বাংলাদেশ, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদল নেতার পক্ষে কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যানের সাফাই স্ট্যাটাস!

প্রকাশ:২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কর্ণফুলী প্রতিনিধি »

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলার বহুল বির্তকিত ছাত্রদল নেতা এম এ মালেকের সাথে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এ প্রসঙ্গ টেনে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় নিজের ফেসইবুক আইডিতে ‘পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট’ শিরোনামে একটা স্ট্যাটাস পোস্ট করেন।

পোস্টটি দ্রুত সময়ে ১৯টি শেয়ার ও ৫১টি কমেন্টস জুড়ে ছাত্রদল নেতা এমএ মালেক প্রকাশ ঘোড়া মালেকের পক্ষে বিপক্ষে নিয়ে নানা সমালোচনার ঝড় তোলে। উপজেলার আনাচে কানাচে এখন টক অব দ্যা ঘোড়া মালেক।

পাঠকের প্রয়োজনে ফারুক চৌধুরীর পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো: “পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট: ‘ডেলিগেট এবং কাউন্সিলর? ডেলিগেট কার্ড ৭০ নির্দেশনা ছিলঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্ণফুলী উপজেলা শাখা-৭১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ২ জন চেয়ারম্যান ৫ জন সভাপতি /সাধারণ সম্পাদক ১০ জন।

ডিলিগেট কার্ডের লিষ্ট আমরা কেন্দ্রে জমা দিয়েছি এর বাইরে আমাদের সেক্রেটারী জেনারেল অনেক তদবীর করে ৬টি কার্ড অতিরিক্ত নিয়েছেন যা উপদেষ্টা মন্ডলীসহ কয়েকজন কে দিয়েছেন ।

আমাদের ইস্যুকৃত কার্ড বাঁশখালীর একজনের গলায় পেয়েছি এই রকম আরো অনেকের কাছে হয়ত কেউ না কেউ দিয়েছেন। এইটা খুব স্বাভাবিক। সেই রকম এমএ মালেক হয়ত আগ্রহ দেখিয়েছেন সেজন্য কেউ দিয়েছেন। তবে কে দিয়েছেন সেটা আমি জেনেছি। এখানে সমস্যা ইঞ্জিনিয়ার এম এ মালেকের নয় ? প্রথমে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্ণফুলী উপজেলা শাখা এবং জুলধা ইউনিয়ন শাখার সাবেক নেতৃবৃন্দকে, যারা ইঞ্জিনিয়ার এম এ মালেকর মত একজনকে বাংলাদেশ আওয়ামী পরিবারের সদস্য করেছেন।

ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সুযোগ্য সভাপতি এবং সুযোগ্য সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা শাখার সকল নেতৃবৃন্দ কে যারা এম এ মালেকের যোগদান অনুষ্টানে উপস্থিত থেকে এবং আথিতিয়তা গ্রহণ করে অনুপ্রেরনা যুগিয়েছেন ।

ইঞ্জিনিয়ার এম এ মালেক ১৯৯৮ সাল থেকে (সাউথ কোরিয়া -দুবাই) একজন ওয়াজ আর্নার ( তার পাসপোর্ট অনুসারে )। ডিপ্লোমা কোর্স করে দুবাই থেকে ইঞ্জিনিয়ার পদবী সংগ্রহ করে। রাজনীতির চেয়ে সামাজিকতাই বেশী । ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেইবার জনাব নুরুল হক চেয়ারম্যান বিজয়ী হন কথিত আছে বিদেশ থেকে এসে সে অনেক কষ্ট করেছিল ।

ইঞ্জিনিয়ার এম এ মালেকের সাথে আমাদের দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে আমাদের প্রয়াত নেতা আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী স্মৃতি গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে জুলধা ইউনিয়ন ফুটবল দল গড়তে গিয়ে। তখন টুর্নামেন্টকে আকর্ষণীয় করতে তার বিয়ের সময় যেই ঘোড়া নিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন সেই ঘোড়াও ব্যবহার করেছে।

যে ছবিটি উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের সাথে প্রতীক নিয়ে দেখা যাচ্ছে সেটা তার বাসায় তাকে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশগ্রহণ করাতে যায় ।

যেহেতু জুলধা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আছে জুলধায় আঞ্চলিকতা চলে আসবে, যে কোন মূল্যে এম এ মালেক কে আমাদের প্রচারনায় অংশগ্রহণ করাতে হবে এবং কেন্দ্রটা ওর বাসার সাথে লাগোয়া। সেটা ছিল আমাদের জুলধায় যারা নির্বাচন পরিচালনা করছেন তাদের সিন্ধান্ত। অবশ্য রফিক চেয়ারম্যান যে কোন কারণে বিরোধিতা করেছিল। পরে ঠিক হয়েছে।

বলাবাহুল্য তখন এম এ মালেক কে আমাদের দরকার। পরের দিন জুলধা পাইপের গোড়া বাজারে ক্যাম্পিং পোগ্রাম করে এম এ মালেকের ঘরে গিয়ে তাকে আবদার খাটিয়ে আমাদের প্রচারনায় অংশগ্রহণ করায় । সেই থেকে এম এ মালেক আমাদের দলীয় লোকজনের সাথে উপজেলা এবং জাতীয় নির্বাচন করেছে ।

