বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০

খাগড়াছড়ি বিআরটিএ’র সীমাহীন দুর্নীতি ও দালালের দৌরাত্ন্যে দিশেহারা মোটরযান মালিকরা

প্রকাশ: ২০১৯-১০-২৯ ১৪:৪২:১০ || আপডেট: ২০১৯-১০-২৯ ১৪:৪২:১৬

জসিম উদ্দিন জয়নাল, খাগড়াছড়ি »

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) খাগড়াছড়ি জেলা কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া কোন কাজই হয় না। একদিকে দালালদের দৌরাত্ম্য অন্যদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সীমাহীন ঘুষ বানিজ্যে দিশেহারা হয়ে উঠেছে মোটরযান মালিকরা।

খাগড়াছড়ি বিআরটিএ অফিসে ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরযান রেজিষ্ট্রেশন, রুট পারমিটসহ সর্বক্ষেত্রে এ কার্যালয়ে দালাল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ বানিজ্যের এক প্রকার প্রতিযোগিতা চলে। কার্যালয়টির অনিয়ম-দুর্নীতি যেন দেখার কেউ নেই..!

একাধিক গ্রাহক, শো-রুম মালিক এবং ভুক্তভোগী জানান, মোটরযান এনডোর্সমেন্ট, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফেকেট, স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরযানের শ্রেণী পরিবর্তন বা সংযোজন/ ধরণ পরিবর্তন / অন্তর্ভুক্তি / পিএসভি / তথ্য সংশোধন, ডুপ্লিকেট সার্টিফিকেট, রুট পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ খাগড়াছড়ি বিআরটিএ কার্যালয়ে যে কোন কাজ করতে গেলে দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। কার্যালয়টির সামনে ছদ্মবেশী দালাল আর ভিতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সীমাহীন ঘুষ বানিজ্যে দিশেহারা হয়ে পড়ে মোটরযান মালিকরা।

শুধু তাই নয় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার এ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিত্যদিনের সঙ্গি।

এদিকে ভুক্তভোগি মোটরযান মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, একদিকে বিআরটিএর দূর্নীতি অন্যদিকে মোটর যান শোরুম থেকে গাড়ি ক্রয়ের সেলস রশিদ না দেওয়ার কারনে বিআরটিএতে আবদেন করা যায়না।

প্রতিদিন জেলার নয়টি উপজেলার কয়েক শ মানুষ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে আসেন জেলা শহরে। অনেক সময় বিআরটিএ কর্মকর্তারা অফিসে না থাকার কারনে নিদিষ্ট সময়ে তাদের কাগজ পএ অফিসে জমা দিতে পারেনা।আবার অনেক সময় কাগজ জমা নিলেও বিআরটিএ অফিসে মোটাঅঙ্কের ঘুষ দিতে হয়।

তাঁরা শহরের মাইকম্পিউটারে টাকা জমা দেওয়ার জন্য ভিড় করেন। কিন্তু সেখানে প্রতিদিন ২৫-৩০ জন ফির টাকা জমা দিতে পারেন। বাকিরা টাকা জমা দিতে না পেরে ফিরে যান। অনেকে দুই সপ্তাহ ঘুরেও টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

খাগড়াছড়ি জেলার ভুক্তভোগি মোটরযান মালিক মো: আব্দুল মালেক বাংলাধারাকে বলেন, আমার নামের একটি অক্ষর ভুল হওয়াতে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছে খাগড়াছড়ি বিআরটিএ অফিস।

প্রতিটি মোটরসাইকেল নাম্বার করাতে খাগড়াছড়ি বিআরটিএ কার্যালয়ের উপ – সহকারী পরিচালক প্রদ্বীপ কুমার দেবের কাছে দূর্নীতি অনিয়ম সর্ম্পকে মুটোফোনে জানতে চাইলে তিনি বাংলাধারাকে বলেন, গ্রাহকদের কিছু অভিযোগ থাকতে পারে। তবে আমি আসার পর সেবার মান কিছুটা বেড়েছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :

close