বাংলাদেশ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

গায়ে হলুদে দেড় হাজার নারী

প্রকাশ: ২০২০-০১-০৪ ১২:২০:৪৩ || আপডেট: ২০২০-০১-০৪ ১২:২০:৪৯

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

গার্মেন্টসের ছাদের ওপর বিশাল মঞ্চ। কনেকে ঘিরে আছে দেড় হাজার নারী। সবার পড়নে গায়ে হলুদের একই রকম শাড়ি। সবাই ‘হলুদ বাটো, মেন্দি বাটো’, ‘লীলাবালি লীলাবালি…সাজাইবো তোরে’ গানের তালে তালে যেভাবে সুন্দর করে নাচছিলেন, যে কেউ হয়তো বলবে তাদের কোনো সখী অথবা বোনের বিয়ে হচ্ছে।

তবে ঘটনাটা অন্যরকম! ওই দেড় হাজার নারী আত্মীয় স্বজন না হলেও তারা এসেছে মালিকের মেয়ের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে। সকল নারী কর্মীকে দেয়া হয়েছে শাড়ি। তাদের উপস্থিতি এক অন্যরকম সৌন্দর্য ধরা দেয় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট গার্মেন্টসের ছাদে। এদিন ছিল সবার ছুটি। বৃহস্পতিবার দিনটি নিশ্চয় জীবনের সুন্দর এক দিন হিসেবে স্মৃতিতে থাকবে এ পোশাক কন্যাদের।

গার্মেন্টসটির মালিক ব্যবসায়ী নেতা এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব। তার একমাত্র কন্যা সাইকা তাফাননুম প্রীতির গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান করলেন তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের নিয়ে। এ উপলক্ষে যে শাড়িটি তিনি নিজের স্ত্রী ও স্বজনদের জন্য কিনেছেন, ঠিক একই শাড়ি কিনেছেন কারখানার দেড় হাজার শ্রমিকের জন্য। পুত্রসহ নিজে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে যে পাঞ্জাবি পরেছেন, ঠিক একই পাঞ্জাবি দিয়েছেন গার্মেন্টসের পুরুষ শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের। ব্যবসায়ী আবু তৈয়বের স্ত্রী উলফাতুন্নেছা পুতুলও একই শাড়ি পরে এসেছিলেন অনুষ্ঠানে।

গায়ে হলুদে উচ্ছ্বাসিত ছিল নারী শ্রমিকরা। তারাও নিজেদের সামর্থ্যমত ভালোবাসা দিয়েছেন গায়ে হলুদের কন্যাকে। কেউ পঞ্চাশ টাকা, কেউ বিশ টাকা, কেউবা একশ টাকা চাঁদা দিয়ে নিজেদের মতো করে প্রীতিকে এক সেট স্বর্ণের গহনা উপহার দিয়েছেন। সে গহনার সেট তারাই নিজ হাতে পড়িয়ে দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক চেষ্টা করেছেন তার শ্রমিকদের সম্মানিত করতে। চট্টগ্রাম ক্লাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে যেই বাবুর্চি রান্না করবেন, তাকে দিয়েই একই মেন্যুর রান্না পরিবেশিত হয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে।

এমন অন্যরকম আয়োজনের ব্যাপারে এস এম আবু তৈয়ব বলেন, আজকে আমার এ অবস্থানে আসার পেছনে গার্মেন্টস কারখানার এই খেটে খাওয়া শ্রমিকদের প্রচুর ভূমিকা রয়েছে। এরাইতো রক্ত ঘাম দিয়ে আমাকে এই অবস্থানে এনেছেন। আমার সন্তানকে একটি মর্যাদার আসন দিয়েছেন। আমি মনে করি, এরা আমার পরিবারের অংশ। তাই মেয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটি আমি তাদের সঙ্গে করেছি। এটা প্রচারের জন্য নয়।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

ট্যাগ :

close