বাংলাদেশ, রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

দক্ষিণ চট্টগ্রামের রুটে চালু হচ্ছে এস আলমের নতুন বাস সার্ভিস

প্রকাশ: ২০২০-০১-০২ ১৩:৪৬:৪১ || আপডেট: ২০২০-০১-০২ ১৩:৪৬:৪৭

কাউছার আলম,পটিয়া »

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া রুটে বাসে ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী ভোগান্তি দুর করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস থেকে পটিয়া বাসস্টেশন পর্যন্ত নতুন বাস সার্ভিস চালু করেছে দেশের বৃহত্তর শিল্প গ্রুপ এস আলম।

আগামী সপ্তাহের মধ্যে সিনেমা প্যালেস থেকে বাঁশখালী ও পেকুয়া রুটে এস আলমের নতুন বাস সার্ভিসটি চালু করা হবে বলে জানা গেছে।

বুধবার দুপুরে এই সার্ভিসের উদ্ধোধন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এ সময় এস আলম গ্রুপের পরিচালক (টেকনিক্যাল) শহীদুল আলম ও ডিসি ট্রাফিক (উত্তর) মো. শহীদুল্লাহসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানয়ারি চট্টগ্রাম সিনেমা প্যালেস থেকে শুরু হওয়া বাস সার্ভিসের ৩২ আসন বিশিষ্ট বাসটিতে প্রতি সিটের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। নগরীর সিনেমা প্যালেস থেকে প্রতিদিন সকাল আটটা হতে থেকে আধ ঘন্টা পরপর ৩০টি বাস আসা যাওয়া করবে। পরবর্তীতে বাসের সংখ্যা আরও বাড়নো হবে বলে জানিয়েছেন।

তবে ভাড়া নিয়ে রয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তারা মনে করেন ভাড়াটা যদি ৩০-৪০ টাকা রাখা হতো তাহলে সবার জন্য সহায়ক হতো। তারা এ ব্যাপারে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

এছাড়াও নগরীর কোতোয়ালি ও শাহ আমানত ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় আলাদা যাত্রী কাউন্টার রাখারও দাবি জানিয়েছেন তারা। অনেকেই বাস সার্ভিসটি চালু করায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন এবার তাদের ভোগান্তি কমে আসবে। পটিয়া হতে শহরে আসা যাওয়ার জন্য প্রতিদিন যে ভোগান্তির শিকার হতে হয় তার জন্য শাহ আমানত সেতুর গোল চত্বরে এবং পটিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে কাউন্টার স্হাপন করা হলে মাঝপথ হতে যে সকল যাত্রীরা উঠানামা করবে তাদের জন্য আরো ভালো হবে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই পরিবহণ মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকা পটিয়া সড়কের যাত্রীরা এবার কিছুটা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে। চালক ও হেলপারদের নৈরাজ্য সীমা নিয়ন্ত্রণে আসবে। অপ্রীতিকর ঘটনা ও যাত্রী হয়রানী হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন সাধারণ যাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য বিরাজ করছে।

এখানকার বিভিন্ন রােডে গাড়ির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বহু অভিযোগ রয়েছে পরিবহন চালক-মালিকদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযােগের প্রেক্ষিতে এস আলম সার্ভিস নতুন করে গাড়ি নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

ভুক্তভােগী যাত্রীদের অভিযােগ, সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার, শনিবার ও রােববার গাড়ির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার আসলেই এক শ্রেণির অতিলােভী পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের পকেট কাটতে তৎপর হয়ে উঠে। এছাড়া শনি ও রােববার ও গাড়ি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করেন। এসব দিনে ২০ টাকার ভাড়া ৫০-৮০ টাকা, ৫০ টাকার ভাড়া ৮০-১০০ টাকা এমনকি ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।

এর মধ্যে চন্দনাইশ দোহাজারী-সাতকানিয়ার যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বলে জানান ভুক্তভােগীরা। বৃহস্পতিবার আসলেই লােহাগাড়া-কেরানিহাটের ভাড়া দিয়ে চন্দনাইশ যেতে হয়। এছাড়া বিশেষ ছুটির দিনগুলােতে এ ৩-৪ গুণ বেশি ভাড়া গুণতে হয়। এ ছাড়া নতুন এসব গাড়ি নামানাের ঘরে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। এ অবস্থায় নতুন আরাে গাড়ি নামানাের খবরে যাত্রীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

তবে গতকাল হতে শুরু হওয়া সার্ভিসটির পরদিন আজ বৃহস্পতিবার সকাল হতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যান্য পরিবহনের বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ে আরো তৎপর হতে চোখে পড়েছে। তাদের অযুহাত এস আলম বাস যদি ৫০ টাকা নিতে পারে তাহলে আমরা কেন নিতে পারব না। এ নিয়ে যাত্রীদের সাথে কথা কাটাকাটি হতে দেখা গেছে। তবে আজ সকাল হতে কোন এস আলমের বাস পটিয়া হতে ছেড়ে আসতে দেখা যায় নি।

এ ব্যাপারে এস আলম গ্রুপের উর্ধতন কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম নগরী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহণ সংকট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে দেশের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। শীঘ্রই এসি ও নন এসি মিলে ২০০ বাস নামাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ আরো ৬টি রুটে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১শ নন এসি বাস সার্ভিসটি চালু এবং এসব সার্ভিস তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য আরো ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরো জানা যায়, ভারতের গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি অশোক লেল্যান্ড থেকে এসব বাস সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বাসগুলোর চেসিস সরবরাহ করবে। আর বডি প্রস্তুত হবে দেশেই। এস আলম গ্রুপ বাসগুলো সরবরাহ করতে কার্যাদেশ দিয়েছে এবং বিআরটিএ’র রোড পারমিট ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অনুমোদন পেলে আগামী মাস থেকে মহানগর রুটে ও বাস চলাচল শুরু করবে।

এস আলম গ্রুপের সূত্রে আরো জানা যায়, ইতোমধ্যে ৩০টি বাস দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের দুটি রুটে নতুন সার্ভিসটি চালু করা হয়েছে। শীঘ্রই সিনেমা প্যালেস-পেকুয়া-মগনামা-মহেশখালী ও সিনেমা প্যালেস-পটিয়া অর্থাৎ দক্ষিণ চট্টগ্রাম আরো ৪টি রুটে বাস সার্ভিসটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। রুটগুলোর মধ্যে থাকছে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী, চট্টগ্রাম-সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম-লোহাগাড়া ও চট্টগ্রাম-চকরিয়া। নগরী ও দক্ষিণ জেলার ৯টি রুটে বাস সার্ভিসটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে অন্তত ৫শ লোকের কর্মসংস্থান হবে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

ট্যাগ :

close