বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০

অবশেষে শীর্ষ ইয়াবা ডন হাজী সাইফুল ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-৩১ ১৫:১৮:৪৭ || আপডেট: ২০১৯-০৫-৩১ ১৫:১৮:৫৫

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

রাষ্ট্রীয় তালিকায় প্রধান ইয়াবা গডফাদার হিসেবে আলোচিত ইয়াবা কারবারি সাইফুল ইসলাম ওরফে হাজি সাইফুল অবশেষে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দিনগত রাত ১টার দিকে টেকনাফ স্থল বন্দরের সীমানা এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে তিনি মারাগেছেন বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৯টি এলজি, ৪২ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, ৩৩ রাউন্ড কার্তুজের খোসা এবং এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ওসি।

নিহত সাইফুল ইসলাম ওরফে হাজি সাইফুল (৪৫) টেকনাফ শীলবুনিয়াপারার মোহাম্মদ হানিফ ওরফে হানিফ ডাক্তারের ছেলে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়সহ সকল গোয়েন্দা সংস্থার তালিকার প্রধান ইয়াবা গডফাদার এবং দেশের ১নং মাদক ব্যবসায়ী ও টেকনাফ থানার কয়েকটি মামলার পলাতক আসামি।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, সাইফুলকে গ্রেফতার পূর্বক ব্যাপক জিজ্ঞেসাবাদে সে জানায়, গত কয়েক দিন পূর্বে ইয়াবার একটি বড় চালান ইঞ্জিন চালিত বোট যোগে মিয়ানমার থেকে এনে টেকনাফ সদর স্থল বন্দরের সীমানা প্রাচীরের শেষ প্রান্তে নাফ নদীর পাড়ে মজুদ করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াবা উদ্ধারের জন্য বৃহস্পতিবার (৩১ মে) দিনগত রাত ১টার দিকে উক্ত স্থানে পৌঁছলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার অপরাপর সহযোগী অস্ত্রধারী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে ঘটনাস্থলে এসআই রাসেল আহমেদ, কনস্টেবল ইমাম হোসেন, সোলেমান আহত হয়।

ওসি আরো জানান, তাৎক্ষণিক আমার নির্দেশে নিজেদের জীবন ও সরকারী সম্পত্তি রক্ষার্থে পুলিশ ৫২ রাউন্ড গুলি করে। এক পর্যায়ে আটক সাইফুল গুলিবিদ্ধ হয়। গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে পুলিশ গুলি করা বন্ধ করে। এক পর্যায়ে অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করতে করতে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় তল্লাশী করে আসামীদের বিক্ষিপ্ত ভাবে ফেলে যাওয়া ৯ টি এলজি (আগ্নেয়াস্ত্র), ৪২ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, ৩৩ রাউন্ড কার্তুজের খোসা এবং এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

গুলিবিদ্ধ সাইফুল করিম ও আহত পুলিশ সদস্যদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাহাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন। ভোররাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত ডাক্তার সাইফুলকে মৃত ঘোষনা করেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ওসি আরো উল্লেখ্য, সাইফুল করিমের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানার এফ আই আর নং-১৫/৩৩৬, তারিখ- ৫ মে, ২০১৯; ঘটিকা ধারা- ১৯ (ধ)/১৯(ভ) ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন; টেকনাফ থানার এফ আই আর নং-১৫/৩৩৭, তারিখ- ৫ মে, ২০১৯; ঘটিকা ধারা- ৩৬(১) এর ১০(গ)/৪১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮; চট্টগ্রামের ডবলমুরিং মডেল থানার এফ আই আর নং-৫৬, তারিখ- ৩০ এপ্রিল, ২০১৯; ধারা- ৪ (২) ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন; তৎসহ ২৬ (২)/২৭ (১) ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন; টেকনাফ থানার এফ আই আর নং-৪৩/৬৮২, তারিখ- ৯ নভেম্বর, ২০১৮; ধারা- ১৯(১) এর ৯(খ)/২৫ ১৯৯০ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন; টেকনাফ থানার এফ আই আর নং-১০, তারিখ- ৩ মে ২০১৯খ্রিঃ ধারা- ১৯ (অ)/১৯(ভ) ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ; টেকনাফ থানার এফ আই আর নং-১১, তারিখ- ৩ মে ২০১৯খ্রিঃ ধারা- ২০১৮ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ৩৬ (১) এর ১০ (গ)/৪১; চট্টগ্রাম সিএমপি হালিশহর থানায় ১৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার মামলা নং- ১(৫)১৮, ধারা- ১৯৯০ সলের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ১৯(১) এর ৯ (খ)/২৫/৩৩ (১) এর অস্থিত্ব পাওয়া যায়।

এছাড়াও আজকের ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওসি। ঘটনার পর হতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও দাবি করেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

ট্যাগ :

close