বিএনপি ঘরানার লোকজনকে আমাদের আদর্শে উজ্জীবিত করার জন্য তার সে কি প্রানান্ত চেষ্টা ? মনে রাখতে হবে যারা নির্বাচন করেছেন তারা ভাল বুঝবেন । অতঃপর ২*১=২ ২*২ =৬..তাছাড়া জগদ সেট আর রায় দুর্লভ যেমন পক্ষে ছিল মিরজাফর এবং ঘসেটিও ছিল ।

কে কতবার বিএনপি প্রার্থীদের সাথে এবং তাদের আত্মীয় স্বজনের সাথে কথা বলেছেন ফোন ট্র্যাকিং করে সযত্নে রেখে দিয়েছি। তাদেরই একজন জাতীয় নির্বাচনে উপজেলার প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে জিজ্ঞেস করেছিলেন প্রচারনা চালিয়ে লাভ কি ? জনগনতো …পাবে না।

যাক ইঞ্জিনিয়ার এম এ মালেক ইস্যু : যোগদানের পর থেকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য। তার কোন পদপদবী নেই । মিটিং মিছিলে আমি খেয়াল করি সবাই এম এ মালেক কে খুঁজে ছবি উঠানোর জন্য। ওর একটা ভুল হল সবার ছবি উঠায় প্রচারও করে কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানের টা বেশী প্রচার করে। এইটা হল ওর সবচেয়ে বড় অপরাধ। কম সময়ে মন্ত্রী মহোদয় ওকে জানে, মোসলেম ভাই, মফিজ ভাই জানে, আমরা জানি এইটাও আরেক ধরনের সমস্যা ।

তাকে কতবার বলেছি তোমার তিনটি ছেলে। বড় ছেলে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। ছেলেদের মানুষ করার জন্য সময় দাও। ঘর ভাড়ার টাকা অগ্রীম নিয়ে ব্যানার করতে যায়, ছেলেদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ায় ।

কই সে তো কখনো পদ পদবী চায় নি ? সে তো কখনো কাজের কথা বলেনি ? সে তো কখনো কখনো চাঁদা দাবি করেনি ? তার সাথে মন্ত্রী মহোদয় এবং সবার সাথে ছবি আছে সেটা কি প্রমাণ করে ? ৪৫টি ওয়ার্ডে সমানতালেই সদস্য সংগ্রহ চলছে এইটা ভাল লাগে না ?

কর্ণফুলী উপজেলা (এক সময়ের মিনি পাকিস্তান খ্যাত) আওয়ামী লীগের দূর্গ হতে চলেছে ভাল লাগে না ? মন্ত্রী মহোদয়ের হাত ধরে সব কাজ হয়ে যাচ্ছে ভাল লাগে না ?

উপজেলা চেয়ারম্যান যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন মন্ত্রী মহোদয়ের সিন্ধান্ত মোতাবেক ভাল লাগে না ? সভাপতি /সাধারণ সম্পাদক যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন ভাল লাগে না? ১৯৭৮-৭৯ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হিসেবে রাজনীতি শুরু। (আমার নেতারা মাশাআল্লাহ্ বেঁচে আছেন দুজনই) ৭৫ এর পরে ছাত্রলীগ। তখন নেত্রী দেশে আসেন নি । ৮১ সালে নেত্রী দেশে আসলে কলেজ ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করতে গিয়ে ছাত্রদল দ্বারা আক্রান্ত হই ।

১৯৮৬ সালে আমার কেন্দ্রে এজেন্টের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জাতীয় পার্টির লোকের হাতে নিগৃহীত হই। ১৯৯০ সালে ৮ই ফেব্রুয়ারীর চাকসু নির্বাচনে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নাজিম-আজিম প্যানেলের  প্রচারনায় (মশারী পার্টি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। কারণ আমি জন্মসূত্রে আওয়ামী লীগ। আমাদের গঠনতন্ত্রে বলা আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ দেশ পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ আসতে চাইলে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদ দেওয়া যাবে।

এম এ মালেকের পদপদবী দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আমার জন্য হয়ে উঠেনি, সেই খবরটাও যারা কমিটি গঠনে সাথে ছিল তারা জানে। আরও জানেন আমাদের অভিভাবক। বিদ্যা বিনয়ং দদাতি-বিনয়ং বসিকৃতং জগত। সত্যম শিবম সুন্দরম। সকলের সহযোগীতা চায় সুন্দর রাজনীতি চর্চার-নেতা যা বলার তা যেন কর্মী না বলে। কর্মী যা করবে তা যেন নেতা না করে। রাজনীতির শুদ্ধাচার বড়ই প্রয়োজন। পাদঠিকা -কর্ণফুলী উপজেলার যে কোন সাফল্যে আমাদের প্রয়াত জননেতার আত্মার শান্তি পায়”।

