। চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক ওমর ফারুকের গ্রামের বাড়ি পটিয়া হাইদগাওতে তিন মাসের ২১শ টাকা বিলে দেয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা বলে দাবি করেন। পটিয়া সদরের ওখাড়া এলাকার আবু তাহের চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন তার ঘরে মার্চ এপ্রিল মেসহ তিন মাসে ৮শ থেকে ১২শ টাকা করে আসার কথা ২৫শ থেকে ৩৬শ টাকার বিল হওয়ার কথা থাকলেও বিল দেয়া হয়েছে ১২ হাজার টাকা। আমি ১২ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করেছি আমার বাড়তি বিলগুলো কি ফেরত দিবে নাকি পরবর্তী মাসগুলোকে নীল দিবে পিডির এ বিষয়ে পরিস্কার কিছু বলছে না।

পটিয়া বিদ্যুাৎ গ্রাহক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি স. ম. ইউনুচ বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবি সাধারণ গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। যেখানে প্রধামনন্ত্রী মানবিক কারণে করোনা ভাইরাসের কারণে বিদ্যুৎ বিল দিনে না পারলে জরিমানা না করার নির্দেশ দিয়েছে সেখানে পটিয়া পিডিবির কর্ত ব্যক্তিরা মানুষের সাথে প্রতারণা করে কয়েক কোটি টাকার ভুয়া বিল করেছে এটা নিয়ে সবাই মিলে জোরালো আন্দোলন করা দরকার বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপির পটিয়া পিডিবির দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিনিধি মোহাম্মদ এম নাছির উদ্দীন জানান, বিষয়টি হুইপ মহোদয় বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয়ের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং পিডিবির পটিয়া নির্বাহী প্রকৌশলীকেও জানানো হয়েছে অতিরিক্ত বিলগুলো সংশোধন পাঠানোর জন্য, করোনার কারণে বিলগুলো নাকি সরাসরি ঢাকা থেকে করা হয়েছে যার কারলে প্রতিটি গ্রাহককে হাজার হাজার টাকার বাড়তি বিল এসেছে এরমধ্যে যারা পরিশোধ করেছে তাদের আগামী বিলের সাথে সমন্বয় করা হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে পটিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসমাঈল হোসেন বলেন, গ্রাহকদের কিছু বিল মিটার রিডিং এর সাথে মিল না থাকায় এটা সংশোধন করা হচ্ছে। এটা পরবর্তী বিলের সাথে যোজন বিয়োজন করা হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :