বাংলাদেশ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২০

ছাত্রদলের নেতা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আওয়ামী রাজনীতিতে: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ভাইরাল!

প্রকাশ: ২০১৯-১০-২৯ ১৬:৪৯:৪৮ || আপডেট: ২০১৯-১০-২৯ ১৬:৪৯:৫৫

কর্ণফুলী প্রতিনিধি »

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সদস্যের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশকারীর অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় তৃণমূল আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে রাজনীতিতে তার দাপিয়ে বেড়ানো কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

অভিযোগ ওঠা ওই ব্যাক্তির নাম ‘এমএ মালেক’। তিনি ২০১৬ সালেও তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা থাকলেও বর্তমানে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের দাপটে সদস্য। এ নিয়ে কর্ণফুলী উপজেলায় জনগণসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও চলছে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা সমালোচনা। বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্যা কর্ণফুলী টাউন’।

জানা যায়, ২০০১ সালে সাবেক পশ্চিম পটিয়া এজে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন আব্দুল মালেক প্রকাশ ঘোড়া মালেক। ২০১৬ সালেও তিনি বিএনপির বড় নেতা। কিন্তু সম্প্রতি উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে ডানে বামে দাঁড়িয়ে বহু ছবি তোলে ফেইসবুকে ছড়ালে তোপের মুখে পড়ে।

যদিও ঘোড়া মালেক কথিত ইঞ্জিনিয়ার এমএ মালেক বর্তমানে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য ও কমিউনিটি পুলিশিং ১৪২ নং বিট কমিটির সভাপতি। এই বিএনপি নেতার সাথে পুলিশ প্রশাসনের এসি ওসির নানা ছবিও ফেইসবুকে শোভা পাচ্ছে।

গত ২৮ অক্টোবর দুপুর ২টা ১ মিনিটের সময় এমএ মালেক তার নিজস্ব ফেইসবুকে ওয়ালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর পিছনে দাড়িয়ে ১৪টি ছবি পোস্ট করেন।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর পিছনে সাদা পাঞ্জাবী পরিহিত। এর আগের দিন ২৭ অক্টোবর বিকেল ৫টায় তিনি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় গলায় পাস কার্ড ঝুঁলিয়ে ১০টি ছবি পোস্ট দিতে।

বিষয়টি নিয়ে মুর্হুতেই সামাজিক সাইটে সমালোচনার ঝড় উঠে। তার দেওয়া পোস্টে-ই ‘বাংলার জনতা’ নামে একটা আইডি থেকে কমেন্টস জুড়ে দেন, ‘তেল মালেক বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগ নেতা। চামড়া পরিবর্তন নেতা। তুমি অনেক নেতার ক্ষতি করছ সব কিছুর হিসাব হবে একদিন।’

এসব দেখে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আল পাপ্পু তার নিজের ফেইসবুক আইডিতে ২৮ অক্টোবর ৩টা ৪৪ মিনিটে একটি পোস্ট দেন। এতে বিভিন্ন আওয়ামী নেতা ও মন্ত্রীদের সাথে তোলা ঘোড়া মালেকের ৯টি ছবি জুড়ে দেন।

তাতে আজগর লিখেন, “কিসের আদর্শ কিসের নীতি। বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারি ঘোড়া মালেকেই আগামী কর্ণফুলী উপজেলার নৌকার মাঝি। এর খুঁটির জোর কর্ণফুলী থেকে দক্ষিণ জেলা, দক্ষিণ জেলা থেকে বর্তমানে কেন্দ্রীয়। এরে ঠেকায় কেডা। কর্ণফুলী থানা থেকে ডিসি অফিস। সব জায়গায় ঘোড়া মালেক ঘোড়া মালেক। ফারুক ভাইয়ের আবিস্কার আপনার কর্মী সফল হবে।” (সংঙ্গত কারণে বানান ঠিক করা হল)।

এমডি এমরান চৌধুরী নামে আরেক জন কমেন্টস এর ঘরে ছবি দেন। তাতে দেখা যায়, ঘোড়া মালেক দক্ষিণ জেলার বিএনপি নেতা এসএম মামুন মিয়া, অ্যাডভোকেট ফোরকান আহমেদ ও যুবদল নেতা মো. ওসমানের হাতে ধানের শীষ তুলে দিচ্ছেন। ছবিটি ২০১৬ সালের উপজেলা নির্বাচনে তোলা বলে অনেকে জানান।

ছাত্রলীগ এজে চৌধুরী কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন রুবেল, ‘দিন শেষে ঘোড়া মালেকরাই সফল, এ সফলতার  চাবিকাটি আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী সভাপতি আলহাজ্ব ফারুক চৌধুরী। ভাই মালেক, ফারুক চৌধুরীর পরের আসনটা তোমারি হউক।’

কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আমিন কমেন্টস করেন, ‘যে ঘোড়া মালেক ২০০১ সালে এজে চৌধুরী কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর সাথে যুদ্ধ করত! আজ সেই নাকি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য! আজ হাইব্রীড যোগে সত্যিকারের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা হয়ে গেছে অসহায়, এসো আমরা এক সাথে এদের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলি তখন পালানোর পথ পাবে না।’

এছাড়াও কর্ণফুলীর বিভিন্ন চায়ের দোকানে আলোচনা সমালোচনা করতে দেখা যায়। সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ও বিএনপি নেতা কি করে কেন্দ্রীয় আ’লীগ নেতার এত কাছে দাড়িয়ে ছবি তোলতে পারে! কে তাকে এতদুর পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে! এমন প্রশ্ন তোলতে।

উপজেলার মো. বাহাদুর খাঁন নামে একজন জানান, ‘ঘোড়া মালেক কে যিনি আওয়ামী রাজনীতিতে এনেছেন তিনিও হাইব্রিড সে আগে জাতীয়পার্টি করতেন।’

জানা যায়, এই মালেক এর কারণে ২০০১ সালে পশ্চিম পটিয়া এজে চৌধুরী কলেজে সে সময়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মিছিল মিটিং করতে পারতেন না। চাপাতি হাতে ঘোড়া মালেক ছাত্রলীগকে দৌড়াতেন। এমন কি  বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কলেজে টাঙানো বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলেন এবং প্রকাশ্যে সেই ছবি ভাঙচুর করেন।

ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তিনি ২০১৩ সালে আওয়ামী রাজনীতিতে আসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে। ধীরে ধীরে নিজেকে উপজেলা আওয়ামী লীগে প্রবেশ করান। প্রচলন রয়েছে এতে নাকি বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক চৌধুরী কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি। তবে নাম প্রকাশ না শর্তে কর্ণফুলী উপজেলা আ’লীগের একজন সহ সভাপতি বলেন, ‘কি বলব আমরা কিছু বললে তিলকে তাল বানিয়ে মন্ত্রীর কাছে বুঝায়। পরে নানা কথা শুনতে হয়। এখন তো হাইব্রিডের যুগ।’

ভাইরাল হওয়া ছবি বিষয়ে জানতে চাইলে এমএ মালেক অস্বীকার করে বলেন, ‘এসব অপপ্রচার, একটা জরুরী কাছে ব্যস্ত আছি পরে আপনাকে রিং করবো বলে ফোন কেটে দেন।’

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :

close
bangladhara ads