উপরের বর্ণিত ফারুক চৌধুরীর স্ট্যাটাসটিতে আজগর আল পাপ্পু নামে একজন কমেন্টস করেন, ‘আমি বড় অবাক হলাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঘোড়া মালেক কে দলে খুব প্রয়োজন ছিল বলে। আরো অবাক হলাম দলে কে ভিড়িয়েছে সঠিক টা উপস্থাপন না করে। অবাক হলাম চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ কার্যালয়ে কিভাবে ডুকল তার উত্তর না পেয়ে। তার চাইতে বেশী অবাক হলাম দল ভারি করতে প্রধানমন্ত্রী আদেশ অমান্য করে সদস্য পদ দেওয়া যাবে এমন কথা সভাপতি সাহেবের কাছ জানতে পেরে।’

স্ট্যাটাসে আলা উদ্দিন মুহাম্মদ মাঝি মন্তব্য করেন, ‘সিনিয়র নেতাদের মুখে শুনেছি যারা আগেকার দিনে ছাত্রলীগের ছেলেদের হিন্দুর ছেলে বলে গালি দিতো তাদের পরের প্রজন্মের নব্য আওয়ামী লীগ নেতার কর্মীও এখন উপজেলা আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী খুঁজে। আরেকজন দেখলাম মালেক কে মেডিসিন দিতে চায় তারে বলি আপনিও আগে এলডিপি করতেন আপনারে কে মেডিসিন দিবে? উপজেলার আরেক নেতা কর্ণফুলীতে বসবাস করেন কিন্তু ঘরজামাই শ্বশুর বিএনপির বড়নেতা সেও অনুপ্রবেশ নিয়ে খুবই চিন্তিত ফেইসবুকে অনুপ্রবেশকারীকে গালি দেয় আবার বাসায় গিয়া বিএনপি নেতাকে আব্বা বলে পায়ে ধরে সালাম করে। উপজেলা নির্বাচনে কথিত ত্যাগী নেতাদের অডিও ক্লিপগুলা ফাস করা হোক যাতে করে ৬/৭ মাস আগে রাজিনীতিতে আসা ছেলেগুলা এইসব ত্যাগী নেতাদের ত্যাগ সম্পর্কে একটু জানতে পারে। কারণ নতুন নতুন নেতা হইছে তো তারা বেশী আবেগী।’

সত্যবাদী মানুষ নামে একটি আইডি মন্তব্য ছুড়ে বলেন, ‘আপনি উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অনেক ক্ষমতাবান, আপনার সাথে সবাই সহমত পোষণ করবে, সবাই হ্যা তে হ্যাঁ মিলাবে, আদতে ঘোড়া মালেক’কে কে কতোটা পছন্দ করে সেটা জেনে নেন।

নিজের সিদ্ধান্ত সবার উপরে চাপিয়ে দিবেন না, সবাই কি চাই সেটা দেখুন। ভাবতে অবাক লাগে ঘোড়া মালেকের মতো এরকম ক্লাস লেস, ব্যক্তিকে আপনি আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করিয়ে কি ফায়দা টা যে পাইছেন। ঘোড়া এতো মধু হয়ে গেলো’।

তিনি আরো বলেন, সব মানলাম বুঝলাম, ঘোড়া মালেক যদি বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী হইয়ে এতোই কাজের মানুষ হয়, আর যারা এতো বছর ছাত্রলীগ যুবলীগ করে আসছে তারা কি? তাদের কষ্ট কি জানেন? তারা যখন বিরোধী দলে থাকাবস্থায় ছাত্রলীগ করতো এজে চৌধুরী স্কুলে, তখন এই ঘোড়া মালেকই (তৎকালীন ছাত্রদল সভাপতি)  ছাত্রলীগের জম ছিলো। আজ যখন সরকারি দল ক্ষমতায়, তারপরও ছাত্রলীগ ভাইদের পাত্তা না দিয়ে, আপনারই হাত ধরে আওয়ামিলীগে অনুপ্রবেশকারী এই ঘোড়া মালেকের দৌরাত্ম দেখে সত্ত্যিই অবাক লাগে। তাহলে কি দরকার আর, ছাত্রলীগ যুবলীগ করার। ঘোড়া মালেকরাই তো সফল, যে সরকার আসবে সে সরকারের আদলে চামড়া পাল্টিয়ে ফেলা। প্রশ্নটা আপনার কাছে তোলা রইলো, আশা করি রিপ্লে দিবেন।’

সম্প্রতি কর্ণফুলী রাজনীতিতে কিছু হাইব্রিড নেতার আগমণ ও দলের সু-সময়ে আওয়ামী রাজনীতিতে আসা বহু নেতার পক্ষে বিপক্ষে ফেইসবুকে নানা মন্তব্য ছুড়তে দেখা যায়। এটিও তার ধারাবাহিতকায় পড়ে। সব কিছুর অন্তরালে কর্ণফুলীতে একটি রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযান প্রত্যাশা করছে স্থানীয় তৃণমূল। জনগণ চায় মানবিক রাজনীতি। অনেকে চায় ত্যাগীদের মূল্যায়ন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :

close